Skip to main content

কাজী নজরুল ইসলামের ভাঙার গান কবিতার প্রেক্ষাপট ও কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করে দেখাও।

কাজী নজরুল ইসলামের ভাঙার গান কবিতার প্রেক্ষাপট ও কবিতার মূলভাব বিশ্লেষণ করে দেখাও।

         আমরা জানি যে,কাজী নজরুল ইসলামের 'ভাঙার গান' কবিতাটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক জোরালো আহ্বান। আসলে এই কবিতার বিষয়বস্তু হলো বিদ্রোহ, মুক্তি এবং নতুন সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায়।আর সেই অভিপ্রায় থেকেই ভাঙার গান কবিতার অবতারণা। যেখানে আছে- 

১)বিদ্রোহের আহ্বান ও সুরঃ ভাঙার গান কবিতাটির মূল বিষয়বস্তু হলো বিদ্রোহ। কবি এই কবিতায় পুরোনো, জীর্ণ এবং পরাধীনতার প্রতীক সবকিছু ভেঙে ফেলার কথা বলেছেন।আসলে তিনি ব্রিটিশ শাসনের অধীনতা থেকে মুক্তির জন্য তরুণ সমাজকে বিপ্লবের পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।তাই তিনি আমাদের শোনান-                           "ঐ নতুনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়"                  আসলে এই পংক্তিটির মধ্যে দিয়ে কবি বিদ্রোহের প্রতীকী চিত্র তুলে ধরেছেন।আর সেখানে আছে-

২)পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার গানঃ আলোচ্য কবিতায় 'ভাঙার গান' বলতে এখানে ধ্বংসের মাধ্যমে সৃষ্টির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।আসলে ভালো করেই কবি বিশ্বাস করতেন যে,পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে না ফেললে নতুন স্বাধীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।তাই।                                                            তিনি ব্রিটিশদের তৈরি কারাগার, আইন, ও প্রথাকে ভেঙে ফেলার ডাক দিয়েছেন। আর সেই আহ্বানে তিনি বলেন যে-                                                                                             "ওরে আয় ওরে সব, ভাঙার গান গাই।"।                     এই পংক্তিটি পরাধীনতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেয়। পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই-

৩)ভয়ের বিরুদ্ধে নির্ভীকতাঃ আলোচ্য কবিতাটিতে কবি পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ভয়কে জয় করার কথা বলেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, বিপ্লব ও ভাঙনের খেলায় ভয় করলে চলবে না।তাই তিনি আস্বাস দেন-                                  "ভয় করিস না, ভাঙার গান গাই।"।                         এই কথাটি পরাধীন মানুষের মনে সাহস ও শক্তি জুগিয়েছিল।আর শক্তিতে আমরা দেখি-

৪) নতুন সমাজ গড়ার স্বপ্নঃ 'ভাঙার গান' কেবল ধ্বংসের কথা বলে না, বরং এর মধ্য দিয়ে নতুন সমাজ গড়ার স্বপ্নও প্রকাশ পেয়েছে। কবি পরাধীনতার শিকল ভেঙে একটি স্বাধীন, সুন্দর ও সমতার সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। তিনি পুরানো সব ভেঙে দিয়ে নতুনকে প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেছেন।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,'ভাঙার গান' কবিতাটি ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে এক জ্বালাময়ী প্রতিবাদ, যা বাঙালির মনে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়েছিল। শুধু তাই নয়, গানটি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার প্রেরণা দিয়েছিল।আর সেটি ছিল বিপ্লবের গান। যা কেবল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন নয়, বরং সকল প্রকার অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা গান। যে গান সকলকে,সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করতে সাহায্য করেছিল।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...