Skip to main content

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো।

উদাহরণসহ মিলের সহপরিবর্তন পদ্ধতি ব্যাখ্যা ও বিচার করো (Method of Concomitant Variation)

সংজ্ঞা ও সূত্র-জে. এস. মিলের মতে, যদি দুটি ঘটনার মধ্যে একটির পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যটিও পরিবর্তিত হয়, তবে ওই ঘটনা দুটির মধ্যে একটি কার্যকরণ সম্পর্ক থাকবে। মিলের ভাষায়-

 "যে-ঘটনাটি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হলে অন্য একটি ঘটনাও যদি কোনো বিশেষ প্রকারে পরিবর্তিত হয়, তবে ওই প্রথমোক্ত ঘটনাটি শেষোক্ত ঘটনাটির কারণ অথবা কার্য অথবা কোনো কার্যকরণ সম্পর্কে আবদ্ধ।"

আকার বা সাংকেতিক উদাহরণ-

সহপরিবর্তন পদ্ধতি দুই প্রকারের হতে পারে- সরাসরি (Direct) এবং ব্যস্তানুপাতিক (Inverse)।

দৃষ্টান্ত ১ (বৃদ্ধি)

   * পূর্বগামী ঘটনা-A1BC, অনুগামী ঘটনা-a_1bc

    পূর্বগামী ঘটনা- A2BC, অনুগামী ঘটনা- a_2bc

    সুতরাং, A হলো a-এর কারণ।

 • দৃষ্টান্ত ২ (হ্রাস):

   • পূর্বগামী ঘটনা: A⬆️  BC, অনুগামী ঘটনা: a ⬆️bc

   সুতরাং, A ও a কার্যকরণ সম্পর্কে যুক্ত।

বাস্তব উদাহরণ

বাজারের চাহিদার সাথে দামের সম্পর্ক হলো সহপরিবর্তন পদ্ধতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

        •দৃষ্টান্ত- বাজারে আলুর জোগান স্থির আছে। দেখা গেল, আলুর চাহিদা যত বাড়ছে, আলুর দাম তত বাড়ছে। আবার আলুর চাহিদা কমলে দামও কমছে।

        •সিদ্ধান্ত-এখানে আলুর চাহিদার পরিবর্তন ও দামের পরিবর্তন সহগামী। অতএব, চাহিদাই হলো দাম পরিবর্তনের কারণ।

• পদ্ধতিটির বিচার (Evaluation)

এই পদ্ধতির যেমন কিছু সুবিধা আছে, তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

সুবিধা (Advantages):

 •পরিমাণগত দিকঃ মিলের অন্যান্য পদ্ধতিগুলি মূলত গুণগত, কিন্তু সহপরিবর্তন পদ্ধতিটি ঘটনার পরিমাণগত পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

অবিভাজ্য কারণের ক্ষেত্রেঃযে সব কারণকে (যেমন—উষ্ণতা, বায়ুর চাপ, অভিকর্ষ) পুরোপুরি বর্জন বা অপসারণ করা সম্ভব নয়, সেই সব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিটিই একমাত্র ভরসা।

•অসুবিধা বা দোষ (Disadvantages):

     •সহ-কারণের দোষঃ দুটি ঘটনা একটি সাধারণ কারণের ফল হতে পারে। যেমন—বিদ্যুৎ চমকানো ও বজ্রনাদ সহপরিবর্তিত হয়, কিন্তু একটি অন্যটির কারণ নয়; উভয়েই মেঘের ঘর্ষণের ফল।

      •সীমার বাইরের দোষঃ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সহপরিবর্তন কাজ করলেও সীমার বাইরে তা নাও খাটতে পারে। যেমন—অতিরিক্ত সার দিলে ফলন বাড়লেও, একটি নির্দিষ্ট সীমার পর গাছ মারা যেতে পারে।

          পরিশেষে বলতে পারি যে, সহপরিবর্তন পদ্ধতিটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক, বিশেষ করে যেখানে কারণকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। তবে সাবধানতার সাথে বিচার না করলে এতে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা থাকে।


