Skip to main content

সমাজতত্ত্ব ও নৃ-তত্ত্বের পার্থক্য।

সমাজতত্ত্ব ও নৃ-তত্ত্বের পার্থক্য (Differences between Sociology and Anthropology) পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার সমাজবিজ্ঞান মাইনর।

          আমরা জানি যে,সমাজতত্ত্ব এবং নৃ-তত্ত্ব (Anthropology) উভয়ই মানবসমাজ ও তাদের সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা করে।আর এদের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য থাকায় আলফ্রেড ক্রোয়েবার এদের "জমজ বোন" বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে বিষয়বস্তু, আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি ও গবেষণাপদ্ধতির ভিত্তিতে এদের মধ্যে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। আর সেই পার্থক্যগুলি হলো-

    ১)আলোচনার বিষয়বস্তু দিক থেকে সমাজতত্ত্ব প্রধানত আধুনিক, জটিল, শিল্পোন্নত এবং বৃহৎ সামাজিক সংগঠন ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে আলোচনা করে।কিন্তু -

      •নৃ-তত্ত্ব প্রধানত প্রাচীন, প্রাক-শিল্প, সরল ও অ-শিল্পোন্নত ছোট ছোট মানবগোষ্ঠী বা উপজাতিদের নিয়ে আলোচনা করে।

২)অধ্যয়নের পরিসরের নিরিখে সমাজতত্ত্বের পরিধি মূলতঃ মানুষের সামাজিক জীবন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।কিন্তু -

     •নৃ-তত্ত্ব কেবল সামাজিক জীবন নয়, বরং মানুষের দৈহিক উৎপত্তি, বিবর্তন, জৈবিক বৈশিষ্ট্য এবং সার্বিক সংস্কৃতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করে। |

    ৩) গবেষণা পদ্ধতিগত সমাজতত্ত্ব প্রধানত পরিসংখ্যান, জরিপ পদ্ধতি প্রশ্নমালা এবং ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে।কিন্তু-

       নৃ-তত্ত্ব প্রধানত প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণমূলক পর্যবেক্ষণ এবং নৃবিজ্ঞানসম্মত ক্ষেত্রসমীক্ষা ব্যবহার করে। 

   ৪) মূল শাখাগত দিক থেকে সমাজতত্ত্বের প্রধান শাখাগুলো হলো- রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ব, শিল্প সমাজতত্ত্ব, নগর সমাজতত্ত্ব ইত্যাদি।কিন্তু-

      নৃ-তত্ত্বের প্রধান তিনটি শাখা হলো- দৈহিক বা শারীরিক নৃ-তত্ত্ব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নৃ-তত্ত্ব এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নৃ-তত্ত্ব। 

    ৫) সময়ের দৃষ্টিভঙ্গিগত সমাজতত্ত্ব প্রধানত সমসাময়িক ও আধুনিক সামাজিক ঘটনা ও সমস্যার ওপর আলোকপাত করে।কিন্তু-

       •নৃ-তত্ত্ব সুদূর অতীত থেকে শুরু করে মানুষের সমগ্র বিবর্তন ও ইতিহাসকে অনুধাবন করার চেষ্টা করে। |

         পরিশেষে বলা যায় যে, সমাজতত্ত্ব ও নৃ-তত্ত্বের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের গবেষণার ক্ষেত্র ও পদ্ধতির ধরণ।তবে আধুনিক যুগে অবশ্য দুই শাস্ত্রের সীমান্ত অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে এসেছে; নৃ-বিজ্ঞানীরা যেমন আধুনিক শহর নিয়ে কাজ করছেন, তেমনি সমাজবিজ্ঞানীরাও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা করছেন। তবুও স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে এই পার্থক্যগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...