Skip to main content

কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপের বিভিন্ন প্রকার গুলি আলোচনা করো

কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপের বিভিন্ন প্রকার গুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,চতুর্থ সেমিস্টার, এডুকেশন মাইনর)।

কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাপঃ কেন্দ্রীয় প্রবণতা হলো পরিসংখ্যানের একটি ধারণা, যা কোনো ডেটাসেটের কেন্দ্রবিন্দু বা গড় মানকে বোঝায়।আসলে এটি এমন একটি একক সংখ্যা যা সম্পূর্ণ ডেটাসেটের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, ডেটার বেশিরভাগ মান কোন নির্দিষ্ট বিন্দুর আশেপাশে জমা হয়েছে। আসলে এখানে কিছু গাণিতিক কৌশল প্রয়োগ করা হয়ে থাকে, যার মধ্যে অন্যতম হলো কেন্দ্রীয় প্রবণতার পরিমাণ। আর এই কেন্দ্রীয় প্রবণতার তিনটি পরিমাপ আছে। সেগুলি হল-গড়,মধ্যমমান এবং সংখ্যাগুরুমান বা ভুষিষ্টক।

        •কেন্দ্রীয় পরিমাপের শ্রেণীবিভাগ বা প্রকার •

কেন্দ্রীয় প্রবণতাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। আর সেই ভাগ গুলি হল-

               ১)গড়(Mean) ২) মধ্যম মান(Median)                                         ৩) সংখ্যাগুরু মান(Mode)

১) গড়ঃপাটিগাণিতিক ভাষায় কতগুলি সংখ্যার সমষ্টিকে মোট সংখ্যা দ্বারা ভাগ করাকে গড় বলা হয়।আর এই গড়ের ব্যবহারগুলি হল-

       • যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার নির্ভরযোগ্য জানার দরকার হয়।

    •যখন বন্টনটি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে।

    • যখন অন্যান্য পরিসংখ্যান নির্ণয় করতে চাই।

    • যখন প্রত্যেকটি স্তরের ওজন একই বলে ধরে নিই।

২) মধ্যমমানঃ মধ্যম মান পরিমাপক এমন একটি বিন্দু, যা স্কেলটিকে সমান দুটি ভাগে ভাগ করেছে অর্থাৎ মধ্যমমান স্কেলের এমন একটি বিন্দু, যার ওপর এবং নিচে সমান সংখ্যক রাশি আছে। আর তার ব্যবহার গুলি হল-

  •যখন প্রকৃত মধ্যবিন্দু জানার দরকার হয়।                         • যখন বন্টন টির কেন্দ্রীয় প্রবণতার মান খুব দ্রুত নির্ণয় করার প্রয়োজন হয়।                                                       •যখন স্কোরগুলিকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করার প্রয়োজন হয়।   • যখন বন্টনের সঠিক মধ্যমমানটির স্থান জানার প্রয়োজন হয় ঠিক তখনই মধ্যমানের ব্যবহার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

৩) সংখ্যাগুরুমান বা ভুষিষ্টকঃ রাশিমালার যে রাশিটি সবচেয়ে বেশি বার পুনরাবৃত্তি হয সেটিগ হল সেই রাশিমালার সংখ্যাগুরুমান বা ভূষিষ্টক। আর তার ব্যবহারগুলি হল-

 •যখন খুব তাড়াতাড়ি কেন্দ্রীয় প্রবণতা পরিমাপের প্রয়োজন হয়।                                                                                     • যখন বন্টনের মধ্যে কোন স্কোর সবচেয়ে বেশিবার আছে তা জানার প্রয়োজন হয়।                                                           • যখন কেন্দ্রীয় প্রবণতার একটা সাধারণ বা চলতি মান হলেই কাজ চলে যায়।                                                           • গাণিতিক গণনা ব্যাতিরেকে কেন্দ্রীয় প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা পেতে ব্যবহৃত হয়।

..............-------................-------..............------............----------




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...