Skip to main content

ম্যাসিডনীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিবরণ দাও । পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইতিহাস প্রথম সেমিস্টার, মাইনর।

      আমরা জানি যে,খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে রাজা দ্বিতীয় ফিলিপ এবং তাঁর যোগ্য পুত্র মহামতি অ্যালেকজান্ডারের হাত ধরে ম্যাসিডন একটি শক্তিশালী সামরিক সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।তবে অ্যালেকজান্ডারের মধ্যপ্রাচ্য, মিসর ও ভারত অভিযানের ফলে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের (গ্রিক) সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। প্রাচীন ইতিহাসে এই মিশ্র সংস্কৃতি 'হেলেশীয় সংস্কৃতি' নামে পরিচিত। আর এই আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা ম্যাসিডনীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিকগুলি নিম্ন সূত্রাকারে আলোচনা করতে পারি।

     ১. কৃষির উন্নতি।। ম্যাসিডনীয় সাম্রাজ্য বিস্তারের ফলে কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটে। আর সেখানে মিশর ও মেসোপটেমিয়ার ঐতিহ্যবাহী সেচব্যবস্থার সাথে গ্রিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানো হয়। নীলনদ ও ট্রাইগ্রিস-ইউফ্রেটিস উপত্যকায় উন্নত জলসেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ফলন বাড়ানো হয়। সেই সাথে শুরু হয়-

        নতুন শস্যের প্রচলনঃ সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের সুবিধার ফলে এক অঞ্চলের শস্য অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। ফলমূল, জলপাই, আঙুর এবং বিভিন্ন উন্নত জাতের গম ও বার্লির ব্যাপক চাষ শুরু হয়।আর রাষ্ট্রীয় তদারকি হিসেবে মিশরের টলেমীয় রাজারা এবং এশিয়ার সেলিউসিড শাসকরা কৃষিজমি জরিপ করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে রাজস্ব নির্ধারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেন।

    ২. শিল্পের অগ্রগতি।।হেলেশীয় যুগে সাম্রাজ্যজুড়ে শিল্পোৎপাদনে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখা যায়।যেখানে বিলাসব্যবস্থাপণ্য ও ধাতশিল্প রূপে সোনা, রূপা ও ব্রোঞ্জের অলঙ্কার, উন্নতমানের অস্ত্রশস্ত্র এবং ধাতব পাত্র তৈরির কারখানা গড়ে ওঠে।এরই পাশাপাশি-

      বস্ত্র ও মৃৎশিল্প হিসেবে আলেকজান্দ্রিয়া ও পেরগামামে বস্ত্রশিল্প, রেশম রঞ্জন এবং উন্নতমানের নীল ও বেগুনী রঙের কাপড়ের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। পাশাপাশি গ্রিক শৈলীতে অলঙ্কৃত 'টেরাকোটা' বা পোড়ামাটির পাত্র এবং কাঁচের পাত্র তৈরির শিল্প চরম উৎকর্ষ লাভ করে।আবার-

       মিশরে নীল নদের ধারে উৎপাদিত পাপাইরাস গাছ থেকে কাগজ তৈরির শিল্প বিশ্বজোড়া খ্যাতি লাভ করে, যা তৎকালীন গ্রন্থ প্রকাশের মূল ভিত্তি ছিল।

    ৩. বাণিজ্যের অগ্রগতি।। ম্যাসিডনীয় সাম্রাজ্য গঠনের ফলে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপিত হয়।যেখানে বাণিজ্যিক পথ ছিল ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগরের জলপথের পাশাপাশি স্থলপথে 'সিল্ক রোড'-এর মাধ্যমে চীন, ভারত, পারস্য ও গ্রিসের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারিত হয়।তবে- অ্যালেকজান্ডার সাম্রাজ্যজুড়ে অভিন্ন গ্রিক মুদ্রা  চালু করেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেন অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়।কিন্তু -

    প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র রূপে মিশরের অ্যালেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়ার অ্যান্টিওক এবং এশিয়া মাইনরের পেরগামাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়। ভারত থেকে মশলা, হাতির দাঁত, ময়ূর এবং পারস্য থেকে সুগন্ধি ও কার্পেট আমদানি করা হতো।

    ৪. নগর জীবনের প্রসার।। অ্যালেকজান্ডার এবং তাঁর পরবর্তী শাসকরা সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব ও গ্রিক সংস্কৃতি ছড়ানোর জন্য অসংখ্য নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করেন।যেখানে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে অ্যালেকজান্ডার স্বয়ং ৭০টিরও বেশি নগর নির্মাণ করেন, যার মধ্যে মিশরের 'অ্যালেকজান্দ্রিয়া' ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ। তবে এরই পাশাপাশি-

      প্রতিটি নতুন নগরে গ্রিক স্থাপত্যরীতি মেনে চওড়া রাস্তা, অ্যাগোরা (খোলা বাজার), থিয়েটার, জিমনেসিয়াম এবং অ্যাগোরা বা পাবলিক স্নানাগার তৈরি করা হয়।আর সেখানে নগরগুলিতে গ্রিক, পারসিক, মিশরীয়, ইহুদি সহ বিভিন্ন জাতির মানুষ একসাথে বসবাস করত, যা এক আধুনিক নাগরিক জীবনযাত্রার জন্ম দেয়।

