Skip to main content

 পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) ২য় সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর পরীক্ষার ২ নম্বরের সম্ভাব্য প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত ও সঠিক উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

১. গুপ্তদের উত্থান ও বৃদ্ধি

 * ‘কবিরাজ’ উপাধি: সমুদ্রগুপ্ত এই উপাধি ধারণ করেন। তাঁর অসাধারণ কাব্যচর্চা, সাহিত্যপ্রীতি এবং মুদ্রায় বীণাবাদনরত চিত্রের জন্য তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

 * ‘নবরত্ন’: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের (বিক্রমাদিত্য) রাজসভার ৯ জন বিশিষ্ট পণ্ডিতকে একত্রে 'নবরত্ন' বলা হতো। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কালিদাস, বরাহমিহির ও ধন্বন্তরি।

 * ‘অগ্রহারা প্রথা’: গুপ্ত যুগে ব্রাহ্মণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা পণ্ডিতদের নিষ্কর (করমুক্ত) জমি দান করার প্রথাকে 'অগ্রহারা প্রথা' বলা হতো।

 * গুপ্ত যুগের দুটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের গ্রন্থ:

   * আর্যভট্ট রচিত ‘আর্যভটীয়’

   * বরাহমিহির রচিত ‘বৃহৎসংহিতা’

 * ‘সর্বরাজোচ্ছেত্তা’ উপাধি: গুপ্ত সম্রাট সমুদ্রগুপ্ত এই উপাধি গ্রহণ করেছিলেন (যার অর্থ 'সকল রাজাকে উচ্ছেদকারী')।

২. হর্ষ ও তাঁর সময়

 * ‘হর্ষচরিত’ ও ‘সি-ইউ-কি’ এর রচয়িতা: 'হর্ষচরিত' রচনা করেন হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট এবং 'সি-ইউ-কি' রচনা করেন চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং।

 * হর্ষবর্ধনের দুটি উপাধি: ‘শীলাদিত্য’ এবং ‘সকলউত্তরাপথনাথ’।

 * ‘মহামোক্ষ পরিষদ’: সম্রাট হর্ষবর্ধন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর প্রয়াগে (এলাহাবাদ) যে বিরাট দান ও ধর্মসভার আয়োজন করতেন, তাকে 'মহামোক্ষ পরিষদ' বলা হতো।

 * হর্ষবর্ধনের রচিত দুটি নাটক: ‘রত্নাবলী’ ও ‘প্রিয়দর্শিকা’ (অন্যটি 'নাগানন্দ')।

৩. দক্ষিণ ভারত (পল্লব ও চালুক্য)

 * ‘বাতাপিকোণ্ড’ উপাধি: পল্লব রাজ প্রথম নরসিংহবর্মণ চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীকে পরাজিত ও হত্যা করে বাতাপি বা বাদামি দখল করেন এবং 'বাতাপিকোণ্ড' (বাতাপির বিজয়ী) উপাধি নেন।

 * আইহোল প্রশস্তি: এটি দ্বিতীয় পুলকেশীর সভাকবি রবিকীর্তি রচনা করেন। এখান থেকে চালুক্যরাজ দ্বিতীয় পুলকেশীর রাজ্যজয় ও হর্ষবর্ধনকে পরাস্ত করার বিবরণ জানা যায়।

 * মহাবলীপুরমের ‘পঞ্চরথ’ মন্দির: এটি পল্লব রাজবংশের (বিশেষ করে প্রথম নরসিংহবর্মণের) আমলে নির্মিত একক পাথরে খোদাই করা স্থাপত্য।

 * চালুক্য স্থাপত্যের দুটি কেন্দ্র: বাদামি (বাতাপি) এবং আইহোল (বা পট্টদাকাল)।

৪. রাষ্ট্রকূট, পাল ও প্রতিহার

 * ‘ত্রিশক্তি সংগ্রাম’: উত্তর ভারতের সমৃদ্ধ শহর কনৌজ-এর আধিপত্যকে কেন্দ্র করে পাল, প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট—এই তিনটি শক্তির মধ্যে প্রায় ২০০ বছর ধরে যে যুদ্ধ চলেছিল।

