Skip to main content

জোড়াসাঁকোর নাট্যশালা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? কমিটি অফ ফাইট কারা ছিলেন? এই থিয়েটারে যে নাটক অভিনীত হয়েছিল সেগুলির অভিনয় বৃত্তান্ত সম্পর্কে লেখ।

জোড়াসাঁকোর নাট্যশালা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? কমিটি অফ ফাইট কারা ছিলেন? এই থিয়েটারে যে নাটক অভিনীত হয়েছিল সেগুলির অভিনয় বৃত্তান্ত সম্পর্কে লেখ। (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়,পঞ্চম সেমিস্টার, বাংলা,মেজর সিলেবাস)

          •আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির নাট্যচর্চার ইতিহাস বাংলা থিয়েটারের এক অনন্য অধ্যায়। আসলে জোড়াসাঁকোর ‘পারিবাহিক নাট্যশালা’ বা জোড়াসাঁকো থিয়েটার প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৫ সালে। এটি মূলত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির বৈঠকখানায় স্থাপিত হয়েছিল।আর সেদিন সেখানে-

        জোড়াসাঁকো নাট্যশালার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পাঁচজন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা ইতিহাসে ‘কমিটি অফ ফাইভ’ নামে পরিচিত। এই কমিটির সদস্যরা ছিলেন-•১. গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুর•২. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর•৩. সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়•৪. কৃষ্ণবিহারী সেন•৫. অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরী।

(ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.)

       এই কমিটি মূলত নাটকের মান নির্ধারণ এবং অভিনয়ের কলাকৌশল তদারকি করত।আর তাদের অভিনীত নাটক ও অভিনয় বৃত্তান্ত হলো -

       জোড়াসাঁকো নাট্যশালার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক দিয়ে। এখানে মঞ্চস্থ প্রধান নাটকগুলোর বিবরণ নিম্ন সূত্রাকারে আলোচনা করা হলো-

       •একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬৫): ১৮৬৫ সালের ১৮ জুলাই এই প্রহসনটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়। এটি ছিল জোড়াসাঁকো থিয়েটারের প্রথম প্রযোজনা। নবশিক্ষিত যুবকদের মদ্যপান ও নৈতিক স্খলনকে ব্যঙ্গ করে লেখা এই নাটকে ঠাকুরবাড়ির সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অভিনয় করেছিলেন।

       •নবনাটক (১৮৬৬): রামনারায়ণ তর্করত্ন রচিত এই সামাজিক নাটকটি জোড়াসাঁকো মঞ্চের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাফল্য। বহুবিবাহের কুফল নিয়ে লেখা এই নাটকটি ১৮৬৬ সালের জানুয়ারি মাসে মঞ্চস্থ হয়।

       • বিশেষত্বঃ এই নাটকের জন্য মঞ্চসজ্জায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রথমবারের মতো থিয়েটারে কৃত্রিম বাগান এবং স্বচ্ছ ঝরনা তৈরি করা হয়েছিল।

       •অভিনয়ঃনাটকে অক্ষয় চৌধুরী (গবেশ বাবু) এবং সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় চমৎকার অভিনয় করেন। গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ছিলেন।

      •মানময়ী (১৮৭৭)ঃএটি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গীতিনাট্য। এই নাটকে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ নিজে যেমন অংশগ্রহণ করতেন, তেমনি বাড়ির মহিলারাও পরে যুক্ত হতে শুরু করেন।

        পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,জোড়াসাঁকোর এই নাট্যশালাই পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্য আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। এখানকার সাজসজ্জা এবং আলোকসম্পাত তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত আধুনিক ছিল।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...