জোট রাজনীতি।।ভারতের জোট রাজনীতির প্রধান সুবিধা ও অসুবিধাগুলি বিস্তারিত আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সপ্তম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।
ভারতের জোট রাজনীতি (Coalition Politics) দেশের রাজনৈতিক ও শাসন ব্যবস্থায় যেমন বহুত্ববাদ ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছে, তেমনি সরকারের স্থায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।আর সেখানে-
•জোট রাজনীতির সুবিধা•
•জনপ্রতিনিধিত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতিফলনঃভারত একটি বিশাল এবং বহুমাত্রিক দেশ। জোট রাজনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চল, ভাষা, জাতি ও ক্ষুদ্র সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জাতীয় রাজনীতিতে মূলধারার অংশ হওয়ার সুযোগ পায়।
•স্বৈরাচারী মনোভাব রোধঃ একক দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে সরকার অনেক সময় একচ্ছত্র বা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জোট সরকারে শরিকদের উপস্থিতি সরকারকে সংযত ও দায়িত্বশীল রাখতে সাহায্য করে।
•ঐক্যমত্যের রাজনীতিঃ যেকোনো বড় নীতি বা বিল পাসের ক্ষেত্রে সমস্ত শরিক দলের সাথে আলোচনার প্রয়োজন হয়। এর ফলে যেকোনো সিদ্ধান্ত আরও পরিপক্ক ও গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠে।
•আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাসঃ আঞ্চলিক দলগুলি কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ হওয়ায় তাদের নিজ নিজ রাজ্যের উন্নয়ন, আর্থিক অনুদান এবং দাবি-দাওয়া কেন্দ্রীয় নীতিতে অগ্রাধিকার পায়।
•বিরোধী দলগুলির কার্যকর উপস্থিতিঃ বিরোধী মতামত সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটে।
•জোট রাজনীতির অসুবিধা•
• সরকারের স্থায়িত্বহীনতাঃছোট বা আঞ্চলিক শরিক দলগুলি যেকোনো সময় তাদের দাবি না মানলে সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার হুমকি দেয়। ফলে সরকার পড়ে যাওয়ার বা ঘনঘন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
•সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি ও নীতিগত পক্ষাঘাতঃ জাতীয় নীতি, অর্থনৈতিক সংস্কার বা পররাষ্ট্রনীতির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে শরিক দলগুলির ভিন্ন মত থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রচণ্ড দেরি হয়।
• সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও ক্ষমতার ব্ল্যাকমেইলঃঅনেক ক্ষেত্রে শরিক দলগুলি জাতীয় স্বার্থের চেয়ে নিজস্ব দলীয় বা আঞ্চলিক স্বার্থকে বড় করে দেখে এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক বা সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্লাকমেইল করে।
•সিদ্ধান্ত গ্ৰহনের সমস্যাঃসংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের মতো প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাঁকে প্রতি পদক্ষেপে শরিক নেতাদের মন জুগিয়ে চলতে হয়।
•অর্থনৈতিক অপচয়ঃ সরকারের স্থায়িত্ব কম হলে বারবার নির্বাচন বা উপ-নির্বাচনের প্রয়োজন হয়, যা দেশের রাজকোষের ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা তৈরি করে।
জোট রাজনীতি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর বহুত্ববাদকে শক্তিশালী করলেও, সুশাসনের জন্য জোটের ভেতরে সুসংহত নীতি ও শরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণের অভাব প্রায়শই বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.
Comments
Post a Comment