Skip to main content

বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, এডুকেশন মাইনর,পঞ্চম সেমিস্টার)।

       আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে, খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ আব্দের কিছু আগে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত গিরিপথ দিয়ে আর্যরা ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। তবে তার আগে ভারতে ছিল আদিম আদিবাসী ও দ্রাবিড় জাতির বাস। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো যে, প্রাচীন ভারতের জাতীয় চরিত্র আর্য ও  অনার্য উভয়ের বৈশিষ্ট্য দিয়েই রচিত হয়েছিল। সেযুগে জ্ঞান সাধনায় গড়ে উঠেছিল বেদ,উপনিষদ, দর্শন ও সাহিত্য ইত্যাদি।আর এই প্রেক্ষাপটে বৈদিক যুগের শিক্ষার যে বৈশিষ্ট্য আমরা দেখতে পাই,তাহলো-

           •বৈদিক যুগের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হলো গুরুকুলভিত্তিক শিক্ষা।আর সেখানে শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল নৈতিক, আধ্যাত্মিক এবং চারিত্রিক বিকাশ। শুধু তাই নয়, সে যুগে শিক্ষা ছিল বিনামূল্যে ও গুরু-শিষ্যর সম্পর্কের উপর নির্ভরশীল। তবে সেকালে শিক্ষা গ্ৰহণে উচ্চবর্ণের শিক্ষার্থীরাই বেশি সুযোগ পেত। কিন্তু বৈদিক যুগে শিক্ষা ছিল প্রধানত আবাসিক বা আবাসিকভিত্তিক।আর সেই প্রেক্ষিতে আমারা বলতে পারি-

   প্রথমতঃ বৈদিক যুগে শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা তাদের গুরুর বাড়িতে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত।আর সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরু-শিষ্যর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তি ছিল।

   দ্বিতীয়তঃ  • শিক্ষা শুরুর জন্য শিক্ষার্থীদের উপনয়ন সংস্কার হতো এবং শিক্ষা জীবনকে ব্রহ্মচর্য ব্রত হিসেবে পালন করা হতো।

  তৃতীয়তঃ •আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গুরুর বাড়িতে থাকতে হত, আর সেই গুরু তাদের সামাজিক নৈতিক শিক্ষাও দিত।

   চতুর্থতঃ বৈদিক যুগে শিক্ষা ছিল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, যেখানে গুরুরা শিষ্যদের বিনামূল্যে জ্ঞান প্রদান করতেন।

   পঞ্চমতঃ প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা ছিল সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থী শিক্ষকের আদর্শে জ্ঞানভাণ্ডার পরিতৃপ্ত করত।

 ষষ্ঠতঃ বৈদিক শিক্ষাব্যবস্থা ছিল শিক্ষালয় বা তবোবনাশ্রম। ব্রহ্মচর্য ছিল বাধ্যতামূলক। শিক্ষা ছিল অবৈতনিক।

 সপ্তমতঃ শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মকে অধিক পরিমাণে গুরুত্ব দেওয়া হতো।

      অষ্টমতঃবৈদিক যুগে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিষয়গত উন্নতির চেয়ে আত্মিক উন্নতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।

  নবমতঃ সে যুগে শিক্ষা ব্যবস্থায় সমাজে নারীদের মর্যাদা দান যেমন দেওয়া হতো ঠিক তেমনি তাদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হতো।

 দশমতঃ বৈদিক যুগে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত শিক্ষালাভের সুযোগ ও ব্যক্তিত্বের সুষম বিকাশের ব্যবস্থা করা হতো।

       ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সাজেশন,  ভিডিও পেতে এবং টিউটোরিয়াল ক্লাস শুরু করতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 






Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...