একটি ছবি, হাজারো দৃষ্টি সমরেশ সরদার।
ব্যারিকেডের ওপরে উঠেছিল একটি মেয়ে, সোশ্যাল মিডিয়া হঠাৎ জেগে উঠে দমিয়ে দেওয়ার নেশায়! কেউ হাসল, কেউ কটাক্ষ ছুড়ল, কেউ চরিত্রহীন শব্দের বিষ ঢালল, তবে প্রশ্ন জাগে লালসা কামনা বিষহীন মানুষের একটি মেয়ে এত ভয়ংকর কেন?
এই মেয়েটা, তুমি কি জানো? তোমার এক পা ব্যারিকেডের ওপরে উঠতেই কত মুখোশের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল আসল মুখ! যারা গণতন্ত্রের ধ্বজা তুলে কথা বলে, তারাই প্রতিবাদের কণ্ঠে পরাতে চায় শিকল, যারা স্বাধীনতার বুলি আওড়ায়, তারাই প্রশ্নকারীকে বানাতে চায় হাসির পাত্র!
শোনো গদি মিডিয়া, হে কটাক্ষের কারবারিরা! একটি ছবি দিয়ে ইতিহাস লেখা যায় না, একটি মুহূর্ত দিয়ে মানুষকে মাপা যায় না, আর একটি মেয়ের সাহসকে তোমাদের বিদ্রূপের দাঁড়িপাল্লায় তোলা যায় না!তবে- ব্যারিকেড কি শুধু লোহার বেড়া? নাকি তার ওপারে দাঁড়িয়ে আছে ক্ষমতার অহংকার, প্রশ্নের প্রতি ভয়,না ময়েটিকে নিয়ে? আর মানুষের কণ্ঠ রোধ করার অদৃশ্য প্রাচীর?
প্রতিবাদ অপরাধ হয়, তবে প্রশ্ন করো তারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কি পাপ? যদি সাহস উপহাসের বিষয় হয়, তবুও উদাস বাউল গেয়ে যাবে- উদাসী ভাব নিয়ে সেখানে কাপুরুষের করতালি, ক্যামেরা কখনো বীরত্বের মাপকাঠি নয়!
এই মেয়েটি, শোনো তোমাকে নিয়ে বিতর্ক হোক, তোমার বক্তব্যের সমালোচনা হোক যুক্তির ভাষায়; কিন্তু কুৎসার কালি ছুড়ে কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠকে ছোট করার অধিকার কারও নেই এই গণতন্ত্রের আঙিনায়! মনে রেখো, ছবি ক্ষণিকের, কিন্তু-প্রশ্ন দীর্ঘজীবী; বিদ্রূপ সাময়িক, কিন্তু-সাহসের অভিঘাত সুদূরপ্রসারী।
আজ যে ব্যারিকেডের ছবি নিয়ে এত হইচই করালে তুমি, কাল হয়তো সেই ছবিই প্রশ্ন তুলবে- কে দাঁড়িয়েছিল মানুষের অধিকারের পক্ষে? আর কে ব্যস্ত ছিল তাকে হেয় করার খেলায়? আলুলায়িত ছবি তোলার? প্রশ্ন উঠবেই একদিন কে তাক করে ওত পেতেছিল বক্ষযুগলের মাঝে? ব্যারিকেডের উচ্চতা নয়, মানুষের বিবেকের উচ্চতাই ইতিহাসে শেষ কথা বলে!
Comments
Post a Comment