পঙক্তি ও প্রস্বর কাকে বলে?পঙক্তি ও প্রস্বরের স্বরূপ ও গুরুত্ব আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ সেমিস্টার বাংলা মেজর।।
•পঙ্ক্তিঃছন্দোবদ্ধ রচনার যে এক একটি একক বাক্য বা বাক্যাংশ নির্দিষ্ট ছন্দোলয় ও যতি-নিয়ম মেনে এক সারিতে বা লাইনে বিন্যস্ত হয়, তাকে পঙ্ক্তি বলা হয়। প্রচলিত সাধারণ ভাষায় যাকে আমরা 'চরণ' বা 'লাইন' বলি। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে- আধুনিক বাংলা ছন্দশাস্ত্রে প্রবোধচন্দ্র সেন ও অন্য গবেষকগণ তাকেই পরিভাষা হিসেবে ‘পঙ্ক্তি’ নামে চিহ্নিত করেছেন।অর্থাৎ -
এক বা একাধিক পর্ব নিয়ে গঠিত এবং চরণের শেষে দীর্ঘ যতি দ্বারা চিহ্নিত কবিতার এক-একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য বা লাইনকে পঙ্ক্তি বলে।
• পঙ্ক্তির স্বরূপ
১)বহিরঙ্গ রূপভঙ্গিঃ একটি পঙ্ক্তি মূলত কয়েকটি মূল পর্ব এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি অপপর্ব বা অতিপর্বের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে।
২)যতির অবস্থানঃ পঙ্ক্তির ভেতরের পর্বগুলোর মাঝে থাকে সূক্ষ্ম যতি (পর্ব-যতি) এবং পঙ্ক্তির শেষভাগে অবস্থান করে স্থূল যতি (পঙ্ক্তি-যতি বা পঙ্ক্তি-চ্ছেদ)।
৩) ছান্দসিক পূর্ণতাঃ একটি পঙ্ক্তি তার অভ্যন্তরীণ পর্বগুলোর সমন্বয়ে নির্দিষ্ট মাত্রাসংখ্যা ও লয় বজায় রেখে একটি স্বাধীন ভাব বা অর্থ ফুটিয়ে তোলে।
•পঙ্ক্তির গুরুত্ব
•ছন্দের রূপ নির্ধারণঃএকটি কবিতা দলবৃত্ত, কলাবৃত্ত না অক্ষরবৃত্ত—কোন ছন্দে রচিত, তা পঙ্ক্তির পর্ববিন্যাস ও মাত্রা গণনা দেখেই চেনা যায়।
•সংগীতময়তা ও লয় রক্ষাঃ পঙ্ক্তি কবিতার পাঠপ্রবাহ ও আবৃত্তির গতি বা লয়কে নিয়ন্ত্রণ করে।
•মিল সৃষ্টিঃ কবিতায় চরণান্তিক মিল (যেমন-ককখখ বা কখকখ) গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পঙ্ক্তির শেষ শব্দ ও ধ্বনি প্রধান ভূমিকা পালন করে।
২. প্রস্বরঃকবিতা বা বাক্য পাঠের সময়ে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা দলের ওপর শ্বাসবায়ুর বিশেষ ঝোঁক বা জোর দিয়ে উচ্চারণ করার প্রবণতাকে প্রস্বর বলা হয়।অর্থাৎ-
উচ্চারণের সময় কণ্ঠস্বরকে প্রখর ও স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে শব্দের কোনো বিশেষ দলের ওপর যে অতিরিক্ত শ্বাসঘাত বা বল প্রয়োগ করা হয়, ছন্দতত্ত্বে তাকে ‘প্রস্বর’ বলে।
•প্রস্বরের স্বরূপ
১(আঘাতজনিত স্পন্দনঃ প্রস্বর মূলত একটি ধ্বনিগত বিষয়। এটি উচ্চারণের সময় প্রবহমান বাতাসের প্রাবল্য ও স্বরযন্ত্রের বিশেষ চাপের ফলে সৃষ্টি হয়।
২) বাংলা ভাষায় অবস্থানঃ বাংলা ভাষায় শব্দোচ্চারণের সময় স্বাভাবিকভাবেই প্রস্বর বা স্বরাঘাত পড়ে শব্দের প্রথম দলে।
উদাহরণঃ‘বৃষ্টি’ শব্দটির ‘বৃ’এবং ‘টাপুর’ শব্দটির ‘টা’ এর ওপর স্বাভাবিক স্বরাঘাত বা প্রস্বর পড়ে (বৃষ্টি পড়ে টা পুর টুপুর’)।
৩)ছন্দভেদে প্রয়োগের বৈচিত্র্যঃ বাংলা ছন্দের তিন ধারার মধ্যে দলবৃত্ত ছন্দে (ছড়ার ছন্দে) প্রস্বরের উপস্থিতি সবচেয়ে তীব্র ও স্পষ্ট। কলাবৃত্ত ছন্দে তা মাঝারি এবং অক্ষরবৃত্ত ছন্দে প্রস্বরের প্রাবল্য অত্যন্ত কম বা প্রায় অনুচ্চারিত থাকে।
• প্রস্বরের গুরুত্ব
•দলবৃত্ত ছন্দের মূল ভিত্তি: বাংলা ছড়ার ছন্দ বা দলবৃত্ত ছন্দের প্রধান প্রাণশক্তিই হলো প্রস্বর বা বলপ্রধান স্বরাঘাত। এই প্রস্বরের জন্যই দলবৃত্ত ছন্দে দ্রুত গতি ও দোলা সৃষ্টি হয়।
•পর্বের প্রারম্ভ নির্দেশ:বাংলা ছন্দে সাধারণত প্রতিটি পর্বের প্রথম দলে প্রস্বর পড়ে। ফলে প্রস্বর পর্বের সূচনাকে স্পষ্ট করে তুলতে সাহায্য করে।
•আবৃত্তি ও ভাবের গভীরতা: সঠিক প্রস্বরের ব্যবহার কবিতার ছন্দকে যান্ত্রিক হতে দেয় না; বরং আবৃত্তিতে এক ধরনের অমিত্রাক্ষর দোলা ও নাট্যগুণ এনে দেয়, যা কবিতার শ্রুতিমাধুর্য বাড়ায়। মোট কত হলো -
পঙ্ক্তি কবিতার বাহ্যিক কাঠামো ও লাইন গঠন।পর্ব ও যতির সমন্বয়ে গঠিত চরণের একক। আর প্রস্বর ছন্দের ভেতরের দোলা ও লয়ের স্পন্দন তৈরি। | শব্দের প্রথম দলে দেওয়া শ্বাসজনিত প্রাবল্য বা ঝোঁক।আর ছন্দশাস্ত্রে পঙ্ক্তি হলো কবিতার কঙ্কাল বা বাহ্যিক অবয়ব, আর প্রস্বর হলো তার অভ্যন্তরের ছন্দোস্পন্দন ও প্রাতিস্বিক চরিত্র।।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা টিউটোরিয়াল ক্লাস এবং সাজেশন ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 •
Comments
Post a Comment