Skip to main content

ভূগোল বা ভূতত্ত্বের ভাষায় কারি (Corrie) বা সার্ক (Cirque) হলো হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিরূপ। নিচে এর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

কারি বা সার্ক কাকে বলে?

        •উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের অবঘর্ষ (Abrasion) ও উৎপাটন (Plucking) প্রক্রিয়ায় পাহাড়ের গায়ে যে বিশাল আরামকেদারার (Armchair) মতো গর্ত বা খাড়া দেয়ালযুক্ত বেসিন তৈরি হয়, তাকেই সার্ক বলা হয়।

 * নামকরণ: ফরাসি ভাষায় একে বলা হয় 'সার্ক' (Cirque), স্কটল্যান্ডে একে বলা হয় 'কারি' (Corrie), জার্মানিতে 'কার' (Kar) এবং ওয়েলসে একে 'কুম' (Cwm) বলা হয়।

উৎপত্তি (Origin)

সার্ক বা কারি মূলত তিনটি পর্যায়ের মাধ্যমে গঠিত হয়:

১. তুষার জমে গর্ত সৃষ্টি: পাহাড়ের ঢালে কোনো প্রাকৃতিক খাঁজে তুষার জমতে শুরু করে। পর্যায়ক্রমিক বরফ গলা ও জমার ফলে (Freeze-thaw action) শিলা ফেটে গিয়ে গর্তটি বড় হতে থাকে।

২. হিমবাহের ক্ষয়কার্য: গর্তটি যখন হিমবাহে পূর্ণ হয়, তখন হিমবাহের ওজনে পাহাড়ের গায়ে উৎপাটন ও অবঘর্ষ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে গর্তের পিছনের দেয়াল খাড়া হয়ে যায় এবং নিচের অংশ গভীর ও অবতল হয়ে পড়ে।

৩. আরামকেদারার আকৃতি: হিমবাহ যখন নিচের দিকে নামতে শুরু করে, তখন গর্তটি অনেকটা হাতলওয়ালা চেয়ার বা চামচের মতো আকৃতি ধারণ করে। এর তিনটি দিক খাড়া পাহাড় দিয়ে ঘেরা থাকে এবং সামনের দিকটি খোলা থাকে।

সার্ক-এর প্রধান অংশসমূহ

একটি আদর্শ সার্কের তিনটি প্রধান অংশ থাকে:

 * খাড়া পিছনের দেয়াল (Headwall): এটি অত্যন্ত খাড়া ও পাথুরে হয়।

 * অবতল বেসিন (Basin): মধ্যখানের গভীর গর্ত যেখানে বরফ জমে থাকে।

 * উঁচু প্রান্ত বা থ্রেসহোল্ড (Threshold): সার্কের সম্মুখভাগ যেখানে গর্তটি শেষ হয় এবং ঢাল শুরু হয়।

> বিশেষ তথ্য: যখন হিমবাহ গলে যায়, তখন এই সার্কের গর্তে জল জমে যে হ্রদ তৈরি হয়, তাকে টার্ন (Tarn) বা সার্ক হ্রদ বলে।

উদাহরণ (Examples)

 * ভারত: হিমালয় পর্বতমালার কেদারনাথের কাছে অসংখ্য সার্ক বা কারি দেখতে পাওয়া যায়।

 * অ্যান্টার্কটিকা: বিশ্বের বৃহত্তম সার্কগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যান্টার্কটিকার মাউন্ট এরিবাস অঞ্চলের সার্ক।

 * স্কটল্যান্ড: স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডসে বিখ্যাত 'রেড কারি' (Red Corrie) অবস্থিত।

 * ফ্রান্স: পাইরেনিজ পর্বতমালার গাভার্নি সার্ক (Cirque de Gavarnie) একটি বিশ্বখ্যাত উদাহরণ।

আপনি কি হিমবাহের অন্য কোনো ভূমিরূপ (যেমন—ইউ-আকৃতির উপত্যকা বা ড্রামলিন) সম্পর্কে জানতে চান? যা আপনার পরীক্ষার জন্য সহায়ক হতে পারে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...