Skip to main content

১. মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে ৬টি পার্থক্য

        ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশমূলক নীতির (Directive Principles of State Policy) মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো-:

১) সংবিধানের ৩য় অংশে ১২ থেকে ৩৫ নম্বর ধারায় লিখিত রয়েছে। কিন্তু -
        নির্দেশমূক নীতি গুলি সংবিধানের ৪থ অংশে  ৩৬ থেকে ৫১ নম্বর ধারায় লিখিত রয়েছে।

২) মৌলিক অধিকার বিচারযোগ্য (Justiciable)। এটি ক্ষুণ্ণ হলে নাগরিকরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। কিন্তু-
      







বিষয়মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles)
১.সংবিধানের ৩য় অংশে (Part III) ১২ থেকে ৩৫ নম্বর ধারায় লিখিত রয়েছে।সংবিধানের ৪থ অংশে (Part IV) ৩৬ থেকে ৫১ নম্বর ধারায় লিখিত রয়েছে।
২. বিচারযোগ্যতামৌলিক অধিকার বিচারযোগ্য (Justiciable)। এটি ক্ষুণ্ণ হলে নাগরিকরা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন।নির্দেশমূলক নীতি বিচারযোগ্য নয় (Non-justiciable)। এগুলি লঙ্ঘিত হলে আদালতে মামলা করা যায় না।
৩. প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যএগুলি মূলত ব্যক্তি কেন্দ্রিক এবং নাগরিকের রাজনৈতিক ও দেওয়ানি অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।এগুলি মূলত সমাজ কেন্দ্রিক এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে।
৪. সরকারি ক্ষমতার ওপর প্রভাবএগুলি রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর নিষেধাজ্ঞা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে (Negative Character)।এগুলি রাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কাজ করার নির্দেশ দেয় (Positive Character)।
৫. স্থায়িত্ব ও জরুরি অবস্থাজাতীয় জরুরি অবস্থায় (জরুরি অবস্থা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে) কিছু মৌলিক অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে।নির্দেশমূলক নীতি কোনো অবস্থাতেই স্থগিত হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না, কারণ এগুলি আদালতের মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য নয়।
৬. প্রয়োগ আইনএগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলবৎ হয়, প্রয়োগের জন্য আলাদা আইনের প্রয়োজন হয় না।এগুলি বলবৎ বা কার্যকর করার জন্য সংসদকে আলাদা আইন তৈরি করতে হয়।

২. ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলির বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

ভারতীয় সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল ভিত্তি। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:

ক) মৌলিক অধিকারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  1. সংবিধান স্বীকৃত ও মৌলিক: এই অধিকারগুলি দেশের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত এবং সুরক্ষিত। সাধারণ আইনের মতো এগুলিকে সহজে পরিবর্তন বা বাতিল করা যায় না।
  2. বিচারযোগ্যতা (Justicability): মৌলিক অধিকার কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্র দ্বারা ক্ষুণ্ণ হলে নাগরিকরা সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট এবং ২২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।
  3. অবাধ বা অসীম নয় (Not Absolute): এই অধিকারগুলি অবাধ নয়। দেশরক্ষা, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও জাতীয় সংহতি রক্ষার স্বার্থে রাষ্ট্র মৌলিক অধিকারের ওপর যুক্তিসঙ্গত নিবন্ধ্যন বা বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
  4. জরুরি অবস্থায় স্থগিতকরণ: জরুরি অবস্থার সময় (ধারা ২০ ও ২১ ব্যতিরেকে) রাষ্ট্রপতি মৌলিক অধিকারগুলির প্রয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারেন।
  5. নাগরিক ও বিদেশী পার্থক্য: কিছু মৌলিক অধিকার কেবল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য (যেমন: ধারা ১৫, ১৬, ১৯, ২৯, ৩০), আবার কিছু অধিকার দেশী-বিদেশী সকল ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য (যেমন: ধারা ১৪, ২০, ২১, ২২)।

খ) মৌলিক অধিকারের গুরুত্ব:

  • ব্যক্তিত্বের বিকাশ: প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনধারণের জন্য এই অধিকারগুলি অপরিহার্য।
  • গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণ: দেশে রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং স্বৈরাচারী শাসন প্রতিরোধে মৌলিক অধিকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
  • সংখ্যালঘুদের স্বার্থরক্ষা: ধর্মীয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় এই অধিকারগুলি বিশেষ সুরক্ষা প্রদান করে।
  • সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা: অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, পদবি বিলোপ ও শোষণের বিরুদ্ধে অধিকারের মাধ্যমে সমাজে সাম্য ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।

Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...