Skip to main content

রাজা নাটকের সুদর্শনা চরিত্রটির বিকাশ বা মানসিক সংঘাত আলোচনা করো।

রাজা নাটকের সুদর্শনা চরিত্রটির বিকাশ বা মানসিক সংঘাত আলোচনা করো। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম সেমিস্টার বাংলা মেজর)।

           •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজা' নাটকের সুদর্শনা চরিত্রটি একটি প্রতীকী চরিত্র।আর সেই চরিত্রের বিকাশ এবং মানসিক সংঘাতই নাটকের মূল উপজীব্য।তবে সুদর্শনার দ্বন্দ্ব মূলত রূপের প্রতি আকর্ষণ এবং অরূপের উপলব্ধির মধ্যে। যে উপলব্ধিতে আসে মানষিক সংঘাত ও পরিণতি। সেই সংঘাতে আমরা রাজা নাটকে দেখতে পাই-

সুদর্শনার মানষিক সংঘাত ও বিকাশঃ আমরা জানি যে, সুদর্শনার মানসিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে রাজা সম্পর্কে তার ভ্রান্ত ধারণা থেকে এবং তা চূড়ান্ত রূপ পায় অরূপকে রূপে বাঁধতে চাওয়ার মধ্যে দিয়ে।আর সেখান থেকে ঘটে মানষিক   সংঘাত। আর সেই সংঘাতের পরিণতি দানে আমরা দেখতে পাই-

    •প্রথম পর্বঃ রূপ-তৃষ্ণা। সুদর্শনা রূপ ও সৌন্দর্যের প্রতি বরাবরই অত্যন্ত আসক্ত। তিনি তাঁর স্বামীকে (রাজা বা অরূপ ব্রহ্ম) তাঁর অন্ধকার ঘরে দেখতে চান না, বরং বাহ্যিক রূপে তাঁকে দেখতে চান। রাজার অনুপম অরূপ সত্তাকে সে হৃদয়ের পরিবর্তে চক্ষুর দ্বারা উপলব্ধি করতে চেয়েছিল। রাজার প্রকৃত পরিচয় না জেনে, বসন্ত পূর্ণিমার দিনে রূপের মোহে পড়ে সে নকল রাজাকে (সুবর্ণ) বরণ করে ভুল করে। এই ভুল তাকে গভীরভাবে আঘাত করে। অতঃপর-

     •দ্বিতীয় পর্বঃ এই পর্বে সুদ্রশনার মোহমুক্তি ও অহংকারের পতন হয়। যেখানে এই ভুলের ফলে রাজার রোষে সুদর্শনার প্রাসাদ ধ্বংস হয় এবং তাকে অপমানিত হয়ে রাজপুরী ছেড়ে চলে যেতে হয়।সে কাঞ্চীরাজ, কোশলরাজ সহ বিভিন্ন রাজাদের দ্বারা আক্রান্ত ও অপমানিত হয়। এই সময় সে নিজের রূপের অহংকার এবং দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করতে পারে।নিজের রূপের কারণেই সে বিপদ ও লাঞ্ছনা ডেকে আনে।এই লাঞ্ছনা তাকে দুঃখের পথযাত্রী করে তোলে এবং তার সমস্ত অহংকার ধূলিসাৎ করে দেয়। পাশাপাশি-

      •তৃতীয় পর্বঃএখানে সুদর্শনার অরূপের উপলব্ধি হয়। যেখানে সকল অহংকার ও অভিমান দগ্ধ হওয়ার পর সুদর্শনা উপলব্ধি করে যে, রাজা কোনো বিশেষ রূপের অধিকারী নন, তিনি অনুপম এবং সকল অহংকার ত্যাগ করে দুঃখের তপস্যার মাধ্যমেই তাঁকে লাভ করা যায়। এই উপলব্ধি তার মানসিক সংঘাতের চূড়ান্ত অবসান ঘটায়। অবশেষে নাটকের শেষ দৃশ্যে সুদর্শনা রাজার উদ্দেশ্য বলেন-

      "তুমি সুন্দর নও, প্রভু, সুন্দর নও, তুমি অনুপম।"

         এই উক্তির মাধ্যমে সুদর্শনার রূপের মোক্ষলাভ ঘটে। সে রাজাকে অন্তরে বরণ করে, বাইরের রূপে নয়। ঠিক এইভাবে সুদর্শনা রূপের মায়া থেকে মুক্তি পেয়ে অরূপের আনন্দলোকে উত্তরণ লাভ করে। এই উত্তরণই তার চরিত্রের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধিত হয়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 



Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...