Skip to main content

অস্টিনের একত্ববাদী তত্ত্ব (Monism) এবং বহুত্ববাদী তত্ত্বের (Pluralism) তুলনামূলক আলোচনা করো।

অস্টিনের একত্ববাদী তত্ত্ব (Monism) এবং বহুত্ববাদী তত্ত্বের (Pluralism) তুলনামূলক আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।

​       •একত্ববাদী তত্ত্বঃ জন অস্টিন তাঁর 'Lectures on Jurisprudence' (১৮৩২) গ্রন্থে একত্ববাদী সার্বভৌমত্বের রূপরেখা দেন। অস্টিনের মতে, সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের এক একক, অখণ্ড, অসীম এবং চূড়ান্ত ক্ষমতা। আইন হলো সার্বভৌম শক্তির আদেশ (Law is the command of the sovereign)।  

​      •বহুত্ববাদী তত্ত্বঃএকত্ববাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বহুত্ববাদের উদ্ভব ঘটে। হ্যারোল্ড লাস্কি, ম্যাকআইভার, ফিগিস এবং ক্র্যাবের মতো চিন্তাবিদরা এই তত্ত্বের প্রধান সমর্থক। তাঁদের মতে, সমাজ কেবল রাষ্ট্র কেন্দ্রিক নয়; সমাজে নানা ধরণের সংঘ বা প্রতিষ্ঠান (যেমন: পরিবার, ধর্মীয় সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন) রয়েছে। রাষ্ট্র এই সংঘগুলির মধ্যে কেবল একটি, তাই ক্ষমতার বণ্টন হওয়া উচিত।  

      ১. ক্ষমতার কেন্দ্রীয়ভবন সার্বভৌমত্ব অখণ্ড এবং রাষ্ট্রের এক একক কেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ।কিন্তু -

    •সার্বভৌমত্ব খণ্ডিত এবং সমাজের বিভিন্ন সংঘ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্টিত।

   ২. সার্বভৌমত্বের প্রকৃতিসার্বভৌমত্ব অসীম, নিরঙ্কুশ এবং অনিয়ন্ত্রিত।কিন্তু 

    •সার্বভৌমত্ব সসীম, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শর্ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

    ৩. বিভাজ্যতাসার্বভৌমত্ব অবিভাজ্য (Indivisible); একে খণ্ড-খণ্ড করা যায় না।কিন্তু

    •সার্বভৌমত্ব বিভাজ্য (Divisible); ক্ষমতা বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত।

    ৪. আইনের উৎস ও সংজ্ঞায়নআইন হলো কেবল সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের আদেশ (Command of the Sovereign)।কিন্তু -

      •আইন হলো সমাজপ্রথা, ঐতিহ্য, জনমত ও নৈতিক চাহিদার যৌথ ফল।

   ৫. রাষ্ট্রের অবস্থানরাষ্ট্রই একমাত্র সর্বশক্তিমান এবং অপরাপর সকল প্রতিষ্ঠান এর অধীনস্থ।কিন্তু -

    • রাষ্ট্র সমাজস্থ অন্যান্য সংঘের মতোই একটি সংঘ, কেবল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করে।

    ৬. প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাঅনান্য সংঘ বা সংস্থা রাষ্ট্রের কৃপাধন্য এবং এর নির্দেশে পরিচালিত।কিন্তু -

      •ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংঘগুলো স্বাধীন এবং রাষ্ট্র সৃষ্ট নয়।কিন্তু -

    ৭. আনুগত্যের বাধ্যবাধকতানাগরিকরা কেবল রাষ্ট্রের প্রতিই চূড়ান্ত আনুগত্য দেখাতে বাধ্য।কিন্তু -

     •মানুষ সামাজিক প্রয়োজনে বহুবিধ সংঘের যুক্ত এবং আনুগত্য একাধিক সত্তার প্রতি বিভক্ত।

    ৮. শাস্তিমূলক ব্যবস্থাআইন অমান্য করলে শাস্তির ভয় বা বলপ্রয়োগই মূল ভিত্তি।কিন্তু -

      •আইন মান্য করা হয় সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, প্রথা ও সুবিধার কারণে।

    ৯. আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অপেক্ষা পুরোপুরি স্বাধীন ও সার্বভৌম।কিন্তু -   

    •আন্তর্জাতিক আইন, চুক্তি ও বৈশ্বিক সংস্থার দ্বারা রাজ্যক্ষমতা সীমাবদ্ধ হতে পারে।

   ১০. দর্শনের মূল লক্ষ্যআইনি শৃঙ্খলা, স্থায়িত্ব এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।কিন্তু -

  •  ব্যক্তিস্বাতন্ত্র রক্ষা,গণতন্ত্র এবং সামাজিক বৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা।

       পরিশেষে বলা যায় যে,আইনগত ও গঠনগত দিক থেকে অস্টিনের একত্ববাদী তত্ত্বটি অত্যন্ত স্পষ্ট হলেও, বাস্তব গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এর প্রয়োগ সীমিত। অন্যদিকে, বহুত্ববাদ আধুনিক সমাজকাঠামো ও গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের ছবিকে তুলে ধরে। অস্টিনের তত্ত্ব যদি রাষ্ট্রকে আইনি স্থায়িত্ব দেয়, তবে বহুত্ববাদী তত্ত্ব ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নাগরিক সংঘের গুরুত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে।  

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •



Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...