Skip to main content

সমাজত্ত্বের পরিধি আলোচনা করো।

সমাজত্ত্বের পরিধি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার sociology মাইনর। 

সমাজবিজ্ঞানের পরিধি (Scope of Sociology)

     আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,'পরিধি' বলতে কোনো শাস্ত্রের অধ্যায়নের সীমানা, বিষয়বস্তু এবং আলোচনার ক্ষেত্রকে বোঝায়। আর সেখানে সমাজবিজ্ঞান হলো একটি গতিশীল ও বিকাশমান সামাজিক বিজ্ঞান, যা মানবসমাজ, সামাজিক সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক আচরণ নিয়ে আলোচনা করে।তবে-

         সমাজবিজ্ঞান তুলনামূলকভাবে নতুন একটি বিষয় হওয়ায় এর পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং ধ্রুবক নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিধিও ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। যেখানে এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সমাজবিজ্ঞানের পরিধি সংক্রান্ত দুটি প্রধান দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পাই।আসলে-

      সমাজবিজ্ঞানের পরিধি বা আলোচনার সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে প্রধানত দুটি ভিন্ন মতবাদ বা সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে-

     ১)বিশেষত্ববাদী বা রূপভিত্তিক সম্প্রদায়ঃ এই মতবাদের সমর্থকদের মতে, সমাজবিজ্ঞানকে একটি সুনির্দিষ্ট, স্বতন্ত্র ও বিশুদ্ধ সামাজিক বিজ্ঞান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এর পরিধিকে সীমিত রাখতে হবে।যার প্রধান প্রবক্তা: জর্জ সিমেল, মাক্স ভেবার,ফার্দিনান্দ টেনিস , এবং লিওপোল্ড ভন ভিজ।তাঁদের মূল বক্তব্স

      •সমাজবিজ্ঞানের কাজ হলো সামাজিক জীবনের সামগ্রিক উপাদান নিয়ে আলোচনা না করে কেবল সামাজিক সম্পর্কের 'রূপ' বা কাঠামো নিয়ে গবেষণা কর।যেমন-প্রেম, প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা, বা দ্বন্দ্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘটতে পারে (রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা ধর্মীয়)। সমাজবিজ্ঞান বিষয়বস্তু নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে কেবল "প্রতিযোগিতা" বা "দ্বন্দ্বের" ধরন বা রূপটিকে অনুধাবন করে। তবে-

       এই মতবাদকে অতি-সংকীর্ণ বলে সমালোচনা করা হয়। কারণ সামাজিক রূপ ও উপাদানের মধ্যে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা বাস্তবে সম্ভব নয়।

     ২)সংশ্লেষণাত্মক সম্প্রদায়ঃ এই মতবাদের প্রবক্তারা মনে করেন, সমাজকে খণ্ড খণ্ড করে দেখা সম্ভব নয়। সমাজবিজ্ঞান হলো একটি সাধারণ বিজ্ঞান যা সমাজের সার্বিক ও সমন্বিত চিত্র উপস্থাপন করে।যার প্রধান প্রবক্তা- ইমিল দুরখেইম, পিটিরিম সোরোকিন,কার্ল ম্যানহাইম, এবং এল. টি. হবহাউস। আর তাদের মূল বক্তব্য হল-

     সমাজবিজ্ঞানের কাজ হলো বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞানের (অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস ইত্যাদি) প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে সমাজের একটি সমগ্র রূপ তুলে ধরা।যেখানে- দুরখেইম সমাজবিজ্ঞানের পরিধিকে ৩টি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেনসামাজিক অঙ্গসংস্থানবিদ্যা (Social Morphology): ভৌগোলিক পরিবেশ, জনসংখ্যার আকার, ঘনত্ব ও বিন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা।

     ১)সামাজিক শারীরবিদ্যাঃ ধর্মীয়, নৈতিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা।

    ২) সাধারণ সমাজবিজ্ঞানঃ সামাজিক জীবন পরিচালনার সাধারণ নিয়মকানুন ও নীতির সার্বিক রূপ।

আধুনিক সমাজবিজ্ঞানের পরিধির মূল বিষয়বস্তু

     বাস্তব ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের পরিধিকে নিম্নলিখিত প্রধান প্রধান বিষয়সমূহের মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায়-

      ১)সামাজিক সম্পর্ক ও প্রক্রিয়াঃমানুষের সঙ্গে মানুষের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, যেমন-সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা, দ্বন্দ্ব, অভিযোজন ও পরিগ্রহণ।

      ২)সামাজিক প্রতিষ্ঠানঃ পরিবার, বিবাহ, জ্ঞাতিসম্পর্ক (Kinship), ধর্ম, শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনীতির মতো মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন, রূপান্তর ও প্রভাব নিয়ে আলোচনা।

      ৩)সামাজিক স্তরবিন্যাস ও বৈষম্যঃ শ্রেণি, জাতিভেদ (Caste), লিঙ্গ (Gender), বর্ণ এবং ক্ষমতার ভিত্তিতে সমাজে গড়ে ওঠা বৈষম্য ও স্তরবিন্যাস পর্যবেক্ষণ।

     ৪)সামাজিক পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণঃ কীভাবে সমাজ পরিবর্তিত হয় (প্রযুক্তি, নগরায়ণ, বিশ্বায়নের প্রভাব) এবং কীভাবে বিধি-বিধান, আইন, নীতি ও লোকচারের মাধ্যমে সমাজ শৃঙ্খলিত থাকে।

     ৫)বিশেষায়িত শাখাসমূহঃ আধুনিক যুগে সমাজবিজ্ঞানের পরিধি নতুন নতুন শাখায় বিস্তার লাভ করেছে। আর সেই শাখাগুলি হলো-

       গ্রামীণ ও নগর সমাজবিজ্ঞান,রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান,অপরাধ সমাজবিজ্ঞান,পরিবেশ সমাজবিজ্ঞান,চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান।

          পরিশেষে আমরা বলতে পারি য়, বিশেষত্ববাদী ও সংশ্লেষণাত্মক- এই দুই দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়েই সমাজবিজ্ঞানের পরিধি গড়ে উঠেছে। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান একদিকে যেমন সামাজিক সম্পর্কের গভীর বিশ্লেষণ করে, অন্যদিকে সমাজের সার্বিক পরিবর্তনশীল রূপটিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে। ফলে পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের অনুসন্ধানের ক্ষেত্র ও পরিধি ক্রমাগত নতুন নতুন দিগন্তে প্রসারিত হচ্ছে।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •





Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...