Skip to main content

সরল বস্তুবাদের ত্রুটিগুলি লেখো।

সরল বস্তুবাদের ত্রুটিগুলি লেখো।


১) সরল বস্তুবাদ ভ্রান্ত প্রত্যক্ষের কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনা। যে বস্ত যেমন তাকে যদি ঠিক সেই ভাবেই জানি বা দেখি তাহলে দড়িতে সাপ দেখি কেন? দড়িতে সাপ নেই অথচ সাপের জ্ঞান হয়। কাজেই সরল বস্তুবাদ এই জাতীয় ভ্রান্ত প্রত্যক্ষমূলক জ্ঞানের কোন যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিতে পারেনা।

২) সরল বস্তুবাদ অমূল প্রত্যক্ষের কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনা। অমূল প্রত্যক্ষ হলো সেই প্রত্যক্ষ যেখানে কোন বস্তু নেই অথচ কোন কিছু বস্তুরূপে প্রতিভাত হয়। যেমন ঘরের মধ্যে কেউ নেই অথচ ভুল করে প্রত্যক্ষ করলাম যে, কেউ যেন ঘরের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সরল বস্তুবাদে এই জাতীয় ভ্রান্ত জ্ঞানের কোন যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

৩) সরল বস্তুবাদ স্বপ্নদৃষ্ট বস্তুর কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেনা। স্বপ্নে আমরা অনেক কিছুই প্রত্যক্ষ করি, যাদের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই। কিন্তু সরল বস্তুবাদ মেনে নিলে আমাদের স্বীকার করতে হয় যে, স্বপ্নদৃষ্ট বস্তুর মন-নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে। কিন্তু তা কী সমর্থনযোগ্য?

৪) সরল বস্তুবাদ অনুযায়ী বস্তুর সব গুনই বস্তুগত। কিন্তু এ কথা ঠিক নয়। কারণ বস্তুর রূপ, রস, গন্ধ প্রভৃতি কোন ব্যক্তির মনের উপর নির্ভরশীল। কাজেই বস্তুর সব গুণই বস্তুগত নয়।

৫) সরল বস্তুবাদ কে লৌকিক বলে আদৌ স্বীকার করা যায় কিনা সেটাও বিচার্য বিষয়। তবে সাধারণত মানুষ যদি সরল বস্তুবাদী হতো তাহলে তাঁরা দড়িতে দেখা সাপকে প্রকৃত সাপ বলে মনে করত। কিন্তু সাধারণত মানুষ কখনোই তা মনে করে না। আর এই কারণেই বলা হয় যে, সরল বস্তুবাদ সাধারণ মানুষের ধারণাকে যথাযথ রূপ দিতে পারে না।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...