ফলিত নীতিশাস্ত্র।। ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র কি? ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতি আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তম সেমিস্টার দর্শন মাইনর।
•ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্রঃ নীতিশাস্ত্রের যে শাখায় তাত্ত্বিক নীতির ভিত্তিতে মানবজীবনের বাস্তব, দৈনন্দিন ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলির নৈতিক সমস্যা, সংকট ও দ্বন্দ্বে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনা করা হয়, তাকে ফলিত বা ব্যবহারিক নীতিশাস্ত্র (Applied Ethics) বলা হয়।আর এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী নীতিশাস্ত্র হলো-উপযোগবাদ, কর্তব্যবাদ। আর সেই শাস্ত্রে মূল নীতি নির্ধারণ করে- "সত্য কথা বলা উচিত" বা "সুখ বৃদ্ধি করা উচিত"। কিন্তু-
ফলিত নীতিশাস্ত্র এই সাধারণ নীতিগুলিকে বাস্তব জীবনের জটিল পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করে।যেমন—ইচ্ছামৃত্যু,গর্ভপাত, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রযুক্তিগত ব্যবহার কিংবা ব্যবসায়িক আচরণের মতো বিষয়গুলিতে কোনো সিদ্ধান্ত নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা বিচার করাই ফলিত নীতিশাস্ত্রের কাজ।
•ফলিত নীতিশাস্ত্রের প্রকৃতিঃফলিত নীতিশাস্ত্র আধুনিক সামাজিক ও ব্যবহারিক দর্শনের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শাখা। এর প্রকৃতির প্রধান দিকগুলি হলো-
•বাস্তব ও প্রয়োগমুখীতাঃতাত্ত্বিক নীতিশাস্ত্র যেখানে আদর্শিক ধারণা বা নীতি নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, ফলিত নীতিশাস্ত্র সেখানে সরাসরি জীবন বা বাস্তব জগতের সংকটগুলির মুখোমুখি হয়। কেবল নীতি বা আদর্শ আলোচনার বদলে "একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় কী করা উচিত?"-এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
•আন্তঃবিষয়ক বিস্তারঃফলিত নীতিশাস্ত্রের পরিধি কেবল দর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসা, আইন, প্রযুক্তি, পরিবেশবিজ্ঞান, রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের নৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য নীতিবিদদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সাথে সমন্বয় রক্ষা করতে হয়।
•সমসাময়িক সমস্যাভিত্তিকঃবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির ফলে আধুনিক সমাজে নানা নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন-জিন প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা র নৈতিক ব্যবহার, সমকামিতা বা পরিবেশগত সংকট। ফলিত নীতিশাস্ত্র এসব সমসাময়িক বাস্তব সমস্যাগুলির নৈতিক মূল্যায়ন করে।
•শাখা-ভিত্তিক বিভাজনঃবিষয়বস্তুর ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে ফলিত নীতিশাস্ত্র বিভিন্ন বিশেষ শাখায় বিভক্ত।আর সেই শাখাগুলি হলো-
• জৈব-নীতিশাস্ত্রঃ ইচ্ছামৃত্যু, গর্ভপাত, অঙ্গসংস্থাপন ইত্যাদির নৈতিকতা।
• পরিবেশ নীতিশাস্ত্রঃ প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্ব, প্রাণী অধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ।
• ব্যবসায়িক নীতিশাস্ত্রঃ ব্যবসায় সততা, শ্রমিক কল্যাণ ও কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব।
• প্রযুক্তি ও পেশাগত নীতিশাস্ত্রঃতথ্য প্রযুক্তি, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন পেশায় নৈতিক আচরণ।
ফলিত নীতিশাস্ত্র নীতি ও প্রথার সমন্বয়কঃ ফলিত নীতিশাস্ত্র লো একটি তাত্ত্বিক মানদণ্ড।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়,কান্টের কর্তব্যবাদ বা মিলের উপযোগবাদ।যা বাস্তবের জটিল সমস্যার মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করে। সাধারণ নৈতিক নীতিকে বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের হাতিয়ার করা যায়, তা এই শাখা শেখায়।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,সমাজের পরিবর্তন ও প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে নৈতিক সংকটগুলির ধরণও পরিবর্তিত হয়। ফলে ফলিত নীতিশাস্ত্র কোনো স্থির বা পরিবর্তনহীন অনুশাসন নয়; এটি সদা পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে প্রথাগত ধারণাকে পুনর্বিচার করে এবং নতুন নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে।মোটকথা হলো-
ফলিত নীতিশাস্ত্র আধুনিক মানুষের জটিল সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক জীবনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশক ও নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে।
ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.
Comments
Post a Comment