Skip to main content

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন।। অদ্বৈত বেদান্ত মতে 'মোক্ষ' বা মুক্তির স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন।। অদ্বৈত বেদান্ত মতে 'মোক্ষ' বা মুক্তির স্বরূপ ব্যাখ্যা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন প্রথম সেমিস্টার মাইনর।

          আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন অনুযায়ী, মোক্ষ হলো আত্মস্বরূপে অবস্থান এবং অবিদ্যা বা অজ্ঞানের চিরতরে অবসান। আচার্য শঙ্কর জোর দিয়ে বলেছেন, মোক্ষ কোনো নতুন প্রাপ্তি বা অর্জন নয়, বরং আত্মার নিত্যসিদ্ধ মুক্ত স্বভাবের পুনঃউপলব্ধি মাত্র।আর সেখানে -

     মোক্ষের প্রকৃতি হলো-সাধারণত কর্মের মাধ্যমে কোনো ফল লাভ করা যায়, কিন্তু অদ্বৈত বেদান্তে মোক্ষকে কোনো কর্মের ফল হিসেবে গণ্য করা হয় না।কর্মজাত বস্তু বা ফল পরিবর্তনশীল এবং নশ্বর। মোক্ষ যদি কর্মের দ্বারা উৎপন্ন হতো, তবে তা-ও নশ্বর হতো।তাই-

       আত্মার স্বরূপই হলো 'সচ্চিদানন্দ' (সৎ, চিত্ ও আনন্দ)। অজ্ঞানের কারণে আত্মা নিজেকে বন্ধনযুক্ত মনে করে। জ্ঞানোদয় হলে এই অজ্ঞানের নাশ ঘটে এবং আত্মা তার নিজের পূর্ণ আনন্দরূপ উপলব্ধি করে। তাই মোক্ষ হলো বস্তু লাভ নয়, বরং অজ্ঞানের নিবৃত্তি।তবে-

    মোক্ষ লাভের একমাত্র উপায় নির্ণয়ে অদ্বৈত মতে, মোক্ষ লাভের একমাত্র উপায় হলো ব্রহ্মজ্ঞান বা তত্ত্বজ্ঞান।যেখানে রজ্জুতে (দড়িতে) সাপের ভ্রম হলে যেমন আলোর উপস্থিতিতে কেবল রজ্জুর জ্ঞান হলেই ভয়ের অবসান ঘটে, তেমনি আত্মায় জগতের ভ্রম কাটাতে প্রয়োজন কেবল 'তত্ত্বমসি' (তুমিই সেই ব্রহ্ম) মহাবাক্যের অপরাক্ষ অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান।কিন্তু -

       কর্ম ও উপাসনা মনকে শুদ্ধ করে মোক্ষ লাভের উপযোগী (সাধন-চতুষ্টয়) করে তোলে, কিন্তু সরাসরি মোক্ষ দিতে পারে না। একমাত্র জ্ঞানই অবিদ্যাকে বিনষ্ট করে।সেখানে -

      মোক্ষের দুটি অবস্থা হলো জীবনমুক্তি ও বিদেহমুক্তি।আর অদ্বৈত বেদান্তে মুক্তির উক্ত দুটি রূপ স্বীকার করা হয়েছে-

     জীবনমুক্তি। জীবদ্দশাতেই পরম সত্য বা ব্রহ্মের সাক্ষাৎকার লাভ করাকে জীবনমুক্তি বলা হয়। জীবনমুক্ত পুরুষ শরীরে অবস্থান করেও সংসারের সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ দ্বারা প্রভাবিত হন না। প্রারব্ধ কর্মের প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর শরীর বিদ্যমান থাকে।

      বিদেহমুক্তি। কর্মের ক্ষয় হলে জীবনমুক্ত সাধকের শরীর পাত বা মৃত্যু ঘটে। তখন তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্রহ্মে বিলীন হয়ে যান। একেই বিদেহমুক্তি বলা হয়।

         পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, অদ্বৈত বেদান্তে মোক্ষ কোনো উর্ধ্বলোকে গমন বা কোনো বাহ্যিক শক্তি লাভের বিষয় নয়; অজ্ঞানতা দূর করে "আমিই ব্রহ্ম" (অহং ব্রহ্মাস্মি)-এই পরম সত্যের আত্মোপলব্ধিই হলো মোক্ষ।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •



Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...