Skip to main content

 পড়তে বসলে মনোযোগ হারিয়ে যাওয়া বা ঘুম আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি। এই বিষয়ের ওপর ভিডিও বানালে রিটেনশন অনেক বেশি পাওয়া যায়। নিচে ভিডিও তৈরির সুবিধার্থে বিষয় দুটিকে আকর্ষণীয় পয়েন্ট আকারে সাজিয়ে দেওয়া হলো:

১. পড়ায় মনোযোগ আনার ৫টি কার্যকর উপায়

 * 'ফাইভ সেকন্ড রুল' (5-Second Rule) প্রয়োগ করা

   * পদ্ধতি: পড়তে বসতে ইচ্ছা না করলে মনের সাথে তর্ক না করে উল্টো গণনা শুরু করুন: ৫, ৪, ৩, ২, ১—এবং সাথে সাথে বই খুলে বসে পড়ুন।

   * সুবিধা: মগজ অজুহাত তৈরি করার আগেই অ্যাকশন নিতে বাধ্য হয়।

 * অপ্রয়োজনীয় বিষয় দূরে রাখা।


   * পদ্ধতি: পড়ার টেবিল থেকে মোবাইল ফোন, অপ্রয়োজনীয় বই বা মনোযোগ বিচ্যুত করে এমন সব জিনিস সরিয়ে ফেলুন। শুধু যে বিষয়টি পড়বেন সেটি টেবিলে রাখুন।

 * পড়াকে ছোট ছোট লক্ষ্য বা চ্যাংকে ভাগ করা (Chunking Method)

   * পদ্ধতি: "আজ পুরো চ্যাপ্টার শেষ করব"—এমন বড় টার্গেট না নিয়ে "আগামী ২০ মিনিটে শুধু ২টি পৃষ্ঠা পড়ব"—এমন ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।

 * অ্যাক্টিভ লার্নিং (শব্দ করে পড়া বা খাতায় লেখা)

   * পদ্ধতি: নিরবে রিডিং না পড়ে মুখে উচ্চারণ করে বা হাতে মার্কার কলম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দাগিয়ে পড়ুন। প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে বা হেঁটে হেঁটেও পড়া যেতে পারে।

 * ডিজিটাল ডিস্ট্র্যাকশন ব্লক করা

   * পদ্ধতি: পড়ার সময় ফোনের নোটিফিকেশন অফ রাখুন বা 'Forest' / 'Focus Plant'-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করে ফোন লক করে রাখুন।

২. পড়তে বসলেই ঘুম আসে? মেনে চলো এই ৩টি ট্রিকস

 * বিছানায় বসে পড়া সম্পূর্ণ বন্ধ করা: বিছানা ব্রেনকে ঘুমানোর সংকেত দেয়। তাই সবসময় সোজা হয়ে চেয়ার-টেবিলে বসে পড়ুন।

 * হাইড্রেটেড থাকা ও ঠাণ্ডা পানির ঝাপসা নেওয়া: শরীরে পানির ঘাটতি হলে ব্রেন ক্লান্ত হয়ে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি করে। পড়ার মাঝে পানি পান করুন এবং তীব্র ঘুম আসলে চোখে ঠাণ্ডা পানির ঝাপসা দিন।

 * ২০-২০-২০ রুল ও আলো বাড়ানো: অন্ধকার বা আবছা আলোতে চোখে চাপ পড়ে এবং ঘুম আসে। পর্যাপ্ত আলোযুক্ত ঘরে পড়ুন এবং প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তু বা দেয়ালের দিকে তাকান।

ভিডিও ধারণ ও এডিটিংয়ের পরামর্শ:

ভিডিওর শুরুতে কিছুটা ফানি বা রিলেটেবল দৃশ্য (যেমন: পড়তে বসেই বইয়ের ওপর ঘুমে ঢলে পড়া) অন-স্ক্রিন দেখালে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাথে মেলাতে পারবে এবং ভিডিওটি না টেনে শেষ পর্যন্ত দেখবে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...