Skip to main content

প্রায়োগিক ড ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র কী?এই নীতি শাস্ত্রের প্রকৃতি আলোচনা করো।

প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র (Applied Ethics) কাকে বলে?এই নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার,দর্শন মাইনর)।

        আমরা জানি যে, নীতিবিদ্যার যে শাখায় তাত্ত্বিক নীতি (Moral Theories) বা আদর্শগুলোকে মানুষের বাস্তব জীবনের বিশেষ বিশেষ সমস্যা বা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তাকে প্রায়োগিক বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র বলা হয়। অর্থাৎ-

          সাধারণ নীতিবিদ্যা আমাদের শেখায় যে- "সত্য বলা উচিত" বা "জীব হত্যা পাপ"। কিন্তু প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা প্রশ্ন তোলে-"একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে কি মিথ্যা বলা যাবে?" বা "আত্মরক্ষার জন্য কি হত্যা গ্রহণযোগ্য?" অর্থাৎ, বাস্তব জীবনে উদ্ভূত নৈতিক সংকট (Moral Dilemma) নিরসনে এই নীতিশাস্ত্র কাজ করে। পিটার সিঙ্গার এর মতে-

     "ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র হলো দর্শনের সেই শাখা,যা নৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করে।"

প্রায়োগিক নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতি (Nature of Applied Ethics)•

       ক) প্রয়োগমুখিতাঃ প্রায়োগিক নীতি বিদ্যার প্রধান প্রকৃতি হলো তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সমস্যার সমাধান করা। কান্ট বা মিলের মতো দার্শনিকদের তত্ত্বগুলো বাস্তব জীবনে যেমন-চিকিৎসা বা ব্যবসায় কীভাবে খাটবে, তা বিচার করাই এর কাজ। আবার 

     আ) সমস্যামুখীঃ প্রায়োগিক নীতিবিদ্যা মূলত সুনির্দিষ্ট 'নৈতিক সংকট’ নিয়ে কাজ করে থাকে। আর সেখানে উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে  "একজন মুমূর্ষু রোগীকে কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে হত্যা করা কি নৈতিক?" আসলে এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হলো প্রায়োগিক নীতিবিদ্যার প্রকৃতি। আবার এর পাশাপাশি-

       গ) আন্তঃবিভাগীয় ও আদর্শনিষ্ঠঃ প্রায়োগিক নীতিশাস্ত্র কেবল দর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃতি হলো চিকিৎসাবিজ্ঞান, আইন, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং পরিবেশববিদ্যার সাথে মিলেমিশে কাজ করা। সেই সাথে এই প্রায়োগিক নীতিবিদ্য কেবল ঘটনার বর্ণনা দেয় না, বরং ঘটনাটি 'উচিত' না 'অনুচিত' তা নির্ধারণ করে। অর্থাৎ, এটি বর্ণনামূলক নয়, বরং নির্দেশমূলক। আবার সেইসাথে-

 ঙ) আপেক্ষিকতা ও প্রাসঙ্গিকতাঃ প্রায়োগিক নীতিবিদ্যর  প্রকৃতি কিছুটা পরিস্থিতি-নির্ভর।আর সে কারণে সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম খাটে না। পরিস্থিতির ভিন্নতায় নৈতিক সিদ্ধান্তও ভিন্ন হতে পারে, আর এটাই স্বাভাবিক।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...