Skip to main content

বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে নারী,অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারী,আইন অমান্য আন্দোলনে নারীর ভূমিকা লেখো।

১) বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে নারীর ভূমিকা আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, দশম শ্রেণির ইতিহাস।

     ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাংলায় যে স্বদেশি ও বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন।আর সেই আন্দোলন আমরা দেখি-

    •প্রথমত, নারীরা বিদেশি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহারের প্রচার করেন।

     •দ্বিতীয়ত, তাঁরা বিদেশি কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী বর্জন করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি দ্রব্য পোড়ানোর কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

    •তৃতীয়ত, সরলা দেবী চৌধুরাণী, বাসন্তী দেবী প্রমুখ নারী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা প্রসারে সাহায্য করেন।

    •চতুর্থত, নারীরা ঘরে ঘরে স্বদেশি আন্দোলনের আদর্শ প্রচার করেন এবং জাতীয় শিক্ষার প্রসারেও সহযোগিতা করেন।

      পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনে নারীশক্তির জাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

•অথবা•বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে নারীর ভূমিকা আলোচনা করো। (মান - ৫)

          ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সমগ্র বাংলায় যে স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনের সূচনা হয়, তাতে বাংলার নারীসমাজ অন্তঃপুর ছেড়ে বেরিয়ে এসে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সাধারণ নারীদের এই গণ-অংশগ্রহণ আন্দোলনটিকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করে।আর সেখানে আমরা দেখতে পাই-

     ১) রাখীবন্ধন ও অরন্ধন পালন।১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৬ই অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকরের দিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নারীরা ভাইদের হাতে 'রাখী' বেঁধে দেন। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার গৃহিণীরা ঘরে ঘরে চুলো না জ্বালিয়ে 'অরন্ধন' পালন করেন, যা জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠে।

     ২) স্বদেশী ও বয়কট আন্দোলনে সহায়তা।নারীরা বিদেশী চুড়ি, রেশমি শাড়ি ও লবণ বর্জন করেন এবং চরকায় সুতো কেটে স্বদেশী বস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করেন। অনেক নারী নিজের অলঙ্কার বিসর্জন দিয়ে স্বদেশী তহবিলে অর্থ দান করেন।

      ৩)লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও লক্ষ্মীর ব্রতকথা।সরলাদেবী চৌধুরানী স্বদেশী পণ্যের বিক্রি ও প্রচারের জন্য 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' স্থাপন করেন। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী 'বঙ্গলক্ষ্মীর ব্রতকথা' রচনা করেন, যা নারীদের মধ্যে স্বদেশী ভাবধারা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

      ৪) সভা-সমিতি ও পিকেটিং।কুমুদিনী মিত্র, লীলাবতী মিত্র, সুবর্ণপ্রভা বোস প্রমুখ নারী নেতৃবৃন্দ সভা-সমিতির আয়োজন করেন এবং বিদেশী পণ্যের দোকানের সামনে পিকেটিং পরিচালনায় অংশ নেন। বরিশাল ও ময়মনসিংহে নারী সমবায় ও সমিতি গঠিত হয়।

     ৫) ফ্রঠবিপ্লবীদের আশ্রয় ও সহায়তা।বহু নারী প্রত্যক্ষ রাজনীতির বাইরে থেকে গোপন বিপ্লবী দলগুলিকে (যেমন—অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর) আশ্রয় দান, অস্ত্র গোপন রাখা এবং বার্তা আদান-প্রদানে সাহায্য করতেন।

       বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ মূলত উচ্চ ও মধ্যবিত্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গ্রামবাংলা ও নিম্নবর্গীয় সাধারণ নারীদের মধ্যে এই আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি।

      তবে কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন বাংলার নারীদের গৃহকোণ থেকে রাজনৈতিক ময়দানে নিয়ে আসে। এই আন্দোলনের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণের ভিত তৈরি করেছিল।

২) অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারীর ভূমিকা আলোচনা করো।

       আমরা জানি যে,১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে ভারতের নারীরাও ব্যাপকভাবে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।যেখানে আমরা দেখি-

  • প্রথমত, নারীরা বিদেশি বস্ত্র ও পণ্য বর্জন করেন এবং স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহারে উৎসাহ দেন।

