Skip to main content

সাম্যবাদী, নজরুল ইসলাম, একাদশ শ্রেণী প্রথম সেমিস্টার।

সাম্যবাদী’ কবিতা, পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ  একাদশ শ্রেণি প্রথম সেমিস্টার।

         ‘সাম্যবাদী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত ‘সাম্যবাদী’ (১৯২৫) কাব্যগ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। এই কবিতার মূল মূলসুর হলো অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং মনুষ্যত্বের জয়গান। আর সেখানে আমরা দেখতে পাই- কবি এমন এক জাগতিক তীর্থস্থানের কথা বলেছেন(সাম্যবাদ), যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা ধনী-দরিদ্রের কোনো ভেদ নেই। মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয় সে ‘মানুষ’। তাই কবি বলেন-

        কোরআন, পুরাণ, বেদ, বাইবেল বা গ্রন্থ পাঠ করে কিংবা মন্দির, মসজিদ, গির্জায় গিয়ে ঈশ্বর বা সত্য লাভ করা যায় না, যদি না মানুষের হৃদয় পবিত্র হয়। আসলে কবি মানুষের হৃদয়কে সমস্ত শাস্ত্র ও দেবালয়ের চেয়ে বড় বলে মনে করেছেন। কারণ প্রতিটি মানুষের অন্তরেই পরম সত্তা বা সত্য বসবাস করে। যে সত্যের মধ্যে আমরা দেখতে পাই-

         মানবতাবাদী চেতনা।ধর্মগ্রন্থে জ্ঞান পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু সত্যকে উপলব্ধি করতে হলে নিজের ভেতরের ‘মানুষ’কে জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষই সমস্ত সৃষ্টির সেরা এবং পরম সত্যের ধারক।

১) এক নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর (SAQ)

১. ‘সাম্যবাদী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘সাম্যবাদী’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. কবি নজরুল ইসলামের মতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মন্দির বা মসজিদ কোনটি?

উত্তর: কবি নজরুল ইসলামের মতে মানুষের ‘হৃদয়’ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মন্দির বা মসজিদ।

৩. “যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান”— কবি কোন স্থানের কথা বলেছেন?

উত্তর: কবি মানুষের অসাম্প্রদায়িক হৃদয় ও সাম্যের ময়দানের কথা বলেছেন।

৪. “মিথ্যা শুনিনি ভাই”— কবি কোন বিষয়টিকে সত্য বলে দাবি করেছেন?

উত্তর: মানুষের হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো মন্দির বা দেবালয় নেই— এই বিষয়টিকে কবি পরম সত্য বলে দাবি করেছেন।

৫. কবি কাদের “পাণ্ডুলিপি” বা বইপত্র ঘাটাঘাটি না করে নিজের হৃদয়কে পড়তে বলেছেন?

উত্তর: যারা সত্যের সন্ধানে কেবল শাস্ত্র, পুরাণ বা ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে চলেছেন, কবি তাঁদের নিজের হৃদয় পাঠ করতে বলেছেন।

৬. ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় উল্লিখিত দুটি প্রাচীন শাস্ত্র বা ধর্মগ্রন্থের নাম লেখো।

উত্তর: বেদ ও কোরআন (অথবা বাইবেল, জেন্দাবেস্তা)।

৭. “এই কন্দরে অরিয়ান-প্যাঁড়া বসে গাহিল কোন সে গান?”— ‘কন্দর’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘কন্দর’ শব্দের অর্থ হলো গুহা।

৮. ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় কোন কোন মহান ব্যক্তির নাম বা উল্লেখ রয়েছে?

উত্তর: বুদ্ধ, মহাবীর, কৃষ্ণ, শ্রীচৈতন্য, বুদ্ধদেব, মহম্মদ ইত্যাদি ধর্মপ্রবর্তক ও মহান ব্যক্তিত্বদের উল্লেখ রয়েছে।

২. বহু বিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর (MCQ)

১. ‘গাহি সাম্যের গান’— এখানে ‘সাম্য’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) সমতা বা সমভাব

(খ) গান গাওয়া

(গ) যুদ্ধ করা

(ঘ) শাস্ত্র পাঠ করা

উত্তর: (ক) সমতা বা সমভাব

২. “হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনো ______ নাই।”— শূন্যস্থানে কী বসবে?

(ক) মন্দির

(খ) ধর্মালয়

(গ) কা’বা

(ঘ) কন্দর

উত্তর: (খ) ধর্মালয়

৩. ‘সাম্যবাদী’ কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম কিসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন?

(ক) শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে

(খ) ধর্মীয় গোঁড়ামি ও জাতিভেদের বিরুদ্ধে

(গ) প্রকৃতির বিরুদ্ধে

(ঘ) রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে

উত্তর: (খ) ধর্মীয় গোঁড়ামি ও জাতিভেদের বিরুদ্ধে

৪. কবি কোথায় সমস্ত শাস্ত্র খুঁজে পাওয়ার কথা বলেছেন?

(ক) লাইব্রেরিতে

(খ) মন্দিরে

(গ) নিজের হৃদয়ে

(ঘ) বইয়ের দোকানে

উত্তর: (গ) নিজের হৃদয়ে

৫. “কোথা তাাজমহল, কোথা মমতাজ, কোথা শাহাজাহান?”— কবি এখানে কী বোঝাতে চেয়েছেন?

(ক) ইতিহাসের মহত্ত্ব

(খ) প্রেমের অমরতা

(গ) মানুষের অন্তরের পরম সত্য ও অনুভূতির মূল্য

(ঘ) স্থাপত্য শিল্প

উত্তর: (গ) মানুষের অন্তরের পরম সত্য ও অনুভূতির মূল্য

৬. ‘জেন্দাবেস্তা’ কোন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র গ্রন্থ?

(ক) ইসলাম

(খ) পারসি

(গ) খ্রিস্টান

(ঘ) জাইন

উত্তর: (খ) পারসি

৭. ‘সাম্যবাদী’ কবিতার মূল বক্তব্য হলো—

(ক) ধর্মচর্চা না করা

(গ) শুধুমাত্র বই পড়া

(খ) মানুষকে ভালোবাসাই আসল ধর্ম

(ঘ) রাজনীতি করা

উত্তর: (খ) মানুষকে ভালোবাসাই আসল ধর্ম


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...