শিক্ষার লক্ষ্য।।শিক্ষার বিভিন্ন রূপ গুলি কি কি? প্রথাগত/ নিয়ন্ত্রিত/বিধিবদ্ধ শিক্ষা কাকে বলে ? প্রথাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধগুলি আলোচনা করো।
শিক্ষার লক্ষ্য।।শিক্ষার বিভিন্ন রূপ গুলি কি কি? প্রথাগত/ নিয়ন্ত্রিত/বিধিবদ্ধ শিক্ষা কাকে বলে ? প্রথাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য ও সীমাবদ্ধগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।
১) শিক্ষার বিভিন্ন রূপ (Forms of Education)।
আমরা জানি যে,শিক্ষা একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। আর সেখানে নিয়ন্ত্রণের কঠোরতা, প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং পরিচালনার পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে শিক্ষাবিদগণ শিক্ষাকে প্রধানত তিনটি রূপ বা ভাগে বিভক্ত করেছেন। আর সেই ভাগ গুলি হলো-
• প্রথাগত বা বিধিবদ্ধ শিক্ষা (Formal Education)। সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও কাঠামোর মাধ্যমে বিদ্যালয় বা কলেজে প্রদত্ত শিক্ষা।
• প্রথা-বহির্ভূত শিক্ষা (Non-Formal Education)। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে নমনীয় নিয়মে পরিচালিত শিক্ষা (যেমন: দূরশিক্ষা বা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
• অনিয়ন্ত্রিত বা অবিন্যস্ত শিক্ষা (Informal Education)। কোনো নিয়ম বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সমাজ, পরিবার ও পরিবেশ থেকে জীবনজুড়ে অর্জিত স্বতঃস্ফূর্ত শিক্ষা।
•প্রথাগত / নিয়ন্ত্রিত / বিধিবদ্ধ শিক্ষাঃ যে শিক্ষা ব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, পূর্ব-নির্ধারিত পাঠ্যক্রম, নিয়মকানুন এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মাধ্যমে পরিচালিত হয় এবং যার শেষে উপযুক্ত মূল্যায়ন ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়, তাকে প্রথাগত বা বিধিবদ্ধ শিক্ষা বলে।উদাহরণ হিসেবে আমরা বলতে পারি যে- বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গৃহীত সাধারণ শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষা।
•প্রথাগত শিক্ষার বৈশিষ্ট্য-
•সুনির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত উদ্দেশ্যঃপ্রথাগত শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থাকে সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি, জাতীয় বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা।
• নির্দিষ্ট স্থান ও পরিবেশঃএই শিক্ষা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর (যেমন- ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি) মধ্যে সম্পন্ন হয়।
• সুনির্দিষ্ট পাঠ্যক্রমঃ শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক সক্ষমতা বিবেচনা করে তৈরি একটি নির্দিষ্ট পাঠ্যসূচি অনুসরণ করা হয়, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা বাধ্যতামুলক।
• কঠোর নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলাঃনির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসে উপস্থিতি, নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা, পোশাকের নিয়ম ইত্যাদি কঠোরভাবে বজায় রাখা হয়।
• পেশাদার ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকঃ এই শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠদানের জন্য সরকার বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা স্বীকৃত ডিগ্রিধারী ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়।
• নিয়মিত মূল্যায়ন ও ডিগ্রি প্রদানঃ পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা (Exam) ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পরিমাপ করা হয় এবং সফলতার ভিত্তিতে সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি দেওয়া হয়।
• বয়স ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগঃ সাধারণত নির্দিষ্ট বয়সের শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি করা হয় এবং ক্রমান্বয়ে উপরের শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়।
••প্রথাগত শিক্ষার সীমাবদ্ধতা-
• অনমনীয়তাঃ অতিরিক্ত নিয়মকানুন, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং কঠোর কাঠামোর কারণে এই শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর বা অনমনীয়।
• স্বাতন্ত্র্য ও সৃজনশীলতার অভাব: প্রতিটি শিক্ষার্থীর শেখার গতি ও বুদ্ধি আলাদা। কিন্তু প্রথাগত শিক্ষায় সবাইকে একই ছাঁচে ঢালার চেষ্টা করা হয়, যা ব্যক্তিগত সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
• পুঁথিগত জ্ঞান প্রাধান্যঃ এই শিক্ষায় তত্ত্ব ও পুঁথিগত বিদ্যার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। ফলে অনেক সময় বাস্তব জীবনভিত্তিক ও ব্যবহারিক দক্ষতার অভাব থেকে যায়।
• অতিরিক্ত মানসিক চাপঃ পরীক্ষা কেন্দ্রিক হওয়ায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ওপর ফল ভালো করার এক ধরণের অতিরিক্ত মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হয়।
• ব্যয়বহুলতাঃ আধুনিক অবকাঠামো, শিক্ষক ও শিক্ষাসামগ্রীর খরচের কারণে প্রথাগত শিক্ষা বেশ ব্যয়বহুল, যা সমাজের নিম্নবিত্ত মানুষের পক্ষে সবসময় গ্রহণ করা সম্ভব হয় না।
• সর্বজনীনতার সীমাবদ্ধতাঃ কঠোর নিয়মকানুন ও সময়ের বাধ্যবাধকতার কারণে ঝরে পড়া (Drop-out) শিক্ষার্থী বা কর্মরত মানুষের পক্ষে এই শিক্ষায় যুক্ত থাকা কঠিন হয়।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.
Comments
Post a Comment