প্রাকৃতিক বিপর্যয় প্রতিরোধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ও কর্তব্য। পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সপ্তম শ্রেণী দ্বিতীয় সেমিস্টার।
আলোচনার শুরুতেই আমরা বলতে পারি যে, আমাদের চারপাশের প্রকৃতি যেমন আমাদের লালনপালন করে, তেমনই প্রকৃতির ভয়ংকররূপ কোন কোন সময়েই সমস্ত কিছু ধ্বংস করে দেয়। আর সেই তাণ্ডবলীলাকেই বলা হয় ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়’।তবে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, ভূমিকম্প বা ধসের মতো বিপর্যয়গুলো বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপন্ন করে দেয় মুহূর্তের মধ্যে ।এই কঠিন সময়ে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে ছাত্রসমাজ এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে আর এখানে আমরা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে পারি-
"এ সমাজকে বসবাসের যোগ্য করে তোলার দায়িত্ব নবজাতক তথা ছাত্রসমাজের।"
আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক এবং উপকূলবর্তী রাজ্য হওয়ার কারণে মাঝেমধ্যেই আমরা বন্যা, আমফান, ইয়াস মতো বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি। এছাড়া মাঝেমাঝে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতির এই তাণ্ডব দিন দিন বেড়েই চলেছে।তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে পুরোপুরি রোধ করা অসম্ভব হলেও, সঠিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এবং সচেতনতার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আমরা যদি প্রকৃতির এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটার আগেই প্রস্তুতি নিতে পারি তবে ক্ষতির সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে। আসলে এই সময়ে ছাত্রছাত্রীরা যে কাজগুলো করা ভীষণ দরকার, তাহলো-
• বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেখা দিলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষকে মাইক ফুঁকিয়ে বা সশরীরে গিয়ে সতর্ক করা।
• প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় নানা ভুল খবর বা গুজব ছড়ায়। ছাত্রসমাজ সঠিক ও বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার করে আতঙ্ক দূর করতে পারে।
• পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ কমাতে বেশি করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা।এ ছাড়াও এন.সি.সি, স্কাউট বা রেডক্রসের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধারকাজের মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে রাখা।
ছাত্রসমাজের ভূমিকাঃ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে এবং তার ঠিক পরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হলো ছাত্রসমাজের প্রধান ধর্ম ও কর্তব্য। আর সেই কর্তব্য পালনে ছাত্র সমাজকে এগিয়ে যা করতে হবে-
•ত্রাণ কার্ বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহীন মানুষের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা বয়স্ক, শিশু এবং অসুস্থ মানুষদের সকল প্রকার ভেদাভেদ ভুলে সেবাশুশ্রূষা করা। শুধু তাই নয়-
• বন্যার জল নেমে গেলে বা ঝড় থামলে এলাকা পরিষ্কার করা এবং জীবাণুনাশক ছড়ানোর কাজে প্রশাসনকে সাহায্য করা, যাতে মহামারী না ছড়ায়। সর্বস্ব হারানো মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেওয়া এবং তাদের নতুন করে বাঁচার মনোবল জোগানো।
পরিশেষে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি যে,ছাত্রসমাজ সমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত অংশ।যাদের অদম্য মানসিকতা, শৃঙ্খলা এবং সেবাবোধ যেকোনো বিপর্যয়কে জয় করতে শক্তি যোগায়। শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বিপদের দিনে সমাজের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। ছাত্রসমাজ যদি সংগঠিত হয়ে এগিয়ে আসে, তবে যেকোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে এনে এক সুন্দর ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। কবির ভাষায় বলা যেতে পারে-
"আমরা ছাত্র আমরা বল, আমরা ছাত্রদল।"
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •
Comments
Post a Comment