Skip to main content

টুনটুনি আর রাজার কথা' গল্পে ক্ষুদ্রের জয় ও দম্ভের পরাজয় হয়েছে- আলোচনা করো ।

'টুনটুনি আর রাজার কথা' গল্পে ক্ষুদ্রের জয় ও দম্ভের পরাজয় হয়েছে- আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মাইনর)।

        উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর 'টুনটুনির বই' বাংলা শিশুসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এই গ্রন্থের অন্যতম জনপ্রিয় গল্প হলো 'টুনটুনি আর রাজার কথা'।এই গল্পে একদিকে যেমন শিশুতোষ বিনোদন আছে, অন্যদিকে লুকিয়ে আছে ক্ষমতা ও দম্ভের বিরুদ্ধে এক সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ। আর সেখানে আমরা দেখি--

             গল্পের শুরুতে আমরা দেখি এক প্রতাপশালী রাজা, যার হাতে অগাধ ক্ষমতা। অন্যদিকে টুনটুনি এক অতি ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ পাখি। দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় যখন টুনটুনি তার বাসায় পাওয়া একটি টাকা রাজভাণ্ডারের টাকার চেয়েও বেশি দামী বলে দাবি করে। এটি ছিল রাজার অহংকারে প্রথম আঘাত। রাজা তাঁর লোক পাঠিয়ে টাকাটি কেড়ে নেন, কিন্তু টুনটুনি ভয় না পেয়ে রাজাকে ব্যঙ্গ করে বলতে থাকে-

"রাজা বড়ই গরিব, আমার টাকা নিয়ে তার ভাণ্ডার ভরে।"

         রাজা বারংবার টুনটুনিকে শায়েস্তা করতে চেয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই তিনি পরাস্ত হয়েছেন। তবুও রাজার অর্থের দম্ভ বেশ ভারী। আসলে রাজা টাকা কেড়ে নিয়ে এবং পরে তা ফিরিয়ে দিয়ে ভেবেছিলেন টুনটুনিকে দমানো যাবে। কিন্তু টুনটুনি উল্টো রাজাকে 'ভয় পেয়েছে' বলে বিদ্রুপ করে।আর সেখানে আমারা টুনটুনিকে বলতে শুনি - 

"রাজার ঘরে যে ধন আছে, টুনটুনির ঘরেও সে ধন আছে"

      রাজার শক্তির আস্ফালন। টুনটুনিকে খাওয়ার জন্য রাজা যখন মুখে পুরলেন, তখনও টুনটুনি তাঁর পেটের ভেতর গিয়েও রাজার অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালো। শুধু তাই নয়, রাজা চূড়ান্ত লাঞ্ছনার শিকার হন। তাই আমারা গল্পে দেখতে পাই-রাজা নিজের নাক কেটে ফেলেন টুনটুনিকে মারতে গিয়ে। একজন রাজার পক্ষে এর চেয়ে বড় পরাজয় আর হতে পারে না। তবে গল্পের অন্তরালে ব্যঙ্গাত্মক সুর আমরা শুনতে পাই-আসলে-

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

        এই গল্পের সবচেয়ে বড় সার্থকতা এর স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিটির মধ্যে।আর সেখানে রাজা ক্ষমতার অন্ধ দম্ভ লক্ষ্যণীয়।রাজা এতটাই অহংকারী যে, তিনি একটি তুচ্ছ পাখির সামান্য বিদ্রুপ সহ্য করতে পারেন না।তাই তিনি নিজের রাজকীয় মর্যাদা ভুলে গিয়ে একটি সাধারণ পাখির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হন। লেখক এখানে দেখিয়েছেন যে, যারা কেবল ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ থাকে, তাদের বিচারবুদ্ধি লোপ পায়। কিন্তু বাস্তবে-

       ছোট্ট টুনটুনি পাখি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। তাই টুনটুনি এখানে কেবল একটি পাখি নয়, সে যেন সাধারণ শোষিত মানুষের প্রতীক।তার কোনো সেনাবাহিনী নেই, কেবল সাহস আর বাকচাতুর্য দিয়ে সে রাজশক্তিকে অপদস্থ করে।আর সেই পথেই-রাজার হাস্যকর পরাজয় ঘটে।রাজা যখন নিজের নাক কেটে ফেলেন, তখন তা ক্ষমতার চরম মূর্খতাকেই ব্যঙ্গ করে। লেখক পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দেন যে, বুদ্ধিহীন অহংকার মানুষকে পশুর চেয়েও অধম ও হাস্যকর করে তোলে।

        পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,'টুনটুনি আর রাজার কথা' গল্পটির সার্থকতা এখানেই যে, এটি শিশুদের নির্মল আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি বড়দের সমাজ ও রাজনীতির এক গভীর সত্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ক্ষুদ্রের সাহসের কাছে বৃহৎ ক্ষমতার এই পরাজয় চিরকালই পাঠকদের অনুপ্রাণিত করে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সাজেশন ব্যাখ্যা এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDORBON YOUTUBE CHANNEL 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

ষষ্ঠ সেমিস্টার বাংলা অনার্স (DSE3/4) সাজেশন ২০২৫

       West Bengal State University                                       BA Honours, 6th Semester                                         SUGGESTION 2025                                                      BNGA,DSE05T( DSE3/4)  • বাংলা কথাসাহিত্যঃ মন্বন্তর, দাঙ্গা ও দেশভাগ• একক-১(২০২১) ক) দেশভাগের ইতিহাসের বাস্তব রূপ বাংলা সাহিত্যে  কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি উপন্যাস অনুসরণে তার পরিচয় দাও। • ১৯৪৬ দাঙ্গা রাজনীতির ট্রাজেডি বাংলা ছোটগল্পের পরিসরে কিভাবে এসেছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রচনা অবলম্বনে আলোচনা করো। (২০২২) পঞ্চাশের মন্বন্তরের বাস্তব বর্ণনা করে বাংলা উপন্যাসে তার কতটা প্রতিফলন ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করো। •দেশভাগের ক...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...