Skip to main content

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) পরীক্ষায় উদ্ধৃতি বা লাইন তুলে প্রশ্ন আসা খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে ৫ নম্বরের টীকা বা ১০ নম্বরের ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে এই ধরনের প্রশ্ন বেশি দেখা যায়।

২০২৫-২৬ সালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু সম্ভাব্য উদ্ধৃতি ও তার প্রেক্ষাপট নিচে দেওয়া হলো:

১. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাজকাহিনী' থেকে

এই বইটির ভাষা অত্যন্ত আলঙ্কারিক, তাই এখান থেকে উদ্ধৃতি আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

 * "রাজপুতানার বালুকাময় মরুপ্রান্তর আজ রক্তে রাঙা হইয়া উঠিল।"

   * প্রশ্ন: কোন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই কথা বলা হয়েছে? লেখকের বর্ণনাভঙ্গির বিশেষত্ব আলোচনা করো।

 * "সূর্যকুণ্ডের নীল জল তোলপাড় করিয়া শিলাদিত্য আবির্ভূত হইলেন।"

   * প্রশ্ন: শিলাদিত্যের জন্ম-রহস্যটি সংক্ষেপে লেখো।

 * "চিতোরের সিংহাসন শূন্য রহিবে না।"

   * প্রশ্ন: কোন পরিস্থিতিতে এই কথা বলা হয়েছে? বাপ্পাদিত্যের উত্থান কাহিনীটি আলোচনা করো।

২. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর 'টুনটুনির বই' থেকে

এখানকার উদ্ধৃতিগুলো সাধারণত সহজ কিন্তু ব্যঙ্গাত্মক হয়।

 * "রাজার ঘরে যে ধন আছে, টুনটুনির ঘরেও সে ধন আছে।"

   * প্রশ্ন: উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। টুনটুনির এই সাহসের কারণ কী?

 * "আয় দেখি আমার গর্তে, আমি নরহরি দাস, পঁচিশ বাঘে এক গ্রাস!"

   * প্রশ্ন: বক্তা কে? তার এই চাতুর্যের ফলে কী ঘটেছিল?

 * "রাজা বড়ই ডরপোক, ঘরে বসে মার খায়!"

   * প্রশ্ন: রাজার পরাজয়ের কাহিনীটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

৩. লীলা মজুমদারের 'পদিপিসির বর্মীবাক্স' থেকে

এখান থেকে ধাঁধা বা চরিত্রের সংলাপ তুলে প্রশ্ন আসে।

 * "আঠারো আঙুল নিচে, যে আছে আমার পিছে..."

   * প্রশ্ন: এটি কিসের ধাঁধা? এই ধাঁধাটি কীভাবে উপন্যাসের রহস্য সমাধানে সাহায্য করেছিল?

 * "পদিপিসি কি সত্যিই ভূত হয়ে ফিরে এসেছেন?"

   * প্রশ্ন: উপন্যাসে অলৌকিকতার যে আবহ তৈরি হয়েছে তা আলোচনা করো।

 * "বাক্স তো নয়, যেন যকের ধন!"

   * প্রশ্ন: বর্মীবাক্সের ইতিহাস এবং সেটি পাওয়ার জন্য বাড়ির লোকেদের উন্মাদনা বর্ণনা করো।

৪. সুকুমার রায়ের 'হযবরল' বা 'আবোল তাবোল' থেকে

 * "ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল।"

   * প্রশ্ন: সুকুমার রায়ের 'ননসেন্স' বা খেয়ালরসের পরিচয় দাও।

 * "সাত দুগুণে কত হয়?" "চোদ্দ।" "হয়নি, একুশ।"

   * প্রশ্ন: 'হযবরল' গল্পে যুক্তিবিরোধী যে জগৎ তৈরি হয়েছে তার উদাহরণ দাও।

উদ্ধৃতিমূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কৌশল:

১. উৎস নির্দেশ: উত্তরের শুরুতেই পরিষ্কার করে লিখবেন— "উদ্ধৃত অংশটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক [লেখকের নাম]-এর [গল্প বা গ্রন্থের নাম] থেকে নেওয়া হয়েছে।"

২. প্রসঙ্গ: কোন পরিস্থিতিতে বা কোন চরিত্র এই কথাটি বলেছে, তা ২-৩ লাইনে লিখুন।

৩. বিশ্লেষণ: উদ্ধৃতিটির মূল অর্থ বা এর ফলে কাহিনীতে কী পরিবর্তন এল, তা পয়েন্ট আকারে লিখুন।

আপনার পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আমি কি 'নরহরি দাস' বা 'বর্মীবাক্সের ধাঁধা'র ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ উত্তরের নমুনা তৈরি করে দেব?


পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মাইনর পরীক্ষায় 'শিশু ও কিশোর সাহিত্য' মডিউল থেকে ৫ নম্বরের টীকা সাধারণত লেখক, নির্দিষ্ট কোনো জনপ্রিয় চরিত্র, গ্রন্থের বিশেষত্ব বা ছোট কোনো কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে আসে।

২০২৫-২৬ সালের জন্য সম্ভাব্য টীকাগুলোকে আমি চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করে দিচ্ছি:

১. চরিত্র ভিত্তিক টীকা (Character-based Notes)

এই বিভাগে গল্পের কোনো একটি জনপ্রিয় চরিত্র নিয়ে লিখতে বলা হয়।

 * নরহরি দাস: (উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী) - বুদ্ধিমান ছাগলছানার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

 * গোহ: (রাজকাহিনী) - ভিলদের মধ্যে বড় হওয়া রাজপুত বীরের প্রাথমিক জীবন।

 * খোকা: (পদিপিসির বর্মীবাক্স) - অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় কিশোর মনের পরিচয়।

 * পদিপিসি: (পদিপিসির বর্মীবাক্স) - তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ভৌতিক রহস্যময়তা।

 * হিজিবিজবিজ বা ন্যাড়া: (সুকুমার রায়) - 'হযবরল' থেকে এদের অদ্ভুত স্বভাব।

২. গ্রন্থ বা কাহিনী ভিত্তিক টীকা (Story/Book-based Notes)

গল্পের কোনো নির্দিষ্ট অংশ বা পুরো বইটির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন হয়।

 * সূর্যকুণ্ডের মাহাত্ম্য: (রাজকাহিনী) - শিলাদিত্যের জন্মের অলৌকিক পটভূমি।

 * টুনটুনির বই-এর নামকরণ: কেন এই নাম এবং এর সার্থকতা।

 * বর্মীবাক্সের ধাঁধা: পদিপিসির দেওয়া সেই বিশেষ ছড়াটির তাৎপর্য।

 * রাজকাহিনীতে ইতিহাসের স্থান: ইতিহাস ও কল্পনার মিশ্রণ কীভাবে ঘটেছে।

 * পাগলা দাশুর খ্যাপামি: দাশুর স্কুলের কোনো মজার ঘটনা।

৩. লিখনশৈলী ও আঙ্গিক ভিত্তিক টীকা (Style & Genre)

লেখকের লেখার বিশেষ ঢঙ বা সাহিত্যের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন থাকে।

 * ননসেন্স রাইম (Nonsense Rhyme): সুকুমার রায়ের কবিতার আজগুবি রসের বৈশিষ্ট্য।

 * উপেন্দ্রকিশোরের চিত্রশৈলী: 'টুনটুনির বই'-তে ব্যবহৃত রেখাচিত্র বা অলঙ্করণের গুরুত্ব।

 * লীলা মজুমদারের হাস্যরস: তাঁর লেখায় ঘরোয়া মজার পরিবেশ।

 * রাজকাহিনীর বর্ণনাভঙ্গি: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর কীভাবে গদ্য দিয়ে ছবি এঁকেছেন।

৪. লোককথা ও রূপকথা (Folk Elements)

 * ঠাকুরমার ঝুলি: দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সংগৃহীত রূপকথার ভাষা ও সমাজচিত্র।

 * টুনটুনির বই-এ পশুপাখি: পশুপাখিদের মানুষের মতো আচরণ করার ভঙ্গি।

পরীক্ষায় ৫ নম্বরের টীকা লেখার কাঠামো (Structure):

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে টীকাগুলো এভাবে লিখুন:

 * সূচনা: শুরুতেই লেখক ও মূল গ্রন্থের নাম উল্লেখ করুন।

 * মূল বিষয়: যে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছে, তার মূল তথ্য ৩-৪টি বাক্যে দিন।

 * উদ্ধৃতি: গল্পের কোনো জনপ্রিয় সংলাপ বা ছড়া (যেমন— "রাজা বড়ই ডরপোক" বা "বর্মীবাক্সের ধাঁধা") অবশ্যই ব্যবহার করুন।

 * উপসংহার: ২ লাইনে বিষয়টির সাহিত্যিক মূল্য বা শিশুদের কাছে এর আবেদন লিখে শেষ করুন।

আমি কি এর মধ্যে থেকে যেকোনো ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ টীকার আদর্শ

 উত্তর আপনার জন্য তৈরি করে দেব?


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...