পটলবাবু ফিল্মস্টার।।সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘পটলবাবু, ফিল্মস্টার’ গল্পের মূল বিষয়বস্তু আলোচনা করো।সপ্তম শ্রেণি।
বিখ্যাত সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের লেখা 'পটলবাবু, ফিল্মস্টার' গল্পটির মূল বিষয়বস্তু হলো-কাজের প্রতি নিষ্ঠা, শিল্পীসত্তা এবং আত্মমর্যাদাবোধ। এটি কেবল একজন মানুষের গল্প নয়, বরং একাধিক চরিত্রের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শিল্প ও বাস্তব জীবনের এক অনন্য দলিল।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র পটলবাবু একসময় অপেশাদার নাট্য অভিনেতা ছিলেন। সংসার চালনার তাগিদে তিনি অভিনয় থেকে দূরে সরে যান। প্রতিবেশী নিশিকান্তবাবুর মাধ্যমে নরেশ দত্তের সঙ্গে পরিচয় হলে, পটলবাবু চলচ্চিত্রে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পায়।
শুটিং সেটে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, নায়ক চঞ্চল কুমারের সাথে একটি ধাক্কা খাওয়ার দৃশ্যে তাকে কেবল একটি শব্দ—"আঃ!" বলতে হবে। কোনো সংলাপ না থাকায় তিনি প্রথমে হতাশ হন। কিন্তু ঠিক তখনই তার মনে পড়ে প্রয়াত নাট্যগুরু গগন পাকড়াশীর অমর বাণী—"কোনো কাজ বা চরিত্রকেই ছোট মনে করতে নেই।"
গুরুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পটলবাবু ওই একটি শব্দকেই বিভিন্ন আবেগে মহড়া দিয়ে নিখুঁত করে তোলেন। পরিচালক প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায় এবং নায়ক চঞ্চল কুমারের সাথে দৃশ্যটি এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলেন যে সেটের সবাই তার অভিনয়ের প্রশংসা করেন।
শুটিং শেষে নরেশ দত্ত তাকে পারিশ্রমিক দেওয়ার আগেই পটলবাবু নীরবে সেট ছেড়ে চলে যান। কারণ, সামান্য কয়েক টাকার চেয়ে নিজের কাজের নিখুঁত আত্মতৃপ্তি এবং শিল্পী হিসেবে আত্মসম্মান বজায় রাখা তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, কাজের আয়তন যা-ই হোক না কেন, আন্তরিকতা ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজের সেরাটা দেওয়াই হলো আসল সফলতা-এটাই গল্পটির মূল প্রতিপাদ্য।
পটলবাবু ফিল্মস্টার গল্পের প্রধান চরিত্র পটলবাবু একসময় নাটকের পোকা ছিলেন।কিন্তু সাংসারিক দায়িত্ব ও জীবনের টানাপোড়েনে তাকে অভিনয়ের জগৎ থেকে সরে আসতে হয়। আচমকা একদিন তিনি চলচ্চিত্রে একটি ছোট্ট দৃশ্য বা 'ওয়াক-অন' চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।যেখানে-
শুটিং স্পটে গিয়ে পটলবাবু জানতে পারেন তার কোনো সংলাপ বা ডায়লগ নেই, কেবল একটি শব্দ বলতে হবে "আঃ!"। সামান্য এই চরিত্র দেখে তিনি প্রথমে হতাশ হয়ে পড়েন।তবে-
নাটকের এক পুরোনো গুরুর উপদেশ মনে পড়ে তার "কখনো কোনো কাজকে ছোট মনে করবে না।" পটলবাবু নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং ওই একটি শব্দ "আঃ!"-কেই বিভিন্ন আবেগ ও ভঙ্গিতে বারবার মহড়া দিয়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলেন।সেখানে-
পরিচালক ও শটের প্রধান অভিনেতার সাথে তিনি এত সুন্দরভাবে দৃশ্যটি শেষ করেন যে পরিচালকের প্রশংসা পান। অভিনয় শেষ করে টাকার বিনিময় না নিয়েই পটলবাবু নীরবে স্থান ত্যাগ করেন। কারণ তার কাছে পারিশ্রমিকের চেয়ে নিজের কাজের নিখুঁত আত্মতৃপ্তি ও শিল্পীর সম্মান অনেক বড় ছিল।আসলে-
কাজের পরিধি বা আকার যা-ই হোক না কেন, নিষ্ঠা ও ভালোবাসার সাথে নিজের সেরাটা দেওয়াই হলো আসল সফলতা। প্রকৃত শিল্পী অর্থের চেয়ে কাজের আত্মতৃপ্তিকেই বেশি প্রাধান্য দেন। মোটকথা হলো-একজন সাধারণ মানুষের শিল্পপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং নিজের কাজের প্রতি আন্তরিকতা গল্পের মূল বিষয়।
Comments
Post a Comment