Skip to main content

বচনের বিরোধীতা কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার বচনের বিরোধীতা উদাহরণসহ আলোচনা করো।

বচনের বিরোধীতা কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার বচনের বিরোধীতা উদাহরণসহ আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়/কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়,তৃতীয় সেমিস্টার দর্শন মাইনর সিলেবাস)

বচনের বিরোধিতাঃ যদি দুটি নিরপেক্ষ বচনের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় এক থাকে, কিন্তু তাদের মধ্যে কেবল গুণের, অথবা কেবল পরিমাণের, অথবা গুণ ও পরিমাণ উভয়েরই পার্থক্য থাকে, তবে সেই বচন দুটির পারস্পরিক সম্বন্ধকে 'বচনের বিরোধিতা' বলে।

বিরোধিতার শর্তাবলী-

১)দুটি বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক হতে হবে।

২)বচন দুটির মধ্যে গুণ অথবা পরিমাণ অথবা উভয়ের পার্থক্য থাকতে হবে।

           •বচনের বিরোধিতার প্রকারভেদ•

প্রথাগত যুক্তিবিজ্ঞান অনুযায়ী বচনের বিরোধিতা চার প্রকারঃ

১) বিপরীত বিরোধিতাঃ যখন দুটি সামান্য বচনের (A এবং E) মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক থাকা সত্ত্বেও কেবল গুণের পার্থক্য থাকে, তখন তাদের সম্বন্ধকে বিপরীত বিরোধিতা বলে। উদাহরণ-

  A- সকল মানুষ হয় মরণশীল।

   E-কোনো মানুষ নয় মরণশীল।

২) অধীন-বিপরীত বিরোধিতাঃ যখন দুটি বিশেষ বচনের (I এবং O) মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক থাকা সত্ত্বেও কেবল গুণের পার্থক্য থাকে, তখন তাদের সম্বন্ধকে অধীন-বিপরীত বিরোধিতা বলে।উদাহরণ-

I-কোনো কোনো ছাত্র হয় মেধাবী।

O-কোনো কোনো ছাত্র নয় মেধাবী।

৩)অসম বিরোধিতাঃ যখন দুটি বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক থাকে এবং তাদের গুণও এক থাকে, কিন্তু কেবল পরিমাণের (সামান্য ও বিশেষ) পার্থক্য থাকে, তখন তাকে অসম বিরোধিতা বলে। এটি A-I এবং E-O বচনের মধ্যে হয়।উদাহরণ-

 A- সকল ফুল হয় সুন্দর।

 I-কোনো কোনো ফুল হয় সুন্দর।

৪) বিরুদ্ধ বিরোধিতাঃ যখন দুটি বচনের মধ্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় এক থাকা সত্ত্বেও গুণ ও পরিমাণ উভয় দিক থেকেই পার্থক্য থাকে, তখন তাকে বিরুদ্ধ বিরোধিতা বলে। এটি A-O এবং E-I বচনের মধ্যে হয়। যুক্তিবিজ্ঞানে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী বিরোধিতা।উদাহরণ-

A-সকল মানুষ হয় সৎ।

O-কোনো কোনো মানুষ নয় সৎ।

বচনের বিরোধিতার বর্গক্ষেত্র (Square of Opposition)

সহজে মনে রাখার জন্য একটি ছক বা বর্গক্ষেত্রের সাহায্য আলোচনা করা যেতে পারে-

•A+E এর মধ্যে সম্ভন্ধ হলো বিপরীত বিরোধিতার সম্ভন্ধ।

 •I +O এর মধ্যে সম্ভন্ধ হলো অধীন-বিপরীত বিরোধিতা সম্ভন্ধ।

 •A+ I- এবং E +O এর মধ্যে সম্ভন্ধ হলো অসম বিরোধিতা সম্ভন্ধ।

 •A +O এবং E+ I এর মধ্যে সম্ভন্ধ হলো বিরুদ্ধ বিরোধিতা সম্ভন্ধ।

       বিখ্যাত গ্ৰীক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে বিরুদ্ধ বিরোধিতাই হলো প্রকৃত বিরোধিতা।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

মনসামঙ্গল কাব্য।। মনসামঙ্গল কাব্য অবলম্বনে চাঁদ সওদাগরের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

মনসামঙ্গল কাব্য।। মনসামঙ্গল কাব্য অবলম্বনে চাঁদ সওদাগরের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর ও মাইনর/কোর।       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংযোজন হলো মনসামঙ্গল কাব্য।আর এই কাব্যের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র চাঁদ সওদাগর। মধ্যযুগীয় ভক্তিপ্রধান ও দেব-মহিমা প্রচারকারী কাব্যের ধারায় চাঁদ সওদাগর হলেন এক ব্যতিক্রমী বিদ্রোহী চরিত্র। তিনি দেবীর অনুগ্রহপ্রার্থী কোনো দুর্বল ভক্ত নন, বরং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, জেদি, কঠোর ব্যক্তিত্বের এক মানবরত্ন, যিনি ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের সামনেও নিজ সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। আসলে চাঁদ সওদাগর হলেন-         শিবভক্ত ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বণিক । চাঁদ সওদাগর ছিলেন চম্পক নগরের এক ধনী ও প্রভাবশালী বণিক। তিনি দেবদেবীর মধ্যে কেবল মহাদেব শিবের একনিষ্ঠ উপাসক ছিলেন। সমকালীন সমাজে যখন লৌকিক দেবী মনসার পূজা বিস্তার লাভ করছে, তখন চাঁদ সওদাগর নিজের আত্মসম্মান ও শিবভক্তির প্রতি অবিচল থেকে মনসাকে "কাণো হরিঝি" (একচোখে কানা...