Skip to main content

কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতার মধ্যে দিয়ে কবির কোন ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে- আলোচনা করো।

কারার ওই লৌহ-কপাট/ ভেঙে ফেল, কররে লোপাট!'-কাজী কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতার মধ্যে দিয়ে কবির কোন ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে- আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, বাংলা-নবম শ্রেণী)

        আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতায় কবির বিদ্রোহী ও বিপ্লবাত্মক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। এই কবিতায় কবি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার এবং নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।তবে এটি কেবলমাত্র একটি গান নয়, এটি একটি শক্তির উৎস।যে সত্য, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।আর সেই সত্যে কবির-

          ইচ্ছার প্রতিফলনঃনজরুলের 'ভাঙার গান' কবিতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তি যেন এক একটি বিস্ফোরক শব্দ সমন্বয়ে রচিত।যার মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির মনে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছেন।যে বিদ্রোহে কবির প্রধান কিছু ইচ্ছার প্রতিফলন আমরা ভাঙার গান কবিতায় দেখতে পাই-

         •বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আহ্বানঃভাঙার গান কবিতায় কবি পরাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। তিনি পুরনো, জরাজীর্ণ সমাজব্যবস্থা ভেঙে ফেলার কথা বলেছেন।আর সেখানে কবির কন্ঠে আমরা শুনতে পাই-"ভেঙে ফেল সব কারাগার" বা "লাথি মার, ভাঙরে তালা!" আসলে এই  চরণগুলি কবির বিদ্রোহী ইচ্ছার স্পষ্ট প্রতিফলন। পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই-

        •নবনির্মাণ ও সৃজনশীলতাঃ ভাঙার মধ্য দিয়ে তিনি কেবল ধ্বংসের কথা বলেননি, বরং একটি নতুন সমাজ গড়ার স্বপ্নের কথাও বলেছেন। তার কাছে 'ভাঙা' মানেই হলো নতুন করে গড়ার পথ প্রশস্ত করা। এটি এক ধরনের সৃজনশীল ভাঙন, যা স্থবিরতাকে ভেঙে গতিশীলতা আনে।আর সেই গতিশীলতায় কবির-

       •সাম্যের আকাঙ্ক্ষাঃ 'ভাঙার গান' কবিতায় তিনি সাম্য ও মুক্তির কথা বলেছেন। সমাজের উঁচু-নিচু, ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভেঙে এক নতুন, সমতাপূর্ণ সমাজ গড়ার ইচ্ছা তার মধ্যে ছিল।এটি তাঁর সাম্যবাদী দর্শনেরই একটি অংশ।যে দর্শনের প্রভাবে-

       •নব তারুণ্যের জাগরণঃ নজরুল তাঁর কবিতার মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। কারণ তিনি জানতেন, তরুণদের শক্তিই পারে একটি জাতিকে পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত করতে। তাই তিনি তাদের বুকে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন।

            •পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,'ভাঙার গান' কবিতাটি নজরুলের বিপ্লবী চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তবে এটি কেবলমাত্র তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকেই নয়, বরং সব ধরনের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে মানুষের চিরন্তন প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক এবং চলমান।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...