পরীক্ষায় **৫ নম্বরের** প্রশ্নের জন্য সঠিক কাঠামো বজায় রেখে উত্তর লেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) মান অনুযায়ী একটি আদর্শ উত্তর প্রস্তুত করে দেওয়া হলো:
### **প্রশ্ন: ‘ওহে নবমী-নিশি, না হইও রে অবসান’ — পংক্তিটির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এর অন্তর্নিহিত ভাব সৌন্দর্য ও কাব্যিক তাৎপর্য আলোচনা করো। (মান: ৫)**
#### **উৎস ও প্রসঙ্গ:**
উদ্ধৃত পদ্যাংশটি শাক্ত পদাবলীর অন্যতম প্রধান সাধক কবি **কমলাকান্ত ভট্টাচার্য** রচিত বিজয়া পর্যায়ের এক কালজয়ী পদ থেকে গৃহীত।
বাংলা সাহিত্যের শাক্ত পদাবলীতে পৌরাণিক কাহিনীকে কেন্দ্র করে যে লৌকিক ও সামাজিক চিত্র ফুটে উঠেছে, তার একটি করুণ ও রসঘন প্রকাশ ঘটেছে এই পংক্তিটিতে। শরৎকালের দুর্গাপূজার তিন দিন বাপের বাড়িতে কাটানোর পর দশমীর প্রাতে উমাকে আবার স্বামী শিবের গৃহ কৈলাসে ফিরে যেতে হবে। নবমীর রাত শেষ হওয়া মানেই বিদায়ের বার্তা। তাই উমার মা মেনকা ব্যাকুল হৃদয়ে নবমীর রাত বা ‘নবমী-নিশি’র কাছে অনুনয় করছেন যেন সেই রাত আর শেষ না হয়।
#### **ভাব সৌন্দর্য ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য:**
**১. সময়কে থমকে দেওয়ার আকুতি:**
বাস্তব জীবনে সময় অপ্রতিরোধ্য, তাকে থামানো সম্ভব নয়। কিন্তু বাৎসল্য রসে অন্ধ মা মেনকা প্রাকৃতিক নিয়মকে অস্বীকার করে নবমী-নিশিকে থমকে দাঁড়াতে অনুরোধ করছেন। মায়ের যুক্তি হলো—রাত শেষ না হলে সকাল হবে না, আর সকাল না হলে উমাকেও শ্বশুরবাড়িতে বিদায় দিতে হবে না। মায়ের এই অসম্ভব ইচ্ছা প্রকৃতপক্ষে সন্তান বিচ্ছেদের ভয়ে কাতর এক চিরন্তন মাতৃহৃদয়ের অসহায়তাকে প্রকাশ করে।
**২. দেবত্বের লৌকিকীকরণ ও বাৎসল্য রস:**
এখানে দেবী উমা বা পার্বতী কেবল কোনো অলৌকিক শক্তি নন, তিনি বঙ্গগৃহের এক বালিকাবধূ। আর মেনকা হলেন এক সাধারণ বাঙালি মা। শাক্ত কবিরা পৌরাণিক দেব-দেবীকে বাঙালির ঘরে এনে সাধারণ সমাজচিত্র এঁকেছেন। বিদায়বেলায় মায়ের বুদ্বুদসম কান্না ও হাহাকার এখানে মুখ্য হয়ে উঠেছে, যা পদটিকে **করুণ ও বাৎসল্য রসে** সিক্ত করেছে।
**৩. সামাজিক সত্যের প্রতিফলন:**
তৎকালীন বঙ্গসমাজে বালিকাবধূকে দূরদেশে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর মায়েরা সারাবছর অপেক্ষা করতেন। উমার মধ্য দিয়ে তৎকালের সমস্ত বাঙালি কন্যার এবং মেনকার মধ্য দিয়ে চিরন্তন বাঙালি মায়ের বিরহবেদনা মূর্ত হয়ে উঠেছে।
#### **উপসংহার:**
পরিশেষে বলা যায়, বাস্তব ও কল্পনার মেলবন্ধনে কবির এই পদটি কেবল দেবীর বিদায়গাথা নয়, এটি সর্বকালের মাতৃহৃদয়ের শাশ্বত আকুলতার এক অপূর্ব দলিল। তাই বিজয়া পর্যায়ের কবি-কৃতিত্ব বিচারে এবং মানবীয় অনুভূতির প্রকাশের দিক থেকে পংক্তিটি কালজয়ী মর্যাদা লাভ করেছে।
Comments
Post a Comment