Skip to main content

শিক্ষার লক্ষ্য।। প্রথাগত শিক্ষা এবং প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা-র ধারণা ও এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো।

শিক্ষার লক্ষ্য।। প্রথাগত শিক্ষা এবং প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা -র ধারণা ও এদের মধ্যকার  প্রধান পার্থক্যগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার এডুকেশন মাইনর।

     •প্রথাগত শিক্ষাঃ যে শিক্ষা ব্যবস্থা একটি সুনির্দিষ্ট এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়, তাকে প্রথাগত শিক্ষা বলে। এটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত।আর সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকে-

       নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম, নির্দিষ্ট সময়সীমা, নিয়মিত উপস্থিতি, উপযুক্ত শিক্ষক এবং কোর্স শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করার ব্যবস্থা থাকে।উদাহরণ হিসেবে সেখানে আমরা বলতে পারি যে- স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা হলো প্রথাগত শিক্ষা।

      •প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষাঃ যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রথাগত কাঠামোর বাইরে সংঘটিত হলেও একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও নমনীয় কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, তাকে প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা বলে। আর সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকে-

       সময়ের নমনীয়তা, নির্দিষ্ট বয়সের বাধ্যবাধকতা না থাকা, ব্যবহারিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিখন এবং তুলনামূলক কম খরচ।সেখানে উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে-দূরশিক্ষণ (Distance Learning), প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতা অভিযান, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, বা বিভিন্ন অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স।

 প্রথাগত এবং প্রথা বহির্ভূত শিক্ষার মধ্যে প্রধান পার্থক্য

১) প্রথাগত শিক্ষা হলো সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং ধারাবাহিক শিক্ষা ব্যবস্থা।কিন্তু -

     প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা হলো প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে অবস্থিত একটি পরিকল্পিত কিন্তু নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থা। 

২) প্রথাগত শিক্ষা সুনির্দিষ্ট বয়সভিত্তিক ভর্তি প্রক্রিয়া এবং পূর্ববর্তী যোগ্যতা বাধ্যতামূলক।কিন্তু-

     প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা যেকোনো বয়সের মানুষ এতে অংশ নিতে পারেন; নির্দিষ্ট বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। |

৩) প্রথাগত শিক্ষা নির্দিষ্ট মেয়াদের (যেমন: ৩ বা ৪ বছর) কোর্স এবং কঠোর উপস্থিতি প্রয়োজন।কিন্তু -

      ক্লাসের সময়সূচি ও স্থায়িত্ব নমনীয়; শিক্ষার্থীরা সুবিধাজনক সময়ে শিখতে পারেন।

৪) প্রথাগত শিক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত, তাত্ত্বিক এবং তুলনামূলকভাবে অপরিবর্তনশীল।কিন্তু -

    প্রথা অবৈধ শিক্ষা  চাহিদানির্ভর, বাস্তবমুখী এবং ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর জোর প্রদানকারী পাঠ্যক্রম।

   ৫) প্রথাগত শিক্ষার মাধ্যমে  শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ডিগ্রি প্রদান এবং সর্বাঙ্গীন মানসিক বিকাশ সাধন করা হয়।কিন্তু-

     প্রথা-বহির্ভূত প্রথা নির্দিষ্ট জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন, পুনর্বাসন বা কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা।

৬) প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থায়  পরীক্ষার মাধ্যমে কঠোর মূল্যায়ন করা হয় এবং স্বীকৃত ডিগ্রি/সনদ প্রদান করা হয়।কিন্তু -

    মূল্যায়ন ব্যবস্থা নমনীয় এবং সার্টিফিকেট প্রদান বাধ্যতামূলক বা প্রধান লক্ষ্য নাও হতে পারে। 

৭) প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যালয়, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমোদিত এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের দ্বারা পরিচালিত হয়। কিন্তু -

    প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা ব্যবস্থা সামাজিক কেন্দ্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, এনজিও বা বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে পরিচালিত। 

৮) প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থায়  প্রতিষ্ঠান পরিচালনার নিয়মানুসারে খরচ সাধারণত বেশি হয়।কিন্তু -

     প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশ কম খরচে বা অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে গ্রহণ করা যায়।

৯) তথাগত শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়মকানুন, পাঠ্যক্রম ও সময়সূচির কোনো নমনীয়তা নেই।কিন্তু -

    প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা ব্যবস্থায় চাহিদা ও স্থান-কালের ওপর নির্ভর করে এটি অত্যন্ত নমনীয়।

১০) প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রধানত সামাজিক স্বীকৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির জন্য শিক্ষার্থীরা বাধ্যবাধকতা থেকে পড়ে। কিন্তু -

       প্রথা বহির্ভূত শিক্ষা ব্যবস্থা স্ব-প্রণোদিত হয়ে কোনো বিশেষ দক্ষতা শেখার আগ্রহ থেকে শিক্ষার্থীরা এতে যুক্ত হন। 

      পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,প্রথাগত শিক্ষা এবং প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা—উভয়ই একটি সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে পরিপূরক ভূমিকা পালন করে। প্রথাগত শিক্ষা যেখানে একজন ব্যক্তির মৌলিক জ্ঞান গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনে সহায়তা করে, সেখানে প্রথাগত-বহির্ভূত শিক্ষা জীবনমুখী দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই একটি সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠনে এই দুই শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...