Skip to main content

জোট রাজনীতি।।জোট রাজনীতি কাকে বলে? জোট সরকারের বৈশিষ্ট্য-"ভারতে জোট রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?"

জোট রাজনীতি।।জোট রাজনীতি কাকে বলে?  জোট সরকারের বৈশিষ্ট্য-"ভারতে জোট রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?" (Key features of coalition politics in India.) পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।

জোট রাজনীতিঃজোট রাজনীতি হলো এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে দুই বা ততোধিক রাজনৈতিক দল নিজেদের মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন, সরকার গঠন বা বিরোধী শিবিরকে প্রতিহত করার জন্য একত্রিত হয়ে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কিংবা শাসনকার্য পরিচালনা করে।আর এই আলোচনার প্রেক্ষিতে ভারতের জোট রাজনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো-

    •আঞ্চলিক দলগুলির উত্থান ও প্রভাবঃ একক সর্বভারতীয় দলের প্রভাব কমে যাওয়ার ফলে রাজ্যভিত্তিক দলগুলি জাতীয় রাজনীতিতে কিংমেকার (Kingmaker) হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

     •সর্বসম্মত ন্যূনতম কর্মসূচীঃ ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের শরিকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে একটি যৌথ কর্মসূচি তৈরি করে সরকার পরিচালিত হয়।

     •সুযোগসন্ধানী জোট ও আদর্শের আপসঃ নীতি বা ভাবধারার মিল না থাকা সত্ত্বেও কেবল ক্ষমতায় আসার বা থাকার জন্য বিপরীতমুখী রাজনৈতিক দলগুলি একত্রিত হয়।

    • সরকারের স্থায়িত্বহীনতা ও অনিশ্চয়তাঃ শরিক দলগুলির ছোটখাটো বিষয়ে অসন্তোষ বা সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকির কারণে জোট সরকার প্রায়শই পতনের ঝুঁকিতে থাকে।

     • মন্ত্রণালয় ও পদ নিয়ে দরকষাকষিঃ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক, বড় দফতর বা অন্যান্য পদ পাওয়ার জন্য বড় দল ও ছোট শরিকদের মধ্যে ব্যাপক দরকষাকষি চলে।

    • ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বাধ্যবাধকতাঃএকক দল নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না; সকল শরিক দলের সাথে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণ করতে হয়।

     •জাতীয় রাজনীতিতে আঞ্চলিক দাবির প্রাধান্যঃকেন্দ্রীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও রাজ্যভিত্তিক দাবি-দাওয়ার প্রভাব বৃদ্ধি পায়।

     • প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার আপেক্ষিক হ্রাসঃএকক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারের তুলনায় জোট সরকারে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ে।

     • নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-োত্তর জোটের প্রচলনঃআসন সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন লড়াইয়ের জন্য 'নির্বাচন-পূর্ব জোট' এবং ফল প্রকাশের পর সরকার গঠনের জন্য 'নির্বাচন-োত্তর জোট' গঠন করা হয়।

      • আভ্যন্তরীণ বিরোধ ও মতভেদের প্রকাশঃ পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত বা জনস্বার্থমূলক নীতি গ্রহণ নিয়ে জোটের ভেতর প্রায়শই প্রকাশ্য মতপার্থক্য তৈরি হয়।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...