Skip to main content

চীনের গণ প্রকিউরেট ব্যবস্থার গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো ।

চীনের গণ প্রকিউরেট ব্যবস্থার গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস 

১. গণ প্রকিউরেটরেটের গঠন (Structure)

      চীনের সংবিধান অনুযায়ী, প্রকিউরেটরেট হলো রাষ্ট্রের আইনগত তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা। এর গঠন অনেকটা পিরামিডের মতো, যা নিচে থেকে উপরে বিন্যস্ত:

     সর্বোচ্চ গণ প্রকিউরেটরেট (Supreme People's Procuratorate): এটি চীনের সর্বোচ্চ প্রকিউরেট সংস্থা। এটি সরাসরি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস (NPC) এবং তার স্থায়ী কমিটির কাছে দায়বদ্ধ থাকে।স্থানীয় গণ প্রকিউরেটরেট প্রশাসনিক স্তর অনুযায়ী এগুলি তিন ভাগে বিভক্ত—

   ১. প্রদেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের প্রকিউরেটরেট।

   ২. জেলা ও শহর স্তরের প্রকিউরেটরেট।

   ৩. প্রাথমিক বা তৃণমূল স্তরের প্রকিউরেটরেট।

        বিশেষ গণ প্রকিউরেটরেটঃএর মধ্যে মূলত সামরিক প্রকিউরেটরেট এবং রেলওয়ে পরিবহণ প্রকিউরেটরেট অন্তর্ভুক্ত।

২. গণ প্রকিউরেটরেটের কার্যাবলী (Functions)

চীনের প্রকিউরেটরেট ব্যবস্থার কাজ বহুমুখী। এদের প্রধান দায়িত্ব হলো সংবিধানে বর্ণিত আইনগুলির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

ক) আইনগত তত্ত্বাবধান (Legal Supervision)

প্রকিউরেটরেটের প্রধান কাজ হলো বিচার বিভাগীয় কাজ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ আইনের শাসন মেনে হচ্ছে কি না, তা দেখা। কোনো আদালত বা সরকারি সংস্থা আইন লঙ্ঘন করলে প্রকিউরেটরেট সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

খ) রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও দুর্নীতির তদন্ত

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন বড় ধরনের অপরাধ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা সরকারি আধিকারিকদের দুর্নীতির (যেমন: ঘুষ নেওয়া বা পদের অপব্যবহার) বিরুদ্ধে তদন্ত করার ক্ষমতা এদের রয়েছে।

গ) অপরাধীদের বিচার ও প্রসিকিউশন

পুলিশ কোনো অপরাধের তদন্ত শেষ করার পর সেই মামলাটি প্রকিউরেটরেটের কাছে জমা দেয়। প্রকিউরেটরেট সিদ্ধান্ত নেয় যে মামলাটি আদালতে পাঠানোর মতো যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আছে কি না। উপযুক্ত মনে হলে তারা আদালতে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা (Prosecution) করে।

ঘ) আদালতের রায়ের ওপর নজরদারি

আদালত যদি কোনো ভুল রায় দেয় বা বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকে, তবে প্রকিউরেটরেট সেই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল বা প্রতিবাদ (Protest) জানাতে পারে।

ঙ) কারাগার ও আটক কেন্দ্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ

বন্দীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না এবং কারাগারের ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী চলছে কি না, তা তদারকি করা প্রকিউরেটরেটের অন্যতম কাজ।

৩. গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য

       দ্বৈত নেতৃত্ব: স্থানীয় প্রকিউরেটরেটগুলি একদিকে যেমন সমপর্যায়ের স্থানীয় গণ কংগ্রেসের কাছে দায়বদ্ধ, তেমনি উচ্চতর প্রকিউরেটরেটের নির্দেশেও কাজ করে।

       কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকা: অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো প্রকিউরেটরেটও চিনা কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) সাধারণ নীতি ও নির্দেশিকা মেনে চলতে বাধ্য।

       স্বাধীনতা: কাগজে-কলমে এরা স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারী হলেও বাস্তবে এদের ওপর প্রশাসনিক ও দলীয় প্রভাব অনস্বীকার্য

         চীনের বিচারব্যবস্থায় 'গণ প্রকিউরেটরেট' একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। এটি কেবল অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করে না, বরং পুরো প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থায় আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। যদিও পশ্চিমা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো এটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র নয়, তবুও চীনের সমাজতান্ত্রিক আইনি কাঠামোয় এর গুরুত্ব অপরিসীম।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...