Skip to main content

কাকতালীয় দোষ কাকে বলে ও কখন ঘটে?

কাকতালীয় দোষ কাকে বলে ? কাকতালীয় দোষ কখন ঘটে (Post Hoc Ergo Propter Hoc) পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ দ্বাদশ শ্রেণী চতুর্থ সেমিস্টার দর্শন সিলেবাস)।

       যুক্তিবিজ্ঞানী মিল-এর পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মধ্যে 'ব্যতিরেকী পদ্ধতি' অপপ্রয়োগ করলে এই দোষ ঘটে। কারণ ও কার্যের মধ্যে কোনো আবশ্যিক বা প্রাসঙ্গিক সম্বন্ধ না থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র একটি ঘটনা অন্যটির আগে ঘটেছে বলেই যদি আগের ঘটনাটিকে পরের ঘটনাটির কারণ বলে গণ্য করা হয়, তবে তাকে কাকতালীয় দোষ বলে।সহজ কথায় বলা যায় যে-

      কোনো একটি ঘটনা (A) আগে ঘটেছে এবং অন্য একটি ঘটনা (B) পরে ঘটেছে—এই সাময়িক পারম্পর্য দেখে যদি ভুলবশত মনে করা হয় যে A হলো B-এর কারণ, তবেই এই দোষ হয়।

             কাকতালীয় দোষ কখন ঘটে? 

১)পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ হিসেবে গণ্য করলে: কোনো একটি কাকতালীয় পূর্ববর্তী ঘটনাকে (যা আসলে কারণ নয়) কারণ হিসেবে গ্রহণ করলে এই দোষ ঘটে।

২)ব্যতিরেকী পদ্ধতির অপপ্রয়োগ: যদি পরীক্ষাগারের বাইরে বাস্তব জীবনের অনিয়ন্ত্রিত কোনো ক্ষেত্রে দুটি ঘটনার সহ-উপস্থিতি দেখে একটিকে কারণ বলে দেওয়া হয়।

৩)প্রাসঙ্গিকতা বিচার না করলে: কারণ ও কার্যের মধ্যে কোনো অনিবার্য যুক্তিযুক্ত সম্পর্ক আছে কি না, তা বিচার না করলে।

     ‌একটি ধূমকেতু দেখা দিল এবং তার পরেই রাজার মৃত্যু হলো। সুতরাং, ধূমকেতুর আবির্ভাবই হলো রাজার মৃত্যুর কারণ।

ব্যাখ্যাঃএখানে 'ধূমকেতু দেখা দেওয়া' একটি পূর্ববর্তী ঘটনা এবং 'রাজার মৃত্যু' একটি পরবর্তী ঘটনা। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ধূমকেতুর সঙ্গে রাজার মৃত্যুর কোনো কার্য-কারণ সম্পর্ক নেই। এখানে শুধুমাত্র একটি ঘটনার পর অন্যটি ঘটেছে বলে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই এটি একটি কাকতালীয় দোষ।

                        মনে রাখার কৌশল

"কাকতালীয়" কথাটি এসেছে একটি লৌকিক প্রবাদ থেকে—একটি কাক তালগাছে বসল এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি তাল নিচে পড়ল। কাকটি বসা মাত্রই তালটি পড়ায় যদি কেউ মনে করে কাকটি বসার কারণেই তালটি পড়েছে, তবে সেটিই হবে ভুল। আসলে কাকের বসা ও তালের পড়া ছিল একটি সমাপতন বা Coincidence মাত্র।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

মনসামঙ্গল কাব্য।। মনসামঙ্গল কাব্য অবলম্বনে চাঁদ সওদাগরের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

মনসামঙ্গল কাব্য।। মনসামঙ্গল কাব্য অবলম্বনে চাঁদ সওদাগরের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মেজর ও মাইনর/কোর।       আলোচনা শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংযোজন হলো মনসামঙ্গল কাব্য।আর এই কাব্যের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র চাঁদ সওদাগর। মধ্যযুগীয় ভক্তিপ্রধান ও দেব-মহিমা প্রচারকারী কাব্যের ধারায় চাঁদ সওদাগর হলেন এক ব্যতিক্রমী বিদ্রোহী চরিত্র। তিনি দেবীর অনুগ্রহপ্রার্থী কোনো দুর্বল ভক্ত নন, বরং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, জেদি, কঠোর ব্যক্তিত্বের এক মানবরত্ন, যিনি ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের সামনেও নিজ সিদ্ধান্তে অবিচল ছিলেন। আসলে চাঁদ সওদাগর হলেন-         শিবভক্ত ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বণিক । চাঁদ সওদাগর ছিলেন চম্পক নগরের এক ধনী ও প্রভাবশালী বণিক। তিনি দেবদেবীর মধ্যে কেবল মহাদেব শিবের একনিষ্ঠ উপাসক ছিলেন। সমকালীন সমাজে যখন লৌকিক দেবী মনসার পূজা বিস্তার লাভ করছে, তখন চাঁদ সওদাগর নিজের আত্মসম্মান ও শিবভক্তির প্রতি অবিচল থেকে মনসাকে "কাণো হরিঝি" (একচোখে কানা...