বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধের ওপর একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার উপযোগী কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর নিচে দেওয়া হলো। এগুলো তোমার প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে।
### **জ্ঞানমূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান - ১/২)**
**প্রশ্ন ১: 'বিড়াল' প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্রের কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?** **উত্তর:** 'বিড়াল' প্রবন্ধটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক গ্রন্থ **'কমলাকান্তের দপ্তর'** থেকে নেওয়া হয়েছে।
**প্রশ্ন ২: কমলাকান্ত যখন ঝিমোচ্ছিলেন, তখন তিনি কীসের স্বপ্ন দেখছিলেন?** **উত্তর:** কমলাকান্ত ঝিমোতে ঝিমোতে ওয়াটারলুর যুদ্ধের স্বপ্ন দেখছিলেন এবং ভাবছিলেন তিনি নিজেই যেন ডিউক অব ওয়েলিংটন হয়ে ফরাসিদের হারিয়ে দিচ্ছেন।
**প্রশ্ন ৩: মার্জার (বিড়াল) কমলাকান্তের জন্য রাখা কোন খাবারটি খেয়ে ফেলেছিল?** **উত্তর:** প্রসন্ন গোয়ালিনীর দেওয়া এবং কমলাকান্তের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখা **দুধটুকু** বিড়ালটি খেয়ে ফেলেছিল।
**প্রশ্ন ৪: বিড়ালটি দুধ খাওয়ার পর কী বলে ডেকে উঠেছিল?** **উত্তর:** বিড়ালটি পরম তৃপ্তিতে একটা মিউ ডাক ডেকেছিল। কমলাকান্তের মনে হয়েছিল সেই 'মিউ' ডাকের ভেতর অনেক সামাজিক ও দার্শনিক প্রশ্ন লুকিয়ে আছে।
**প্রশ্ন ৫: "আমি যদি চোর হই, তবে ধনীরা কী?"— বিড়ালের এই বক্তব্যের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?** **উত্তর:** বিড়ালের মতে, সমাজে ধনীদের অতিরিক্ত লোভ এবং কৃপণতার কারণেই দরিদ্ররা চুরি করতে বাধ্য হয়। ধনীরা যদি তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ গরিবদের দিত, তবে কেউ চোর হতো না। তাই ধনীদের অন্যায় সঞ্চয়ও এক ধরণের চুরি।
**প্রশ্ন ৬: বিড়ালের মতে, চোরের দণ্ড বিধান করার আগে বিচারকের কী করা উচিত?** **উত্তর:** বিড়ালের মতে, কোনো চোরকে সাজা দেওয়ার আগে বিচারকের উচিত নিজে তিন দিন উপবাস (না খেয়ে) থাকা। তাহলে বিচারক বুঝতে পারবেন ক্ষুধার জ্বালা কতখানি এবং ক্ষুধার্তের চুরি করা কতটা বাধ্যবাধকতা।
**প্রশ্ন ৭: "সোনার রূপার থালায় যাহারা ভাত খায়, তাহারা এ ক্ষুধা বোঝে না।"— এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে?** **উত্তর:** এখানে সমাজের উচ্চবিত্ত, প্রভাবশালী এবং ধনী শ্রেণীর মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট ও অভাব অনুভব করতে পারে না।
**প্রশ্ন ৮: বিড়ালের যুক্তি শুনে কমলাকান্তের কী মনে হয়েছিল?** **উত্তর:** বিড়ালের অত্যন্ত যৌক্তিক ও সামাজিক সাম্যবাদী কথা শুনে কমলাকান্তের মনে হয়েছিল যে বিড়ালটি একজন মস্ত বড় সমাজবিজ্ঞানী বা দার্শনিক এবং তার কথাগুলো উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়।
### **অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর (মান - ২/৩)**
**প্রশ্ন ৯: "কেহ মরে বিল ছেঁচে, কেহ খায় কৈ।"— প্রবাদটি বিড়াল কীভাবে তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে?** **উত্তর:** সমাজে দেখা যায় একজন কঠোর পরিশ্রম করে সম্পদ উৎপাদন করে, আর অন্যজন বিনা পরিশ্রমে তা ভোগ করে। বিড়ালের মতে, মানুষ দুধ দোয়ায় (কষ্ট করে) ঠিকই, কিন্তু সেই দুধ তো মানুষের নয়, গরুর। মানুষ যদি গরুর দুধ জোর করে খেতে পারে, তবে বিড়াল মানুষের রাখা দুধ খেলে তা অপরাধ হতে পারে না।
**প্রশ্ন ১০: 'বিড়াল' প্রবন্ধের মূল শিক্ষা বা অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কী?** **উত্তর:** এই প্রবন্ধের মূল উদ্দেশ্য হলো হাস্যরস ও ব্যঙ্গের আড়ালে সমাজের তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্যকে তুলে ধরা। বঙ্কিমচন্দ্র বিড়ালের মুখের বক্তব্যের মাধ্যমে সাম্যবাদের বাণী প্রচার করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে, সমাজে ধনীর নিষ্ঠুরতা ও শোষণের ফলেই দরিদ্র শ্রেণী অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। সমাজ সংস্কার করতে হলে আগে দরিদ্রের ক্ষুধার অন্ন জোগাতে হবে।
**পড়াশোনার জন্য পরামর্শ:** এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ভালোভাবে তৈরি রাখলে একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় 'বিড়াল' প্রবন্ধ থেকে আসা ছোট প্রশ্ন ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর সহজে দিতে পারবে। প্রয়োজনে কোনো নির্দিষ্ট লাইনের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে জিজ্ঞেস করতে পারো!
Comments
Post a Comment