Skip to main content

সমাজ ও সম্প্রদায় কী ও তাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

সমাজ ও সম্প্রদায় কী ও  তাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো। পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার সমাজবিজ্ঞান মাইনর।

        •সমাজঃ সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজ বলতে কেবল মানুষের কোনো সমষ্টিকে বোঝায় না, বরং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও ব্যবস্থার সমাহারকে বোঝায়।আসলে সমাজ হলো এক জটিল সামাজিক সম্পর্কের জাল, যার মাধ্যমে মানুষ পরস্পর যুক্ত থাকে। প্রসঙ্গত ম্যাকিভার ও পেজ বলেন-

      "সমাজ হলো সামাজিক সম্পর্কের এক পরিবর্তনশীল রূপ বা জাল (Society is a web of social relationships)."

     এ. ডব্লিউ. গ্রিন এর মতে-"সমাজ হলো এমন এক বিশাল গোষ্ঠী, যার সদস্য হিসেবে মানুষ সাধারণ জীবনযাত্রায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়।"

     সম্প্রদায়ঃনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় একত্রিত হয়ে বসবাসকারী এবং পারস্পরিক একাত্মতা বা 'আমরা-বোধ' (We-feeling) দ্বারা পরিচালিত মানবগোষ্ঠীকে সম্প্রদায় বলা হয়। সম্প্রদায়ের ভিত্তি হলো যৌথ জীবনযাপন ও স্থানীয় অনুভূতি।আর সেখান ম্যাকিভার ও পেজ বলেন-

   "যখন কোনো ছোট বা বড় গোষ্ঠীর সদস্যরা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নয়, বরং যৌথ জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে এক নির্দিষ্ট এলাকায় একসাথে বসবাস করে, তখন সেই মানবগোষ্ঠীকে সম্প্রদায় বলে।"

       এম. জি. জিন্সবার্গ এর মতে-"সম্প্রদায় হলো এমন এক সামাজিক পরিবেশ, যেখানে সদস্যরা সাধারণ জীবনধারা ও সামাজিক মূল্যবোধের অংশীদার হয়।"

   ১) সমাজ হলো জটিল সামাজিক সম্পর্ক ও ব্যবস্থার সমাহার।কিন্তু-

    • সম্প্রদায় হলো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী মানুষের সমষ্টি, যাদের মধ্যে 'আমরা-বোধ' বিদ্যমান। 

     ২) সমাজের নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা ভূখণ্ড থাকা বাধ্যতামূলক নয়।কিন্তু -

    • সম্প্রদায়ের একটি নির্দিষ্ট স্থায়ী ভৌগোলিক ভূখণ্ড বা বাসস্থান নিশ্চিতভাবেই থাকে। 

 ৩) সমাজে 'আমরা-বোধ' বা সম্প্রদায়গত চেতনা প্রত্যক্ষ বা বাধ্যতামূলক নয়।কিন্তু-

      •সম্প্রদায়ের মূল ভিত্তি হলো তীব্র 'আমরা-বোধ' বা একাত্মতার অনুভূতি। 

 ৪) সমাজের পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত। এটি সম্প্রদায়ের চেয়ে বড় একক। কিন্তু -

     •সম্প্রদায়ের পরিধি তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র ও সমাজ অপেক্ষা নির্দিষ্ট। 

৫) সমাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ—উভয় প্রকার সামাজিক সম্পর্কই গড়ে ওঠে।কিন্তু -

     •সম্প্রদায়ে মূলত প্রত্যক্ষ, মুখোমুখি (Face-to-face) ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেখা যায়। 

৬)   সমাজে সাদৃশ্য (Similarity) এবং বৈচিত্র্য/বৈসাদৃশ্য (Dissimilarity)-উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু-

      •সম্প্রদায়ে সদস্যদের জীবনধারা ও চিন্তাভাবনায় বৈচিত্র্যের চেয়ে সাদৃশ্য বা ঐক্যের পরিমাণ বেশি থাকে। 

 ৭) সমাজ নির্দিষ্ট কোনো একটি সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গড়ে ওঠে না; এটি বহুমুখী।কিন্তু-

      •সম্প্রদায় সাধারণত কিছু সাধারণ স্বার্থ ও সার্বিক জীবনযাপনের উদ্দেশ্য ঘিরে গড়ে ওঠে। 

৮) সমাজ স্বাবলম্বী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।কিন্তু -

      •সম্প্রদায় তার সদস্যদের মৌলিক ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বহুলাংশে স্বয়ংসম্পূর্ণ। 

৯) সমাজ একটি বিমূর্ত (Abstract) ধারণা; একে চোখে দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়।কিন্তু -

      •সম্প্রদায় হলো একটি মূর্ত (Concrete) সামাজিক রূপ, কারণ এর সদস্যদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে বসবাস করতে দেখা যায়। |

১০) একটি সমাজের ভেতরে একাধিক ছোট-বড় সম্প্রদায় অবস্থান করতে পারে।কিন্তু -

      •একটি সম্প্রদায়ের ভেতরে কোনো ভিন্ন সমাজ গঠিত হতে পারে না; সম্প্রদায় সমাজেরই অংশ। 

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট এবং SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir.





Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...