Comments

Popular posts from this blog

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।

দর্শন প্রথম সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মাইনর সিলেবাস)  ১)চার্বাক মতে ভূত কয়টি ও কি কি? উত্তরঃচার্বাক মতে ভূত চারটি- ক্ষিতি, অপ্ , তেজ ও মরুৎ ২) স্বভাববাদ কী? উত্তরঃ চার্বাক জড়বাদের ভিত্তি হল স্বভাববাদ। যে মতবাদ অনুসারে স্বভাব থেকেই ভূত সৃষ্টি, আবার স্বভাব থেকেই বিচ্ছেদ। যার জন্য ঈশ্বরকে স্বীকার করা প্রয়োজন নেই। ৩) অব্যাপ্যদেশ কথাটির অর্থ লেখো। উত্তরঃ অব্যাপ্যদেশ বলতে বোঝায়- অশাব্দ অর্থাৎ যাকে শব্দের দ্বারা প্রকাশ করা যায় না। ৫) জ্ঞান লক্ষণ প্রত্যক্ষ কাকে বলে?  কোন একটি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে তার নিজের বিষয়ীভূত গুণ ছাড়াও যদি অপর একটি ইন্দ্রিয়ের বিষয়ীভূত গুণকে প্রত্যক্ষ করার হয়, তাহলে সেই প্রত্যক্ষকে জ্ঞানলক্ষণ প্রত্যক্ষ বলা হয়। ৬) ন্যায় মতে প্রমাণের প্রকার  উত্তরঃ ন্যায় মতে প্রমাণ চার প্রকার। প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান এবং শাব্দ। ৭) সন্নিকর্ষ কাকে বলে? উত্তরঃ ন্যায় মতে ইন্দ্রিয় ও কোন বাস্তব পদার্থের মধ্যে একপ্রকার বিশেষ সম্পর্ক ঘটলে তবেই আমাদের একটি বস্তুর প্রত্যক্ষজ্ঞান ।আর ঐ বিশেষ বিশেষ সম্পর্কের পারিভাষিক নাম হলো সন...

ইতিহাস (3rd Semester) সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।

 তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর)। ১)বন্দেগান-ই-চাহালগানি বলতে কী বোঝায়? •উত্তরঃবন্দেগান-ই-চাহালগান বলতে চল্লিশ জন তুর্কি ও অ-তুর্কি দাসদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনীকে বোঝায়। এই বাহিনীকে ডাল চালিশা বা তুরকান-ই- চাহালগানি নামে ডাকা হতো। ২)আমির খসরু কে ছিলেন? •উত্তরঃ আমির খসরু ছিলেন প্রখ্যাত সুফি সাধক বা আরেফ নিজামউদ্দিন আওলিয়ার ছাত্র এবং অন্যতম প্রধান খলিফা। যাঁকে 'ভারতের তোতা' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ৩) মহরানা প্রতাপ কে ছিলেন?  •উত্তরঃ মেবারের শিশোদিয়া রাজবংশের একজন হিন্দু রাজপুত রাজা ছিলেন মহারানা প্রতাপ সিং। যিনি রাজপুতদের বীরত্ব ও দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। বহু বছর ধরে তিনি মুঘল সম্রাট আকবরের সঙ্গে লড়াই করেন। ৪) জায়গীরদারী সংকট কী? •উত্তরঃ জায়গিরদারী সংকট ছিল মোগল সাম্রাজ্যের একটি অর্থনৈতিক সংকট। এই সংকটে জমি বা জায়গিরের অভাব দেখা দিয়েছিল। যার ফলে প্রশাসনিক খরচ মেটানো এবং যুদ্ধের খরচ বহন করা সম্ভব হতো না। ৫) দাক্ষিণাত্য ক্ষত কী? •উত্তরঃ দাক্ষিণাত্য ক্ষত বলতে ঔরঙ্গজেবের দাক্ষিণাত্য নীত...

ব্রিটিশ(3rd.Sem) পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় সেমিস্টার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর সিলেবাস)।         আমরা জানি যে,ব্রিটেনের সংবিধান অলিখিত বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিল, শাসনতান্ত্রিক রীতিনীতি, পার্লামেন্ট প্রণীত আইন প্রভৃতির মাধ্যমে পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছে। ব্রিটেনের পার্লামেন্ট আইনানুগ সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে, রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নয়। আর সেখানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে আইনানুগ সার্বভৌমত্ব বলা হয়, কারণ-       যেকোনো বিষয়ে পার্লামেন্ট আইন প্রণনয়নের অধিকারী। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় পার্লামেন্টে কোন আইন প্রণয়নের সময় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। আসলে সেখানে কমন্সসভা তথা নিম্নকক্ষের সার্বভৌমত্বকেই বলা হয় পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব।     ••ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে সার্বভৌমত্ব বলার কারণ- ১) পার্লামেন্টের ওপর আইনগত কোনরূপ বাধানিষেধ আরোপ করা যায় না। ২) পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের বৈধতার ব্যাপারে আদালত কোন প্রশ্ন তুলতে পারেনা। ব্রিটেনের আদালত পার্লামেন্ট প্রণীত আইনের ওপর বিচার বি...