  • দ্বিতীয়ত, তাঁরা চরকা কাটতেন এবং খাদি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বদেশি আন্দোলনকে শক্তিশালী করেন।

    •তৃতীয়ত, বহু নারী মদের দোকান ও বিদেশি কাপড়ের দোকানের সামনে শান্তিপূর্ণ পিকেটিং করেন।

  •  চতুর্থত, সরোজিনী নাইডু, বাসন্তী দেবী, উর্মিলা দেবী প্রমুখ নারী নেত্রী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

     সবশেষে বলা যায় যে, অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভারতীয় জাতীয় আন্দোলনকে গণআন্দোলনের রূপ দিতে বিশেষ সাহায্য করেছিল।৩) আইন অমান্য আন্দোলনে নারীর ভূমিকা আলোচনা করো।

•অথবা•অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে নারীর ভূমিকা আলোচনা করো। 

       ১৯২০-২২ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত অহিংস অসহযোগ আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বাংলার পাশাপাশি সমগ্র ভারতের নারীসমাজের বিপুল সংখ্যায় স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। গান্ধীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে নারীরা গৃহকোণ ছেড়ে রাজনৈতিক ময়দানে অবতীর্ণ হন।আর সেখানে -

      ১. তিলক স্বরাজ তহবিল ও অর্থ সংগ্রহ।আন্দোলন পরিচালনার জন্য গঠিত 'তিলক স্বরাজ তহবিল'-এ নারীরা বিপুল উৎসাহে অর্থ দান করেন। বহু নারী নিজেদের অলঙ্কার ও মূল্যবান সম্পত্তি এই তহবিলে নিঃসংকোচে তুলে দেন।

      ২. বিদেশী পণ্য বর্জন ও চরকা কাটা।গান্ধীজীর স্বদেশী ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে নারীরা বিদেশী বস্ত্র ও পণ্য বর্জন করেন। তাঁরা ঘরে ঘরে চরকা কেটে খাদি বস্ত্র উৎপাদন শুরু করেন এবং তা পরতে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করেন।

      ৩. পিকেটিং ও প্রচার কার্য।কলিকাতা ও বাংলার অন্যান্য অঞ্চলে নারীরা বিদেশী কাপড়ের দোকান এবং মদের দোকানের সামনে পিকেটিং করেন। বাসন্তী দেবী, উর্মিলা দেবী, সুনীতি দেবী প্রমুখের নেতৃত্বে নারীরা রাস্তায় নেমে দেশীয় বস্ত্র বিক্রির প্রচার চালান।

     ৪. মিছিল, সভা ও নারী নেতৃত্ব।দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের স্ত্রী বাসন্তী দেবী, বোন উর্মিলা দেবী এবং ভাগিনী সুনীতি দেবী এই আন্দোলনে বাংলায় অগ্রণী ভূমিকা নেন। তাঁরা রাস্তায় মিছিল বের করেন এবং গ্রেফতার বরন করেন। তাঁদের গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনে অভাবনীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া গুজরাটে কস্তুরবা গান্ধী, উত্তরপ্রদেশে স্বরূপরাণী নেহরু ও কমলা নেহরু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

     ৫. নারী সংগঠন গড়ে তোলা।আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে বাসন্তী দেবীর সভাপতিত্বে 'নারী কর্ম মন্দির' গঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে নারী কর্মীদের রাজনীতি ও স্বদেশী আন্দোলনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

       অসহযোগ আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপক হলেও তা মূলত শহর কেন্দ্রিক এবং উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যেই বেশি দেখা গিয়েছিল। গ্রামীণ ও নিম্নবর্গীয় নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

       সমস্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, অহিংস অসহযোগ আন্দোলন নারীদের রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়। আন্দোলন দমন করতে ব্রিটিশ সরকারের পুলিশি নির্যাতন সত্ত্বেও নারীদের এই দৃঢ় অবস্থান পরবর্তীকালে আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীসমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করেছিল।

৩)আইন অমান্য আন্দোলনে নারীর ভূমিকা  লেখো।

      ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হলে ভারতের নারীরা অভূতপূর্বভাবে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

   •প্রথমত, নারীরা লবণ আইন ভঙ্গ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং বেআইনিভাবে লবণ প্রস্তুত করেন।

    •দ্বিতীয়ত, তাঁরা বিদেশি কাপড় ও মদের দোকানের সামনে পিকেটিং করেন।

    •তৃতীয়ত, সরোজিনী নাইডু গান্ধিজির আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন এবং বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