    ৫. ধর্মীয় জীবন।। ম্যাসিডনীয় যুগে ধর্মীয় ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব 'সমন্বয়বাদ'  গড়ে ওঠে।যেখানে  গ্রিক দেব-দেবী এবং প্রাচ্যের দেব-দেবীদের একত্রিত করে পূজা শুরু হয়। উদাহরণস্বরূপ, গ্রিক দেবতা 'জিউস' এবং মিশরীয় দেবতা 'আমোন'-কে একত্রিত করে 'জিউস-আমোন' রূপে পূজা করা হতো। তবে এরই পাশাপাশি-

      স্যাপারিস উপাসনা হিসেবে টলেমীয় শাসকরা মিশরে 'সেরাপিস' নামে এক নতুন দেবতার উপাসনা চালু করেন, যা গ্রিক ও মিশরীয় উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছিল।যেখানে রাজাকে দেবতা জ্ঞানে পূজা করা হতো।অ্যালেকজান্ডার নিজেকে মিশরে আমোনের পুত্র হিসেবে ঘোষণা করেন। পরবর্তী হেলেশীয় শাসকরাও নিজেদের জীবিত দেবতা হিসেবে পূজিত করার প্রথা চালু করেন।

     ৬. সাহিত্যে অগ্রগতি।। এই যুগে সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও শৈলীতে নতুন পরিবর্তন আসে।আর সেখানে আঞ্চলিক গ্রিক উপভাষার পরিবর্তে 'কয়নে' নামক এক সহজ ও সর্বজনীন গ্রিক ভাষা সৃষ্টি হয়, যা তৎকালীন পৃথিবীর প্রধান কূটনৈতিক ও সাহিত্যিক ভাষায় পরিণত হয়।শুধু তাই নয়, সেখানে-

         কাব্য ও নাটক হিসেবে থিওক্রিটাস বা রাখালিয়া কবিতার সূচনা করেন। কলিমাকাস এবং অ্যাপোলোনিয়াস রোডস মহাকাব্যিক সাহিত্য রচনা করেন। নাট্যক্ষেত্রে মেনান্ডারের হাত ধরে 'নিউ কমেডি'-র উত্থান ঘটে, যেখানে প্রাত্যহিক পারিবারিক জীবনের কাহিনী ফুটে উঠত।এরই পাশিপাশি-   তাঁর বিশ্বখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থে রোম ও ম্যাসিডনীয় সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনের বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।

     ৭. শিল্পকলার ক্ষেত্রে অগ্রগতি।। ম্যাসিডনীয় ও হেলেশীয় শিল্পকলা তার বাস্তবতা ও বিশালতার জন্য বিখ্যাত।যেখানে  ধ্রুপদী গ্রিক শান্ত ও ভাবলেশহীন মূর্তির পরিবর্তে এই যুগের ভাস্কর্যে মানুষের আবেগ, বেদনা ও মানসিক অনুভূতির নিখুঁত প্রকাশ ঘটে। 'লাওকুন ও তাঁর পুত্রগণ' (Laocoön and His Sons) এবং 'উড়ন্ত ডানাওয়ালা বিজয়ের দেবী' (Winged Victory of Samothrace) এর উজ্জ্বল উদাহরণ।

 * স্থাপত্য: রোডস দ্বীপের বিখ্যাত 'কোলোসাস' (Colossus of Rhodes - সূর্যের প্রকাণ্ড মূর্তি) এবং অ্যালেকজান্দ্রিয়ার আলোকস্তম্ভ (Lighthouse of Alexandria) প্রাচীন বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে গণিত হতো।

৮. বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে উন্নতি

ম্যাসিডনীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় ছিল বিজ্ঞান ও গণিতের বিকাশ, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল 'অ্যালেকজান্দ্রিয়া মিউজিয়াম ও লাইব্রেরি'।

 * গণিত ও জ্যামিতি: জ্যামিতির জনক ইউক্লিড তাঁর 'Elements' গ্রন্থ রচনা করেন। আর্কিমিডিস বলবিজ্ঞান, লিভারের নিয়ম ও প্লবতার সূত্র আবিষ্কার করেন।

 * জ্যোতির্বিদ্যা ও ভূগোল: এরাটোস্থেনিস গাণিতিক উপায়ে পৃথিবীর পরিধি প্রায় নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন। অ্যারিস্টার্কাস সর্বপ্রথম দাবি করেন যে পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে (সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব)।

 * চিকিৎসাবিজ্ঞান: হেরোফিলাস এবং এরিসিসট্রেটাস মানব ব্যবচ্ছেদ (Dissection) করে স্নায়ুতন্ত্র ও রক্তসঞ্চালন পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন।

       পরিশেষে বলতে পারি যে, ম্যাসিডনীয় সাম্রাজ্য রাজনৈতিকভাবে বেশিদিন স্থায়ী না হলেও, এর সাংস্কৃতিক প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের জ্ঞান, দর্শন ও শিল্পের এই মেলবন্ধন প্রাচীন বিশ্বকে এক নতুন সভ্যতার দিশা দেখিয়েছিল। এই হেলেশীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যই পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের জ্ঞানচর্চা এবং ইউরোপীয় রেনেসাঁসের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...