Skip to main content

হারুন সালেমের মাসি গল্পটি এক সাধারণ নারীর অদম্য প্রতিবাদের কাহিনী -আলোচনা করো।

মহাশ্বেতা দেবীর 'হারুন সালেমের মাসি' গল্পের এক সাধারণ নারীর প্রতিবাদের কাহিনী-(বিষয়বস্তু) আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, দ্বাদশ শ্রেণী, চতুর্থ সেমিস্টার)।

           আমরা জানি যে,মহাশ্বেতা দেবীর 'হারুন সালেমের মাসি' গল্পটি সমাজ-সচেতনতা, মানবিকতা, শ্রেণী-সংগ্রাম এবং শোষণের বিরুদ্ধে এক সাধারণ নারীর অদম্য প্রতিবাদের কাহিনি।আর সেই কাহিনীতে তুলে ধরা হয়েছে-

     • শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের জীবনচিত্র।যে জীবনচিত্রে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো গৌরবি মাসি।যে একজন জন্ম-খোঁড়া, বিধবা, সমাজের একেবারে প্রান্তিক ও নিঃস্ব নারী। এই গৌরবি মাসির জীবন যাপন অত্যন্ত কষ্টের।তাই তিনি শাক, পাতা, গুগলি তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর এরই পাশাপাশি গল্পটিতে আছে- 

          শ্রেণী বৈষম্য সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায়তা ও দারিদ্র্যের এক নির্মম চিত্র।আর সেই চিত্রে আমরা দেখি-গৌরবি মাসি এবং হারার মায়ের মতো মানুষরা কীভাবে সামান্য সুবিধার জন্য সমাজের উচ্চশ্রেণীর মানুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।তবুও গল্পটিতে মানবিক সম্পর্কের জয় হয় এবং ধর্মীয় ভেদাভেদহীনতা গৌণ হয়ে ওঠে। যেখানে-

              গৌরবি মাসি হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেশী মুসলমান শিশু হারা (হারুন সালেম) অসুস্থ হলে তার সেবা করেন। শুধু তাই নয় তার মায়ের মৃত্যুর পর মাসি তাকে নিজের সন্তানের মতোই আশ্রয় দেন।আসলে এটি মানবিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।যেখানে ধর্মীয় ভেদাভেদ সম্পূর্ণ গৌণ হয়ে যায়।আর সেখানে'মাসি' নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আশ্রয় এবং নির্ভরতার প্রতীক। যেখানে-

     ‌‌       গল্পের শেষে গৌরবি মাসির প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে এর চূড়ান্ত সার্থকতা প্রকাশিত হয়।আর সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালী ও অত্যাচারী যশি যখন হারুন সালেমকে তার মৃত মায়ের সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে কেড়ে নিতে চায়, তখন গৌরবি মাসি রুখে দাঁড়ান।শুধু তাই নয়-

     গৌরবি মাসি সমাজের চোখে একজন 'অসহায়' নারী হয়েও তিনি যশির মতো ক্ষমতাশালীর বিরুদ্ধে নিজের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক দায়িত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেন। আসলে তাঁর এই প্রতিবাদ কেবল হারার জন্য নয়, বরং সমাজে শোষিত সকল মানুষের জন্য এক সাহসী কণ্ঠস্বর। আসলে -

       আলোচ্য গল্পে যশি চরিত্রের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান লোভ, দুর্নীতি এবং সুযোগসন্ধানী মানসিকতা ফুটে ওঠে।সে সম্পত্তির লোভে এক অনাথ শিশুর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়। গল্পেএই দিকটি সমাজের অন্ধকারময় দিক।সেখানে 'হারুন সালেমের মাসি' গল্পটি হলো দারিদ্র্য, শোষণ ও সামাজিক অবিচারের প্রেক্ষাপটে একজন প্রান্তিক নারীর অসামান্য মানবিকতা, মাতৃত্বের স্নেহ এবং অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মহৎ কাহিনি।

      ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...