Skip to main content

গৃহদাহ উপন্যাসের প্রশ্নাবলী।

গৃহদাহ উপন্যাসের প্রশ্নাবলী।

​১. চরিত্র বিশ্লেষণ

••​'গৃহদাহ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র হিসেবে অচলার অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ট্র্যাজেডি আলোচনা করো।

••• বা বিমলা।গৃহদাহ' উপন্যাসে বিমলা চরিত্রটি অচলার চরিত্রের বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলতে কতখানি সহায়ক হয়েছে?

​••সুরেশ ও মহিম—এই দুই বিপরীতমুখী চরিত্রের তুলনামূলক আলোচনা করে উপন্যাসের কাহিনি বিন্যাসে তাদের ভূমিকা নিরূপণ করো।

​••সুরেশ চরিত্রটির খলনায়ক নাকি পরিস্থিতির শিকার? উপন্যাসের আধারে বুঝিয়ে দাও।

​•মৃণাল চরিত্রটির সার্থকতা বিচার করো। অচলার বিপরীতে মৃণাল চরিত্রটি কতটা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে?

​২. বিষয়বস্তু ও নামকরণ

​•••উপন্যাস হিসেবে 'গৃহদাহ'-এর সার্থকতা বিচার করো।/ মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে গৃহদাহ উপন্যাস।

​•'গৃহদাহ' উপন্যাসের নামকরণ কতটা যুক্তিযুক্ত বা সার্থক হয়েছে তা আলোচনা করো।

​•••অচলার মানসিক দোলাচল এবং সমাজ ও ব্যক্তির সংঘাত এই উপন্যাসে কীভাবে ফুটে উঠেছে?

​৩. সমাজচিত্র ও সম্পর্ক:

​•তৎকালীন হিন্দু ও ব্রাহ্ম সমাজের দ্বন্দ্ব 'গৃহদাহ' উপন্যাসে কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে?

​••"গৃহদাহ কেবল গৃহের দাহ নয়, অন্তরেরও দাহ"— উক্তিটির আলোকে উপন্যাসের মূল সুরটি বিশ্লেষণ করো।

​৫ নম্বরের মাঝারি প্রশ্ন (টীকা বা ব্যাখ্যা)

উত্তরে বেশি নম্বর পাওয়ার কৌশল:

​১. উৎস উল্লেখ: উত্তরের শুরুতেই পরিষ্কারভাবে লিখবেন— "আলোচ্য অংশটি কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।"

২. প্রসঙ্গ: কে, কাকে, কখন বলছে—এটি ৩-৪ লাইনে স্পষ্ট করবেন।

৩. তাৎপর্য বিশ্লেষণ: এটি উত্তরের মূল অংশ। এখানে লেখকের মূল উদ্দেশ্য বা ওই সংলাপটির মাধ্যমে উপন্যাসের মোড় কীভাবে ঘুরল, তা বুঝিয়ে লিখতে হবে।

••সুরেশ ও অচলার সম্পর্কের জটিলতা সংক্ষেপে লেখো।

​•কেদারবাবুর চরিত্রটির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

​•অচলার প্রতি মহিমের উদাসীনতা বা নির্লিপ্ততা কি কাহিনীকে পরিণতির দিকে নিয়ে গেছে? সংক্ষেপে আলোচনা করো।

​•উপন্যাসের শেষ দৃশ্যে অচলার পরিণতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

​•••"মানুষের মন কি এক উপাদানে গড়া?"— এই আক্ষেপের আলোকে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ব্যাখ্যা

​১. অচলার মানসিক দ্বন্দ্বমূলক লাইন

​অচলার মনের অস্থিরতা বোঝাতে এই লাইনগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ:

​"অচলাদিদি, তোমার মতো ভাগ্য ক'জনার হয়?"

​প্রেক্ষাপট: বিমলা যখন অচলার সাজানো সংসার ও মহিমের মতো স্বামীকে দেখে এই কথা বলেছিল।

​তাৎপর্য: বিমলার সরল বিশ্বাসের বিপরীতে অচলার মনের ভেতরে যে দাহ ও শূন্যতা ছিল, তা এখানে স্পষ্ট হয়।

​"মানুষের মন কি এক উপাদানেই গড়া?"