    •চতুর্থত, কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়সহ বহু নারী আইন অমান্য করে আন্দোলনকে শক্তিশালী করেন এবং অনেকেই কারাবরণ করেন।

      পরিশেষে বলা যায় যে, আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীশক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পরিচয় বহন করে।

অথবা• আইন অমান্য আন্দোলনে নারীর ভূমিকা আলোচনা করো। (মান - ৫)

     ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে পরিচালিত আইন অমান্য আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই আন্দোলনে ভারতের নারীসমাজের অংশগ্রহণ পূর্বের সমস্ত গণ-আন্দোলনের রেকর্ড ভেঙে দেয়। অহিংস সত্যাগ্রহ থেকে শুরু করে সশস্ত্র বিপ্লবী কার্যকলাপ-উভয় ধারাতেই নারীরা এই সময় সাহসিকতার পরিচয় দেন।

১. লবণ সত্যগ্রহ ও ডান্ডি অভিযান।মহাত্মা গান্ধীর ডান্ডি অভিযানের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হলে নারীরা বিপুল সংখ্যায় উপকূলবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রের জল ফুটিয়ে আইন অমান্য করে লবণ তৈরি করেন। বোম্বাই, গুজরাট ও বাংলায় হাজার হাজার নারী লবণ অভিযানে অংশ নেন।

২. ধরাসনা লবণ গোলা আক্রমণ।১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে গুজরাটের ধরাসনায় লবণ গোলা আক্রমণের সময় বিশিষ্ট নেত্রী সরোজিনী নাইডু প্রধান নেতৃত্ব দেন। পুলিশি লাঠিচার্জের মুখে তাঁর নেতৃত্বে নারীদের অহিংস ও দৃঢ় প্রতিরোধ আন্দোলনটিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি দেয়।

৩. নারী সংগঠন ও সত্যাগ্রহ।বাংলায় আন্দোলনের প্রচার ও নারীসমাজকে সংগঠিত করতে লতিকা ঘোষের নেতৃত্বে 'মহিলা জাতীয় সংঘ' এবং বাসন্তী দেবী ও উর্মিলা দেবীর উদ্যোগে 'নারী সত্যাগ্রহ সমিতি' (১৯৩০) গঠিত হয়। এই সমিতিগুলির মাধ্যমে নারীরা মিছিল, মিটিং এবং বিদেশি দ্রব্যের দোকানের সামনে পিকেটিং পরিচালনা করতেন।

৪. পিকেটিং ও বিদেশি পণ্য বর্জন।নারীরা সাহসিকতার সঙ্গে বিলিতি কাপড়ের দোকান ও মদের দোকানের সামনে পিকেটিং করেন। ইন্দুমতী গোয়েঙ্কা, কমলা নেহরু, কস্তুরবা গান্ধী, সরূপরাণী নেহরু প্রমুখ নেত্রীবর্গ রাজপথে নেমে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

৫. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের যোগদান।আইন অমান্য আন্দোলনের সমসাময়িককালে বাংলার নারীরা গোপন সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনেও অংশ নেন-

      প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার সূর্য সেনের নির্দেশে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের 'পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব' আক্রমণ করেন এবং বীরের মতো আত্মাহুতি দেন।কল্পনা দত্ত, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও বিপ্লবী কার্যাবলীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। বীণা দাস,১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে বাংলার গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে গুলি করেন।এছাড়াও শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী: কুমিল্লায় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্সকে গুলি করে হত্যা করেন।

        আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপক হলেও এই আন্দোলনে মূলত শহরকেন্দ্রিক, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীদের উপস্থিতি বেশি ছিল। তা ছাড়া বিপ্লবী ধারায় নারীদের অংশগ্রহণ প্রধানত বাংলার মধ্যেই বেশি সীমাবদ্ধ ছিল।

         সমস্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, আইন অমান্য আন্দোলনে নারীদের এই ব্যাপক ও সাহসিকতাপূর্ণ রাজনৈতিক পদার্পণ তাঁদের সামাজিক মর্যাদাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গৃহকোণ থেকে বেরিয়ে শত শত নারী কারাবরণ করেন, যা পরবর্তীতে ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনে নারীদের আরও বড় ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করেছিল।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.





Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...