 * ‘উত্তরাপথস্বামী’ উপাধি: পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল উত্তর ভারতে নিজের প্রভাব বিস্তার করে এই উপাধি গ্রহণ করেন (যার অর্থ 'উত্তর ভারতের স্বামী')।

 * এলরার কৈলাশনাথ মন্দির: এটি রাষ্ট্রকূট রাজ প্রথম কৃষ্ণ একক পাথর কেটে নির্মাণ করিয়েছিলেন।

 * প্রতিহার বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ও উপাধি: প্রতিহার বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন প্রথম ভোজ (বা মিহির ভোজ) এবং তাঁর গৃহীত উপাধি ছিল ‘আদিবরাহ’।

৫. উত্তর ভারতে রাজপুত রাজ্য

 * রাজপুতদের উৎপত্তির দুটি তত্ত্ব:

   * কবি চাঁদ বরদৈ প্রবর্তিত ‘অগ্নিSource/অগ্নিবংশ তত্ত্ব’

   * ভি. এ. স্মিথ প্রবর্তিত ‘বিদেশি উৎপত্তি তত্ত্ব’ (শক, হূণ ইত্যাদি থেকে আগমন)

 * ‘রাজতরঙ্গিণী’: এটি কলহন রচনা করেন। এই গ্রন্থ থেকে প্রাচীন কাশ্মীরের ধারাবাহিক ইতিহাস জানা যায়।

 * চন্দেল রাজাদের মন্দির স্থাপত্য: মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো মন্দির গোষ্ঠী।

৬. আরব রাজনীতি ও সুলতানি প্রতিষ্ঠা

 * ‘চাচনামা’: এটি একটি ঐতিহাসিক গ্রন্থ যা থেকে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ইতিহাস এবং তৎকালীন সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা জানা যায়।

 * তরাইনের যুদ্ধ:

   * প্রথম যুদ্ধ (১১৯১ খ্রি.): পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে মোহাম্মদ ঘোরি পরাজিত হন।

   * দ্বিতীয় যুদ্ধ (১১৯২ খ্রি.): মোহাম্মদ ঘোরি পৃথ্বীরাজ চৌহানকে পরাজিত করে ভারতের দরজা তুর্কিদের জন্য উন্মুক্ত করেন।

 * ভারতের প্রথম তুর্কি আক্রমণকারী: গজনির সুলতান মাহমুদ; তিনি ১০০০ থেকে ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন।

 * সুলতানি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা: ভারতে দাস বংশ তথা সুলতানি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবক (তবে প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ-কে)।


পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আগের প্রশ্নগুলি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কমনযোগ্য। তবে উত্তরপত্র সম্পূর্ণ নিখুঁত করতে এবং ঘুরিয়ে প্রশ্ন এলেও যাতে আপনি উত্তর দিতে পারেন, তার জন্য নিচে অতিরিক্ত কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২ নম্বরের প্রশ্ন ও তার পয়েন্ট ভিত্তিক উত্তর সাজেশন আকারে দেওয়া হলো:

১. গুপ্তদের উত্থান ও বৃদ্ধি

  • ‘বিক্রমাদিত্য’ উপাধি কার ছিল এবং কেন?
    • উত্তর: দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত 'বিক্রমাদিত্য' উপাধি নেন। দাক্ষিণাত্যের শাকদের পরাজিত ও নির্মূল করে 'শকারি' ও 'বিক্রমাদিত্য' উপাধি ধারণ করেন।
  • ‘নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়’ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
    • উত্তর: গুপ্ত সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্ত (চক্রাদিত্য) খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

২. হর্ষ ও তাঁর সময়

  • ‘বানভট্ট’ কে ছিলেন? তাঁর রচিত দুটি গ্রন্থের নাম লেখো।
    • উত্তর: বাণভট্ট ছিলেন হর্ষবর্ধনের রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর রচিত দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘হর্ষচরিত’ এবং ‘কাদম্বরী’
  • ‘শশাঙ্ক’ কে ছিলেন? তাঁর রাজধানী কোথায় ছিল?
    • উত্তর: শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা (গৌড়রাজ)। তাঁর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান মুর্শিদাবাদ)।