​তাৎপর্য: এটি উপন্যাসের মূল দর্শনের একটি। অচলার দুই পুরুষের (মহিম ও সুরেশ) প্রতি যে ভিন্নধর্মী আকর্ষণ, সেই মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এখানে ফুটে ওঠে।

​২. সুরেশ ও মহিম সংক্রান্ত লাইন

​"সুরেশ, তোমাকে আমি কোনোদিন ক্ষমা করতে পারব না।"

​প্রেক্ষাপট: সুরেশ যখন বলপূর্বক বা চাতুরির সাহায্যে অচলাকে নিয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ের প্রেক্ষাপট।

​"মহিম শান্ত, কিন্তু তাহার তেজ কম নয়।"

​তাৎপর্য: মহিমের ধীরস্থির চরিত্রের অন্তরালে যে ব্যক্তিত্ব ও দৃঢ়তা আছে, তা এই লাইনের মাধ্যমে বোঝা যায়।

​৩. উপন্যাসের মূল সুর বা দার্শনিক লাইন

​••• "গৃহদাহ কেবল গৃহের দাহ নয়, অন্তরেরও দাহ।"

​তাৎপর্য: এটি উপন্যাসের নামকরণের সার্থকতা বা মূল থিমের সাথে যুক্ত। আগুন লেগে বাড়ি পুড়ে যাওয়া আর কামনার আগুনে সংসার ছারখার হওয়া—এই দুইয়ের তুলনা করতে হবে।

​••• "পরের ঘরের স্ত্রী চুরি করা যায়, কিন্তু পরের ঘরের গৃহলক্ষ্মীকে ত চুরি করা যায় না।"

​প্রেক্ষাপট: সুরেশের অনুশোচনা বা উপলব্ধি। সে অচলাকে শারীরিকভাবে কাছে পেলেও তার মন বা 'গৃহিণী' সত্তাকে পায়নি।

​৪. মৃণাল ও রামবাবু সংক্রান্ত লাইন

​"দিদি, তুমি ত সব ত্যাগ করে এলে, কিন্তু শান্তি কোথায়?"

​প্রেক্ষাপট: মৃণালের শান্ত ও ত্যাগী রূপের বিপরীতে অচলার অশান্ত জীবনের তুলনা।

​উত্তরে বেশি নম্বর পাওয়ার কৌশল:

​১. উৎস উল্লেখ: উত্তরের শুরুতেই পরিষ্কারভাবে লিখবেন— "আলোচ্য অংশটি কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে।"

২. প্রসঙ্গ: কে, কাকে, কখন বলছে—এটি ৩-৪ লাইনে স্পষ্ট করবেন।

৩. তাৎপর্য বিশ্লেষণ: এটি উত্তরের মূল অংশ। এখানে লেখকের মূল উদ্দেশ্য বা ওই সংলাপটির মাধ্যমে উপন্যাসের মোড় কীভাবে ঘুরল, তা বুঝিয়ে লিখতে

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

চতুর্থ সেমিস্টার জেনারেল ইতিহাস ছোট প্রশ্ন ২০২১

 *১) সুজাউদ্দৌলা কে ছিলেন বা মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর কে বাংলার নবাব হন?  উত্তর - সুজা উদ্দৌলা আয়ুধের সুবেদার নবাব ছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর তার জামাতা বাংলার নবাব  হন ১৭৫৪-১৭৭৫ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত। নবাব থাকাকালীন তিনি বক্সারের যুদ্ধ এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। *২) কোন সালে রেগুলেটিং আইন জারি করা হয়েছিল? উত্তর - ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দুর্নীতি দূরীকরণ, গঠন বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই আইনে বলা হয় বাংলা বোম্বাই ও মাদ্রাজে ১ করে কাউন্সিল থাকবে। *৩) শ্রী রঙ্গপত্তমের সন্ধিতে স্বাক্ষরকারী কারা কারা ছিলেন ?কখন এই সন্ধিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল? উত্তর - তৃতীয় ইঙ্গ মহীশূর যুদ্ধের অবসান হয়েছিল শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধির দ্বারা। আর এই সন্ধিতে ঠিক হয় টিপু সুলতান ইংরেজদের তিন কোটি টাকা এবং জামিন স্বরূপ তার দুই পুত্রকে দিতে বাধ্য হবেন। এছাড়া বিজিত অঞ্চল ইংরাজ, মারাঠা ও নিজামের মধ্যে বন্টিত হল। যে সন্ধির দুটি পক্ষ ছিল একদিকে ছিলেন টিপু সুলতান এবং অপরদিকে ছিলেন ইংরেজ। সময়কালটি ছি...