Skip to main content

ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস দ্বিতীয় অধ্যায় 


পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ষষ্ঠ সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর (বা পূর্বতন CBCS কাঠামোর DSE পেপার, যেখানে ইউরোপের ইতিহাস পড়ানো হয়) পরীক্ষার জন্য **নেপোলিয়নের যুগ এবং তার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ (যেমন: ভিয়েনা সম্মেলন, মেটারনিখ ব্যবস্থা, ১৮৩০ ও ১৮৪৮-এর বিপ্লব)** অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্রের ধারা এবং সাজেশনের ওপর ভিত্তি করে এই অধ্যায়টি থেকে ৫ নম্বর (টীকা) এবং ১০ বা ১৫ নম্বরের (বড় প্রশ্ন) জন্য যে যে ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে প্রশ্নগুলো মান অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে:

## ১. নেপোলিয়নের যুগ (১০ বা ১৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন)

এই অংশ থেকে সাধারণত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন বেশি আসে।

 * **"নেপোলিয়ন কি ফরাসি বিপ্লবের সন্তান ছিলেন?"** (Was Napoleon a 'Child of the Revolution'?) — এটি WBSU-এর অন্যতম একটি ‘পেটেন্ট’ প্রশ্ন। এখানে বিপ্লবের আদর্শ রক্ষা এবং তা ধ্বংস করার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিতে হয়।

 * **শাসক হিসেবে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের অভ্যন্তরীণ সংস্কারগুলোর মূল্যায়ন করো। 'কোড নেপোলিয়ন'-এর গুরুত্ব লেখো।** (Discuss the internal reforms of Napoleon Bonaparte. What was the significance of Code Napoleon?)

 * **নেপোলিয়নের 'মহাদেশীয় ব্যবস্থা' বা অর্থনৈতিক অবরোধ নীতি আলোচনা করো। এই ব্যবস্থা তাঁর পতনের জন্য কতটা দায়ী ছিল?** (Analyze the Continental System of Napoleon. How far was it responsible for his downfall?)

 * **নেপোলিয়নের পতনের কারণসমূহ আলোচনা করো।** (Discuss the causes behind the downfall of Napoleon.)

### ৫ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন / টীকা:

 * **'কোড নেপোলিয়ন' (Code Napoleon)** বা ফরাসি আইন সংহিতা।

 * **কনকর্ডাট বা ধর্মীয় চুক্তি (Concordat of 1801):** পোপের সঙ্গে নেপোলিয়নের চুক্তি।

 * **স্পেনীয় ক্ষত (Spanish Ulcer):** কীভাবে স্পেন আক্রমণ তাঁর পতন ডেকে এনেছিল।

 * **পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy):** রাশিয়ার বিরুদ্ধে নেপোলিয়নের ব্যর্থ সামরিক অভিযান।

 * **শত দিবসের রাজত্ব (Hundred Days' Reign):** এলবা দ্বীপ থেকে ফিরে নেপোলিয়নের ১০০ দিনের শাসন।

## ২. নেপোলিয়ন-পরবর্তী ইউরোপ (১৮১৫ - ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দ)

নেপোলিয়নের পতনের পর ইউরোপের পুনর্গঠন এবং রক্ষণশীল বনাম উদারপন্থী শক্তির লড়াই থেকে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো আসে:

### ১০ বা ১৫ নম্বরের বড় প্রশ্ন:

 * **১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দের 'ভিয়েনা সম্মেলনের' মূল নীতি ও উদ্দেশ্যসমূহ আলোচনা করো। এই সম্মেলন ইউরোপে স্থায়িত্ব বজায় রাখতে কতটা সফল হয়েছিল?** (Evaluate the principles and impact of the Vienna Settlement of 1815.)

 * **'মেটারনিখ ব্যবস্থা' বা মেটারনিখ পদ্ধতি বলতে কী বোঝো? এই ব্যবস্থার পতনের কারণগুলো কী ছিল?** (What was the Metternich System? Why did it fail?)

 * **১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দের ফ্রান্সে 'জুলাই বিপ্লবের' কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো।** (Discuss the causes and consequences of the July Revolution of 1830.)

 * **১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দের 'ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের' কারণ ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো। একে 'ইউরোপের বিপ্লবের বছর' বলা হয় কেন?** (Account for the causes of the February Revolution of 1848.)

 * **ইউরোপীয় কনসার্ট বা 'ইউরোপীয় শক্তি সমবায়'-এর কার্যাবলী ও ব্যর্থতার কারণসমূহ লেখো।** (Discuss the working and failure of the Concert of Europe.)

### ৫ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন / টীকা:

 * **ভিয়েনা সম্মেলনের 'ন্যায্য অধিকার নীতি' (Principle of Legitimacy)** এবং **'শক্তির সাম্য নীতি' (Balance of Power)**।

 * **মেটারনিখ (Prince Metternich):** তাঁর রক্ষণশীল নীতি বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা।

 * **১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানির 'ফ্রাঙ্কফুর্ট পার্লামেন্ট' (Frankfurt Parliament)**।

 * **পবিত্র চুক্তি (Holy Alliance) ও চতুঃশক্তি চুক্তি (Quadruple Alliance)**।

## 💡 ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পরীক্ষার বিশেষ টিপস:

১. **উদ্ধৃতি ও ঐতিহাসিকদের মতামতের ব্যবহার:** ১০ বা ১৫ নম্বরের প্রশ্নের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক হ্যাজেন, ফিশার বা লেফেভরের মতো বিখ্যাত ঐতিহাসিকদের মন্তব্য (যেমন: "কোড নেপোলিয়ন চিরকাল বেঁচে থাকবে" বা "মহাদেশীয় ব্যবস্থা ছিল এক চরম মূর্খতা") উত্তরের মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।

২. **পয়েন্টভিত্তিক উপস্থাপনা:** মাইনর পেপারে ভালো নম্বর তোলার জন্য প্যারাগ্রাফ আকারে না লিখে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নির্দিষ্ট সাব-হেডিং এবং বুলেট পয়েন্ট দিয়ে লেখা উচিত।

পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে এবং নেপোলিয়নের যুগ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে আপনারা নেপোলিয়ন ও ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস আলোচনা ভিডিওটি দেখতে পারেন, যা এই অধ্যায়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সহজে বুঝতে সাহায্য করবে।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...