Skip to main content

দলীয় ব্যবস্থা। সপ্তম সেমিস্টার। রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।

দলীয় ব্যবস্থা।।   পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) বি.এ. রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science) পাঠ্যক্রমে "ভারতের রাজনীতি: কাঠামো ও প্রক্রিয়া" (Politics in India: Structures and Processes) পত্রটিতে ভারতের দলীয় ব্যবস্থা (Party System in India), কংগ্রেস ব্যবস্থা (Congress System) এবং বিরোধী দলগুলির ভূমিকা (Role of Opposition) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

পরীক্ষায় প্রধানত ১২ নম্বরের দীর্ঘ প্রশ্ন, ৮ নম্বরের মাঝারি প্রশ্ন এবং ৫ নম্বরের সংক্ষিপ্ত টীকা (Short Note) হিসেবে প্রশ্ন আসে।

সম্ভাব্য প্রশ্নাবলী

১২ বা ৮ নম্বরের প্রশ্ন

 * ভারতের দলীয় ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং সাম্প্রতিক প্রবণতাগুলি আলোচনা করো।

   * উত্তর লেখার মূল দিক: বহুদলীয় ব্যবস্থা, আদর্শগত শিথিলতা, আঞ্চলিক দলগুলির উত্থান, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা, জোট রাজনীতির যুগ থেকে পুনঃএকদলীয় আধিপত্যের সূচনা।

 * রজনী কোঠারিকে অনুসরণ করে ‘কংগ্রেস ব্যবস্থা’ (Congress System) ধারণাটি ব্যাখ্যা করো। এই ব্যবস্থার পতনের কারণগুলি কী ছিল?

   * উত্তর লেখার মূল দিক: এক-দলীয় প্রাধান্য বনাম বহুদলীয় কাঠামো, সর্বসমেত ছাতা সংগঠন (Catch-all party), সম্মতি ও দরকষাকষির রাজনীতি (Politics of Consensus), ১৯৬৭ সালের নির্বাচন পরবর্তী পতন।

 * ভারতীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো।

   * উত্তর লেখার মূল দিক: সরকার গঠন না করেও নীতি নির্ধারণে চাপ সৃষ্টি, 'কংগ্রেস ব্যবস্থা'র অভ্যন্তরে ও বাইরে বিরোধীদের ভূমিকা, গঠনমূলক সমালোচনা, এবং বিরোধী ঐক্যের অভাবের মতো সীমাবদ্ধতা।

 * জোট রাজনীতি (Coalition Politics) কীভাবে ভারতের দলীয় ব্যবস্থার চরিত্রকে পরিবর্তন করেছে?

   * উত্তর লেখার মূল দিক: ১৯৮৯-পরবর্তী একক দলীয় আধিপত্যের অবসান, আঞ্চলিক দলগুলির উত্থান, জাতীয় স্তরে সর্বভারতীয় জোট (NDA/UPA) গঠন।

৫ নম্বরের টীকা বা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

 * এক-দলীয় প্রাধান্যমূলক ব্যবস্থা (One-Party Dominant System): ভারতের ক্ষেত্রে ১৯৫২-১৯৬৭ মেয়াদে এটি কীভাবে কাজ করেছিল।

 * কংগ্রেস ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ দলাদলি (Factionalism in Congress System): কীভাবে দলের ভিতরের বিরোধই বিরোধীদের বিকল্প হিসেবে কাজ করত।

 * ভারতে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের উত্থান (Rise of Regional Parties): আঞ্চলিক বৈচিত্র্য, রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাব।

 * দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law): দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে ভূমিকা।

পরীক্ষায় উত্তর লেখার কৌশল

 * তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি (Theoretical Perspectives): উত্তর লেখার সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রজনী কোঠারি (Rajni Kothari)-র 'কংগ্রেস ব্যবস্থা'র তত্ত্ব এবং মরিস জোন্স (W.H. Morris-Jones)-এর 'এক-দলীয় প্রাধান্য' সংক্রান্ত বিশ্লেষণ উল্লেখ করলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়।

 * সময়কাল অনুসারে বিভাজন: ১৯৫২-১৯৬৭ (এক-দলীয় প্রাধান্য), ১৯৬৭-১৯৮৯ (জোট রাজনীতির সূচনা ও বিভাজন), ১৯৮৯-২০১৪ (জোট রাজনীতির পূর্ণ বিকাশ), এবং ২০১৪-পরবর্তী সময়কাল ধরে পয়েন্ট ভাগ করে উত্তর উপস্থাপন করবে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...