Skip to main content

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা করো।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত 'নবান্ন' নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

        •নবান্ন নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি•

      • আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,'নবান্ন' নাটকটি ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে অবিভক্ত বাংলায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রচিত। আর সেই বিপর্যয়কে সামনে রেখে আমরা বলতে পারি যে, নাটকটির ঐতিহাসিক পটভূমি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।আর সেই দুটি ঐতিহাসিক পটভূমি হলো-

১.•পঞ্চাশের মন্বন্তর। যে মন্বন্তর ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ হিসেবে বিবেচিত। আর এটিই নাটকের প্রধান পটভূমি। আমরা জানি ১৯৪৩ সাল,বাংলা ১৩৫০ সালে ব্রিটিশ শাসনাধীন অবিভক্ত বাংলায় এক মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। যে দুর্ভিক্ষের ফলে খাদ্যশস্যের অভাব, সরকারের উদাসীনতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে খাদ্য মজুত করা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি ও মুনাফা লোটার ফলে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ অনাহার, অপুষ্টি ও রোগে মারা যায়।তবে

           •এই মন্বন্তর বাংলার গ্রামীণ কৃষক সমাজের জীবন, মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছিল। প্রধান সমাদ্দার এবং তার পরিবারসহ আমিনপুর গ্রামের চাষিদের দুর্দশা, শহরে খাদ্যের সন্ধানে যাওয়া, শহরের মানুষের উদাসীনতা এবং শোষক শ্রেণির নিষ্ঠুরতার বাস্তব চিত্র এই নাটকে অতি নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি -

২.ভারত ছাড়ো আন্দোলন ১৯৪২। আলোচ্য নাটকটি গভীর পাঠদানের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, মন্বন্তরই নবান্ন নাটকের মূল বিষয়। আর সেখানে নাটকের প্রথম দৃশ্যে আমরা দেখতে পাই, ১৯৪২ সালের 'ভারত ছাড়ো আন্দোলন'-এর প্রভাব। যে আন্দোলনের প্রভাব কৃষক সমাজের ওপর তার প্রতিক্রিয়া আভাসিত হয়েছিল।তবে বলা যায় এই আন্দোলনের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণ এবং তাতে বিপর্যয়ও দুর্ভিক্ষের আগমনকে ত্বরাম্বিত করেছিল। অপরদিকে-

৩.• দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। আমরা জানি যে,দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে বাংলার অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দেয়। যেখানে যুদ্ধের প্রয়োজনে খাদ্যশস্য মজুত করা, নৌকো ও অন্যান্য যানবাহন নষ্ট করা এবং ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধকালীন নীতি খাদ্যসংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।আর এই ভয়াবহ পটভূমিকে সামনে রেখে বিজন ভট্টাচার্য তাঁর 'নবান্ন' নাটকে বাংলার শোষিত, নিরন্ন কৃষক সমাজের চরম দুর্দশা এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইকে তুলে ধরেছেন।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...