শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কী বোঝো?ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের স্বপক্ষে যুক্তি দাও এবং ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষে্যর ত্রুটিগুলি আলোচনা করো।
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে কী বোঝো?ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের স্বপক্ষে যুক্তি দাও এবং ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষে্যর ত্রুটিগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।
শিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যঃশিক্ষার ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য বলতে বোঝায়- সমাজ বা রাষ্ট্রের প্রয়োজনের তুলনায় ব্যক্তির স্বাতন্ত্র্য, রুচি, সামর্থ্য, আত্মবিকাশ ও ব্যক্তিসত্তার পূর্ণ প্রকাশকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া।আর-
এই মতবাদের মূল কথা হলো- "সমাজ ব্যক্তির জন্য, ব্যক্তি সমাজের জন্য নয়।" শিক্ষা এমন হবে যা প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত সম্ভাবনা ও গুণাবলিকে অবাধে বিকশিত হতে সাহায্য করবে। পেস্তালোৎসি, রুশো, ফ্রয়েবেল এবং টি. পি. নান ছিলেন এই লক্ষ্যের প্রধান সমর্থক।
ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের স্বপক্ষে যুক্তিঃ শিক্ষাবিদ টি. পি. নানের মতে, ব্যক্তিই সকল অগ্রগতির উৎস। ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের প্রধান স্বপক্ষে যুক্তিগুলি হলো-
•স্বভাবজাত ক্ষমতার বিকাশঃপ্রতিটি শিশুর নিজস্ব কিছু সুপ্ত প্রতিভা বা ঝোঁক থাকে। ব্যক্তিতান্ত্রিক শিক্ষা এই জন্মগত ক্ষমতার স্বাধীন বিকাশে সাহায্য করে।
•বংশগতি ও বৈচিত্র্যঃ বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে দুজন শিশু কখনো একরকম হয় না (Individual Differences)। ব্যক্তিতান্ত্রিক শিক্ষা এই ব্যক্তিবৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেয়।
•মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিঃশিশুকেন্দ্রিক শিক্ষার মূল ভিত্তি হলো শিশুর আগ্রহ, রুচি ও স্বাধীনতার ওপর নজর দেওয়া, যা ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের মাধ্যমেই সম্ভব।
•নতুন উদ্ভাবন ও প্রগতিঃ ইতিহাস সাক্ষী, সমাজের সমস্ত মহান আবিষ্কার ও চিন্তাভাবনা কোনো না কোনো ব্যক্তির স্বতন্ত্র চিন্তা থেকেই এসেছে। ব্যক্তি স্বাধীন হলে তবেই সমাজের প্রগতি ঘটে।
•স্বায়ত্তশাসন ও স্বাবলম্বিতাঃএই লক্ষ্য মানুষকে আত্মনির্ভরশীল ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলে।
•ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্যের ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা•
ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও এটি এককভাবে ত্রুটিমুক্ত নয়। কারণ-
•সামাজিক দায়িত্বহীনতাঃঅতিরিক্ত ব্যক্তি স্বাধীনতা মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর করে তুলতে পারে, ফলে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ কমে যায়।
•সামাজিক সংহতির অভাবঃ সমাজে বাস করতে গেলে কিছুটা ত্যাগ ও সমঝোতা প্রয়োজন। ব্যক্তিতান্ত্রিক লক্ষ্য অতিমাত্রায় প্রশ্রয় পেলে সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।
বাস্তবসম্মত নয়ঃ মানুষ জন্মগতভাবেই একটি সামাজিক জীব (Social Animal)। সমাজ ছাড়া ব্যক্তির অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব নয়।
• সম্পদের অপচয়ঃ প্রতিটি শিশুর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও বাস্তবভিত্তিক নয়।
শিক্ষার চরম ব্যক্তিতান্ত্রিক বা চরম সমাজতান্ত্রিক কোনো লক্ষ্যই এককভাবে সম্পূর্ণ নয়। তাই আধুনিক শিক্ষাবিদদের মতে, ব্যক্তি ও সমাজের সামঞ্জস্যপূর্ণ সমন্বয়ই হলো শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য।
Comments
Post a Comment