Skip to main content

স্তবকের শ্রেণী ও তার গঠনের পরিচয় দাও।

স্তবকের শ্রেণী ও তার গঠনের পরিচয় দাও (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

         আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,স্তবক বা শ্লোক হলো কাব্য বা কবিতার একটি একক বা একটি নির্দিষ্ট অংশের নাম।যেটি কয়েকটি লাইন নিয়ে গঠিত একটি ছোট কবিতা বা কবিতার অংশ।যে অংশটি সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রকাশ করে। তবে-                                                                   প্রতিটি স্তবকের একটি নির্দিষ্ট ছন্দ এবং গঠন থাকে। এটি কবিতার মধ্যে একটি বিভাজন তৈরি করে এবং বিষয়বস্তুকে ভিন্ন ভিন্ন অংশে ভাগ করতে সাহায্য করে।আর সেখানে-

                    •স্তবকের প্রকারভেদ•

স্তবককে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।আর সেই ভাগ গুলি হল- 

১)স্বরবৃত্ত স্তবকঃ এই ধরনের স্তবকে স্বরধ্বনি বা অক্ষর সংখ্যার ওপর জোর দেওয়া হয়। সাধারণত, প্রতিটি লাইনে নির্দিষ্ট সংখ্যক অক্ষর থাকে। এই ধরনের স্তবক লোকগান, ছড়া এবং লোকসাহিত্যে বেশি ব্যবহৃত হয়। এতে ছন্দের সহজ ও গতিশীল প্রবাহ থাকে।

২) মাত্রাবৃত্ত স্তবকঃ এই স্তবকে স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির মাত্রা বা মানের ওপর ভিত্তি করে ছন্দ তৈরি হয়। এখানে এক-এক ধরনের অক্ষরের এক-এক ধরনের মাত্রা থাকে (যেমন, হ্রস্ব স্বরের মাত্রা ১ এবং দীর্ঘ স্বরের মাত্রা ২)। এই ধরনের স্তবক অপেক্ষাকৃত জটিল এবং ধীর লয়ে কবিতা পাঠের জন্য উপযুক্ত। এটি সাধারণত ভাবগম্ভীর বা ক্লাসিক্যাল কবিতায় ব্যবহৃত হয়।

৩) অক্ষরবৃত্ত স্তবকঃ এটি বাংলা কবিতার সবচেয়ে প্রচলিত এবং ঐতিহ্যবাহী স্তবক। এখানে প্রতি লাইনের অক্ষর সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকে, কিন্তু মাত্রা বা স্বরধ্বনির ওপর কোনো কঠোর নিয়ম থাকে না। এই স্তবকে শব্দের স্বাভাবিক উচ্চারণ এবং ছন্দের ওপর জোর দেওয়া হয়। মধুসূদন দত্তের মতো কবিরা এই ধরনের স্তবক ব্যবহার করে কবিতা লিখেছেন।

                     •স্তবকের গঠন•

একটি স্তবকের গঠন নির্ভর করে তার প্রকারভেদ এবং কবির সৃজনশীলতার ওপর। তবে, সাধারণত একটি স্তবক নিম্নলিখিত অংশ নিয়ে গঠিত হয়।আর সেই গঠনগুলি হলো-

         • লাইনঃ প্রতিটি স্তবকের সবচেয়ে মৌলিক একক হলো লাইন। একটি স্তবকে সাধারণত দুই থেকে আট বা তার বেশি লাইন থাকতে পারে।

         •ছন্দঃ এটি স্তবকের শেষ শব্দগুলির মিল বা সাদৃশ্য। ছন্দবদ্ধ স্তবকগুলিতে প্রতিটি লাইনের শেষ শব্দগুলো একে অপরের সঙ্গে মিল থাকে (যেমন: কখকখ বা কখগখ)।

       •চরণঃ এটি ছন্দের ক্ষুদ্রতম একক, যা একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা ছন্দের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়। এটি উচ্চারণের সময়কাল বা অক্ষরের সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত হয়।

      •পর্বঃ এটি কবিতার লাইনের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক অক্ষর বা মাত্রার একটি প্যাটার্ন। এটি একটি কবিতার ছন্দ এবং গতি নির্ধারণ করে।

           আসলে স্তবকের গঠন মূলত কবি কী ধরনের অনুভূতি বা ভাবনা প্রকাশ করতে চান, তার উপর নির্ভর করে। তবে এটি একটি কবিতার সামগ্রিক রূপ এবং সৌন্দর্যকে প্রভাবিত করে।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...