নির্বাচন কমিশন।। ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটদান প্রক্রিয়াটি আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর।
১. প্রাক-ভোটগ্রহণ বা প্রস্তুত পর্বঃ ভোটদানের দিন আসার আগে নির্বাচন কমিশন (ECI) পুরো প্রক্রিয়ার ভিত্তি প্রস্তুত করে।আর সেখানে -
- ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনঃ নির্বাচন কমিশন একটি ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল ভারতীয় নাগরিকের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে (অনুচ্ছেদ ৩২৬ - সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার)।
- ভোটার কার্ডঃ প্রতিটি নিবন্ধিত ভোটারকে ছবিসহ পরিচয়পত্র বা EPIC) দেওয়া হয়।
- প্রার্থী মনোনয়ন ও যাচাইকরণঃ প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং কমিশন তাঁদের যোগ্যতা ও নথিপত্র পরীক্ষা করে।
- ভোটকর্মী ও কেন্দ্র নির্ধারণঃএলাকাভিত্তিক ভোটকেন্দ্র (Polling Station) গঠন করা হয় এবং সরকারি কর্মীদের ভোটকর্মী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২. ভোটগ্রহণের দিন: বুথের ভেতরের ধাপসমূহ (Step-by-Step Booth Voting Process)।এটি ভোটদান প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোটার যখন বুথে প্রবেশ করেন, তখন নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চারটি ধাপে ভোট সম্পন্ন হয়।আর সেই ধাপগুলো হলো-
ভোটার বুথে প্রবেশ-১ম কর্মকর্তা (পরিচয় যাচাই)-২য় কর্মকর্তা (অমোচনীয় কালি ও সই/টিপছাপ)-৩য় কর্মকর্তা (EVM ব্যালট সক্রিয় করা)-গোপন ভোটদান কক্ষ: EVM-এ বোতাম টিপে VVPAT স্লিপ দেখা,ভোট সম্পন্ন ও প্রস্থান
ধাপ ১: প্রথম পোলিং অফিসার,পরিচয় যাচাই।
- ভোটার কেন্দ্রে ঢুকলে প্রথম কর্মকর্তা ভোটারের EPIC (ভোটাতালিকাভুক্ত পরিচয়পত্র) বা অনুমোদিত অন্য কোনো সরকারি পরিচয়পত্র পরীক্ষা করেন।
- সরকারি ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর জোরে উচ্চারণ করেন, যাতে উপস্থিত সকল রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা তা শুনতে পান।
ধাপ ২: দ্বিতীয় পোলিং অফিসার চিহ্ন ও নথিবদ্ধকরণ
- এই কর্মকর্তা ভোটারের বাঁ হাতের তর্জনীতে অমোচনীয় কালি (Indelible Ink) লাগিয়ে দেন, যাতে কেউ একাধিকবার ভোট না দিতে পারেন।
- ভোটারদের জন্য রাখা সরকারি ১৭-এ (Form 17A) রেজিস্টারে ভোটারের স্বাক্ষর বা টিপছাপ নেওয়া হয়।
- অতঃপর ভোটারকে একটি ছোট্ট ভোটার স্লিপ (Voter Slip) দেওয়া হয়।
ধাপ ৩: তৃতীয় পোলিং অফিসার EVM সক্রিয়করণ।
- ভোটার এই কর্মকর্তার কাছে তাঁর ভোটার স্লিপটি জমা দেন।
- কর্মকর্তা কালির দাগ পরীক্ষা করে EVM-এর নিয়ন্ত্রণ ইউনিট (Control Unit)-এ থাকা ‘Ballot’ বোতামটি চাপেন, যা ভোটিং কম্পার্টমেন্টে রাখা ব্যালট ইউনিটকে প্রস্তুত করে।
ধাপ ৪: ভোটিং কম্পার্টমেন্ট ও গোপন ভোটদান।ভোটার এবার একটি কাপড়ে ঘেরা গোপন ঘরে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সেখানে
১) EVM: ভোটার তাঁর পছন্দের প্রার্থী ও প্রতীকের পাশের নীল বোতামটি চাপেন। বোতাম চাপার সাথে সাথেই লাল আলো জ্বলে ওঠে।
২) VVPAT: EVM-এর ঠিক পাশেই একটি VVPAT মেশিন রাখা থাকে। বোতাম চাপার পর VVPAT-এর কাচের ভেতর ৭ সেকেন্ডের জন্য একটি কাগজের স্লিপ দেখা যায়, যেখানে লেখা থাকে ভোটার কাকে ভোট দিয়েছেন। এরপর স্লিপটি কেটে মেশিনের ড্রপ-বক্সে পড়ে যায়।
• বিপ (Beep) শব্দ: একটি দীর্ঘ বিওপ আওয়াজ শুনলে বোঝা যায় ভোটদান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
•বিশেষ বিকল্প : তালিকায় থাকা কোনো প্রার্থীকে পছন্দ না হলে ভোটার নোটায় (NOTA) ভোট দিতে পারেন।
৩. ভোটদান প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা পদ্ধতি।
| উপাদান / বিষয় | উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা |
|---|---|
| মক পোল (Mock Poll) | ভোটগ্রহণ শুরুর ১ ঘণ্টা আগে প্রিসাইডিং অফিসার সমস্ত রাজনৈতিক দলের এজেন্টের সামনে অন্তত ৫০টি কাল্পনিক ভোট দিয়ে EVM সঠিক কাজ করছে কি না তা প্রমাণ করেন। |
| অমোচনীয় কালি (Indelible Ink) | ভুয়ো ও দ্বৈত ভোটদান (Rigging/Fake Voting) সম্পূর্ণ রোধ করতে ব্যবহৃত হয়। |
| VVPAT প্রযুক্তি | ভোটার তাঁর প্রদত্ত ভোটের সঠিকতা নিজের চোখে যাচাই করতে পারেন, যা নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনে। |
| নিরাপত্তা ও ১৪৪ ধারা | বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে প্রচার বা বিশৃঙ্খলা নিষিদ্ধ। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে। |
Comments
Post a Comment