Skip to main content

ভারতের দলীয় ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ইউনিট-১

ভারতের দলীয় ব্যবস্থা সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ইউনিট-১ "Party system in India- features and trends; Congress system, role of opposition parties"

১. ভারতের দলীয় ব্যবস্থার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।

উত্তর: ভারতের দলীয় ব্যবস্থার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:

  1. বহুদলীয় ব্যবস্থা: ভারতে একটি বা দুটি দলের পরিবর্তে অসংখ্য জাতীয় ও আঞ্চলিক দল রাজনৈতিক ক্ষমতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিযোগিতা করে।
  2. আঞ্চলিক দলের প্রভাব: জাতীয় দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলোর শক্তিশালী উপস্থিতি এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা।

২.রজনী কোঠারি-র মতে 'কংগ্রেস সিস্টেম' বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রজনী কোঠারির মতে, ভারতের প্রথম দুই-তিন দশকে কংগ্রেস দল এককভাবে কেন্দ্রে ও রাজ্যে ক্ষমতা দখল করে এবং বিরোধীরা প্রান্তিক অবস্থায় থাকে। কিন্তু কংগ্রেস নিজেই বিভিন্ন দলীয় উপদল ও মতাদর্শের মিলনক্ষেত্র হিসেবে কাজ করত। এই অনন্য ব্যবস্থাকেই তিনি ‘কংগ্রেস সিস্টেম’ বা ‘কংগ্রেস দলীয় ব্যবস্থা’ বলেছেন।

৩. 'কংগ্রেস সিস্টেম'-এর পতনের মূল কারণ কী ছিল?

উত্তর: কংগ্রেস সিস্টেমের পতনের মূল কারণগুলো হলো—দলের অভ্যন্তরে তীব্র কোন্দল ও গণতন্ত্রের অভাব, ইন্দিরা গান্ধীর জমানায় দলীয় হাইকম্যান্ডের অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ, এবং ১৯৬৭ সালের নির্বাচনে রাজ্যস্তরে শক্তিশালী বিরোধী দল ও জোটগুলোর উত্থান।

৪. ভারতের দলীয় ব্যবস্থার সাম্প্রতিক প্রধান প্রবণতা (Trend) কী?

উত্তর: ভারতের দলীয় ব্যবস্থার একটি প্রধান সাম্প্রতিক প্রবণতা হলো একদলীয় প্রাধান্য থেকে বহুদলীয় জোট রাজনীতি (Coalition Politics) এবং পরবর্তীতে পুনরায় একক দলের প্রাধান্য বা শক্তিশালী একদলীয় আধিপত্যের দিকে বাঁক নেওয়া। এছাড়া আঞ্চলিক দলগুলোর গুরুত্ব বৃদ্ধি এর আরেকটি বড় প্রবণতা।

৫. ভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: ভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলি সরকারের একনায়কতন্ত্র রোধ করে, জনস্বার্থবিরোধী নীতির সমালোচনা করে, বিকল্প সরকার গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে এবং গণতন্ত্রকে সজীব রাখতে সাহায্য করে।

৬. শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবের দুটি কারণ লেখো।

উত্তর: শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবের দুটি কারণ হলো:

  1. বিরোধী দলগুলির মধ্যে আদর্শগত ঐক্যের অভাব এবং চরম কোন্দল।
  2. আঞ্চলিক দলগুলির সংকীর্ণ স্বার্থ এবং জাতীয় স্তরে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প নেতার অভাব।

৭. ভারতের দলীয় ব্যবস্থায় আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকা কী?

উত্তর: আঞ্চলিক দলগুলি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর দাবি ও সমস্যামূক চাহিদাগুলোকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরে এবং ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে আরও বেশি বিকেন্দ্রীকৃত ও শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

৮. জাতীয় দল ও আঞ্চলিক দলের স্বীকৃতি কে প্রদান করে?

উত্তর: ভারতের নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও জন প্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে কোনো রাজনৈতিক দলকে 'জাতীয় দল' বা 'আঞ্চলিক/রাজ্য দল'-এর স্বীকৃতি প্রদান করে।

৯. জোট রাজনীতি বলতে কী বোঝো?

উত্তর: যখন কোনো একটি রাজনৈতিক দল এককভাবে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না, তখন দুই বা ততোধিক রাজনৈতিক দল আদর্শগত বা সুবিধাবাদী ঐক্যের ভিত্তিতে যৌথভাবে সরকার গঠন করে, তাকে জোট রাজনীতি বলা হয়।

১০. ভারতের রাজনীতিতে 'দলত্যাগ' বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্বেচ্ছায় বা দলীয় নির্দেশ অমান্য করে যে দলীয় টিকিটে নির্বাচিত হয়েছেন তা ত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দিলে তাকে 'দলত্যাগ' বলা হয়। ভারতের রাজনীতিতে এটি দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী একটি নেতিবাচক প্রবণতা।

১১. দলত্যাগ বিরোধী আইন  কত সালে পাস হয়?

উত্তর: ১৯৮৫ সালে ভারতের সংবিধানে দ্বান্নতম (52nd) সংশোধনীর মাধ্যমে দলত্যাগ বিরোধী আইন পাস করা হয় এবং এটিকে সংবিধানের দশম তফসিলে  অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১২. ওয়ান-পার্টি ডমিন্যান্ট সিস্টেম  বা একদলীয় প্রাধান্যমূলক ব্যবস্থা কাকে বলে?

উত্তর: যে দলীয় ব্যবস্থায় বহু দল বা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আইনগতভাবে উন্মুক্ত থাকে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভোটারদের রায়ে একটি মাত্র দলই ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে এবং অন্যান্য দলগুলি প্রান্তিক অবস্থায় থাকে, তাকে একদলীয় প্রাধান্যমূলক ব্যবস্থা বলে (যেমন ভারতের প্রথম পর্বের কংগ্রেস শাসন)।

১৩. ভারতের দলীয় ব্যবস্থায় মেরুকরণ বলতে কী বোঝো?

উত্তর: সাম্প্রতিককালে ভারতীয় দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন ছোট ছোট দল বা শক্তিগুলি বিক্ষিপ্ত না থেকে প্রধান কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা জোটের ছাতার নিচে একত্রিত হওয়ার প্রবণতা দেখায়। এই নির্বাচনী ও আদর্শগত অবস্থান গ্রহণকে রাজনৈতিক মেরুকরণ বলা হয়।

১৪. ভারতের রাজনীতিতে 'চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী'  এবং রাজনৈতিক দলের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?

উত্তর: রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হলো সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা। অন্যদিকে, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতা দখল করতে চায় না, বরং সরকারের নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের সংকীর্ণ বা নির্দিষ্ট স্বার্থ পূরণ করতে সচেষ্ট থাকে।

১৫. ভারতের বর্তমান দলীয় ব্যবস্থাকে কোন ধরনের ব্যবস্থা বলা চলে?

উত্তর: ভারতের বর্তমান দলীয় ব্যবস্থাকে পরিবর্তনশীল "বহুদলীয় জোট ব্যবস্থা" বা কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে পুনরায় শক্তিশালী এক দলের প্রাধান্যযুক্ত বহুদলীয় ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.



Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...