Skip to main content

সার্ক কী? সার্কের উদ্দেশ্য ও মৌলিক নীতি গুলি আলোচনা করো ।

সার্ক কী? সার্কের উদ্দেশ্য ও মৌলিক নীতি গুলি আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান)।

       সার্ক (SAARC) বা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা হলো দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের একটি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এর পূর্ণরূপ হলো South Asian Association for Regional Cooperation।যে সংগঠনটি১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় এক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।বর্তমান সার্কের সদস্য দেশগুলো হলো-বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান এই আটটি দেশ।আর সার্কের সচিবালয় নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।

               •সার্কের উদ্দেশ্যসমূহ•

সার্কের সনদে এইসকল সংগঠনের দেশগুলির সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সেদিন বেশ কিছু লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়। আর সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যসমূহ হলো-

     •জনকল্যাণঃ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

     •স্বনির্ভরতাঃ সার্কের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্মিলিত আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করা।

     •পারস্পরিক বিশ্বাসঃ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলো নিরসনে পারস্পরিক বিশ্বাস, বোঝাপড়া এবং সহমর্মিতা সৃষ্টি করা।

    •সহযোগিতা বৃদ্ধিঃ অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

     •আন্তর্জাতিক সমর্থনঃ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া।

                  সার্কের মৌলিক নীতিসমূহ•

   •সার্কের কার্যক্রম প্রধানত তিনটি মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।আর সেই মৌলিক নীতিগুলি হলো-

     •সার্বভৌম সমতাঃ সার্কের সদস্য দেশগুলো একে অপরের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

      •অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করাঃ কোনো দেশ অন্য কোনো সদস্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

     •পারস্পরিক সুবিধাঃ সব ধরনের সহযোগিতা হতে হবে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে। শুধু তাই নয়, সেই সহযোগিতা হবে সবার জন্য মঙ্গলজনক।

         সবশেষে বিশেষ করে উল্লেখ করা যেতে পারে যে,সার্কের সনদে স্পষ্ট বলা আছে- দ্বিপাক্ষিক এবং বির্তকিত রাজনৈতিক বিষয়গুলো সার্কের আলোচনায় স্থান পাবে না। তবে এখানে সকল সিদ্ধান্ত নিতে হবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সর্বসম্মতিক্রমে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...