Skip to main content

নির্বাচন কমিশন।। ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো।

নির্বাচন কমিশন।। ভারতের নির্বাচন কমিশনের গঠন ও কার্যাবলী আলোচনা করো (পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ এবং সপ্তম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর)।

      আলোচনার শুরুতেই আমরা বলে রাখি যে,ভারতের সংবিধানের ১৫ নং অংশে ৩২৪ থেকে ৩২৯ নম্বর ধারায় নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত বিবরণ রয়েছে।তবে সংবিধানের ৩২৪(১) নম্বর ধারা অনুসারে, ভারতের নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত ও স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা।আসলে এটি ভারতের সংসদ (লোকসভা ও রাজ্যসভা), রাজ্য বিধানসভা, রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের সার্বিক দায়িত্ব পালন করে। তবে প্রসঙ্গগত উল্লেখ করা যায় যে, পঞ্চায়েত ও পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনা করে 'রাজ্য নির্বাচন কমিশন'।

       ১. নির্বাচন কমিশনের গঠনঃ ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠার সময় নির্বাচন কমিশন একজন মাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়ে গঠিত ছিল। ১৯৮৯ সালে সংশোধনী আইনের মাধ্যমে এটি বহু-সদস্যীয় সংস্থায় পরিণত করা হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে কমিশন স্থায়ীভাবে একজন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুজন নির্বাচন কমিশনার-মোট তিনজন সদস্য নিয়ে গঠিত।আর সেখানে-

        কমিশনারদের ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত করা হয়। তাঁদের কার্যকালের মেয়াদ ৬ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত (যেটি আগে ঘটে)।যেখানে- সকল কমিশনারের ক্ষমতা, অধিকার এবং বেতন-ভাতা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমতুল্য। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত প্রাধান্য পায়।তবে-

         মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অপসারণ পদ্ধতির মতো কঠিন প্রক্রিয়ায় (সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে) পদচ্যুত করা যায়। অন্যান্য কমিশনারদের মুখ্য কমিশনারের সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি অপসারণ করতে পারেন।

২. নির্বাচন কমিশনের কার্যাবলীঃ নির্বাচন কমিশনের কার্যাবলীকে প্রধানত প্রশাসনিক, পরামর্শদানকারী এবং আধা-বিচার বিভাগীয়-এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। আর সেই ভাগ গুলি হলো -

    • সীমানা পুনর্নির্ধারণঃ 'সীমানা পুনর্নির্ধারণ আইন' (Delimitation Commission Act) অনুসারে দেশের লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ভৌগোলিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা।

 • ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও হালনাগাদ করাঃযোগ্য নাগরিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা। ১৯৯৩ সাল থেকে জালিয়াতি রুখতে ভোটার ফটো পরিচয়পত্র (EPIC) ব্যবস্থা চালুকরণ।

 • নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাঃ নির্বাচনের দিনক্ষণ, মনোনয়ন পত্র জমা, প্রত্যাহার, ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা।

 • রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি ও প্রতীক বণ্টনঃ জাতীয় ও রাজ্যস্তরের রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করা।

 • আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) প্রয়োগঃ নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করার জন্য আচরণবিধি জারি করা।

 • নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করা: বুথ দখল, জালিয়াতি বা সহিংসতার ঘটনা ঘটলে কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র বা সম্পূর্ণ নির্বাচন বাতিল/পুনর্নির্বাচনের আদেশ দেওয়া।

 •  পরামর্শদানকারী ভূমিকা: কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি আইনসভার সদস্য হিসেবে অযোগ্য কি না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালকে আইনি পরামর্শ দেওয়া।

 • আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যয়ের নজরদারি: EVM ও VVPAT-এর সঠিক ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনা এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা।

      পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে,বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের পেছনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অপরিসীম। কিছু ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভারতের নির্বাচন কমিশন বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রশংসিত।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.


        

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...