৩. দক্ষিণ ভারত (পল্লব ও চালুক্য)

  • ‘আইহোল’ শহরকে কী বলা হয় এবং কেন?
    • উত্তর: আইহোলকে ‘ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যের সোঁতাল বা জোগানঘর’ (Cradle of Indian Temple Architecture) বলা হয়, কারণ এখানে চালুক্য আমলের বহু আদি মন্দির নির্মিত হয়েছিল।
  • পল্লব আমলের প্রধান দুটি স্থাপত্য শৈলীর নাম লেখো।
    • উত্তর: মৈhendra শৈলী (পাহাড় কেটে গুহা মন্দির) এবং মামল্লা শৈলী (একক পাথরে তৈরি রথ মন্দির)।

৪. রাষ্ট্রকূট, পাল ও প্রতিহার

  • ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ’ কার আমলে হয়েছিল এবং এর নেতা কে ছিলেন?
    • উত্তর: দ্বিতীয় মহীপালের রাজত্বকালে এই বিদ্রোহ হয়। এই বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন দিব্য (বা দিব্যোক)।
  • ‘রামচরিত’ কে রচনা করেন? এতে কার কথা বলা হয়েছে?
    • উত্তর: সন্ধ্যাাকর নন্দী। এতে পালরাজ রামপালের কৃতিত্ব এবং কৈবর্ত বিদ্রোহের বিবরণ রয়েছে।

৫. উত্তর ভারতে রাজপুত রাজ্য

  • ‘পৃথ্বীরাজ রাসো’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
    • উত্তর: চান্দ বরদৈ। এই গ্রন্থে চৌহান রাজা তৃতীয় পৃথ্বীরাজের বীরত্ব ও জীবনকাহিনী বর্ণিত আছে।
  • ‘ত্রিপক্ষীয় সংগ্রাম’-এ জয়ী হয়ে কনৌজে কোন বংশ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে?
    • উত্তর: গুর্জর-প্রতিহার বংশ (মিহির ভোজের নেতৃত্বে)।

৬. আরব রাজনীতি ও সুলতানি প্রতিষ্ঠা

  • ‘লাখবখশ’ বা 'লাখদাতা' কাকে বলা হতো এবং কেন?
    • উত্তর: কুতুবউদ্দিন আইবককে তাঁর দানশীলতার জন্য 'লাখবখশ' (লক্ষ দাতা) বলা হতো।
  • ‘ইক্তা প্রথা’ কে প্রবর্তন করেন?
    • উত্তর: দিল্লি সুলতানি শাসনের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ সেনাপতি ও কর্মচারীদের বেতনের পরিবর্তে জমি দানের এই ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।

পরামর্শ: আগের দেওয়া প্রশ্ন এবং এই অতিরিক্ত প্রশ্নগুলি তৈরি করে গেলে ২ নম্বরের বিভাগের জন্য আর বাড়তি কিছু পড়তে হবে না।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো।

অবক্ষয় যুগ। অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বাঙালির অবক্ষয় যুগের পরিচয় দাও। এই সময়ে টপ্পা ও আখড়াই গানের উদ্ভব ও জনপ্রিয়তার সামাজিক কারণগুলি আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম সেমিস্টার বাংলা মাইনর।ইউনিট ৪।   অবক্ষয় যুগের পরিচয় এবং টপ্পা ও আখড়াই গানের সামাজিক কারণ ও অবক্ষয় যুগের পরিচয়          আমরা জানি যে,১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধের পর থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ (১৮৫০ খ্রি.) পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'সন্ধিযুগ' বলা হয়।আর এটি ছিল মধ্যযুগের দেবনির্ভরতার অবসান এবং আধুনিক যুগের মানবতাবোধের সূচনার মধ্যবর্তী এক ক্রান্তিকাল।যেখানে এই সময়কালের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি  নিম্নরূপে আলোচনা করা যেতে পারে-        •রাজনৈতিক অস্থিরতাঃ নবাবী শাসনের পতন এবং ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভের ফলে বাংলার পুরনো শাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে।      •'বাবু' সংস্কৃতির উদয়ঃ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের (১৭৯৩ খ্রি.) ফলে গ্রামীণ বনেদি সমাজ ধ্...