Skip to main content

বৈশেষিক দর্শন।। বৈশেষিক দর্শন মতে সংযোগ ও সমবায়ের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো।

বৈশেষিক দর্শন।। বৈশেষিক দর্শন মতে সংযোগ ও সমবায়ের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম সেমিস্টার দর্শন মাইনর। মান ৫।

      বৈশেষিক দর্শনে সম্বন্ধ মূলত দুই প্রকার-সংযোগ এবং সমবায়। এই দুই সম্বন্ধের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যগুলি হলো-নিম্নরূপ-

     ১) সম্বন্ধের প্রকৃতি অনুসারে সংযোগ একটি অনিত্য ও ক্ষণস্থায়ী সম্বন্ধ।কিন্তু -

        সমবায় একটি নিত্য ও শ্বাশত সম্বন্ধ। 

    ২) অযুতসিদ্ধতা হিসেবে সংযোগ দুটি যুতসিদ্ধ (যা একে অপরকে ছাড়া আলাদাভাবে অবস্থান করতে পারে) বস্তুর মধ্যে ঘটে। যেমন: টেবিলে রাখা বই।কিন্তু-

    সমবায়ের ক্ষেত্রে দুটি অযুতসিদ্ধ (যাদের অন্তত একটিকে অন্যটি ছাড়া পৃথকভাবে পাওয়া যায় না) বস্তুর মধ্যে ঘটে। যেমন: গুণ ও গুণী। 

   ৩) বিভাগ বা বিচ্ছেদ অনুসারে সংযোগের বিনাশ ঘটে বিচ্ছেদের (বিভাগের) মাধ্যমে।কিন্তু-

      সমবায় সম্বন্ধীয় বস্তুদ্বয়ের বিনাশ কেবল বস্তুর ধ্বংসের মাধ্যমেই সম্ভব, বিচ্ছেদের দ্বারা নয়। 

   ৪) পদার্থের স্থিতি অনুসারে সংযোগ নিজে একটি গুণ (বৈশেষিক ২৪টি গুণের অন্তর্ভুক্ত)।কিন্তু সমবায় গুণ নয়, এটি একটি স্বতন্ত্র পদার্থ (বৈশেষিকের ৭টি পদার্থের একটি)।

    ৫) উদাহরণের ক্ষেত্র সংযোগে দেখি-টেবিল ও বইয়ের সম্বন্ধ, দুটি হাতের তালি দেওয়ার সম্বন্ধ। কিন্তু -

    সমবায়ের ক্ষেত্রে তন্তু ও বস্ত্র (অবয়ব-অবয়বী), রূপ ও পুষ্প (গুণ-গুণী), জাতি ও ব্যক্তি। 

     ১. যুতসিদ্ধ বনাম অযুতসিদ্ধঃসংযোগ ঘটে দুটি পৃথক ও স্বাধীন বস্তুর আকস্মিক মেলবন্ধনে। অন্যদিকে-

       সমবায় ঘটে এমন দুটি বস্তুর মধ্যে যারা জন্ম থেকেই অভিন্ন ভাবে যুক্ত (যেমন মাটির ঘটে মাটির উপাদান বা বস্ত্রের মধ্যে সুতো)।

     ২. অনিত্যতা ও নিত্যতাঃ সংযোগ যেকোনো সময় তৈরি ও ভাঙা যেতে পারে (যেমন-হাত দুটি জোড়া ও আলাদা করা)। কিন্তু-

       সমবায় সম্বন্ধকে জোর করে আলাদা করা যায় না; কারণ একটিকে বিনাশ না করে অন্যটিকে আলাদা করা অসম্ভব।

    ৩. গুণ ও স্বতন্ত্র পদার্থঃবৈশেষিক মতে সংযোগ হলো একটি গুণ যা দুটি দ্রব্যকে যুক্ত করে। কিন্তু-

        সমবায় কোনো গুণ নয়, বরং এটি একটি অতীন্দ্রিয় ও এক (একক) স্বতন্ত্র অনিত্য পদার্থের মর্যাদা পায়।


বৈশেষিক দর্শন মতে সমবায়ের লক্ষণ দাও। সমবায় সম্বন্ধে পাঁচটি সম্বন্ধী যুগলের নাম লেখো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্র বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন মাইনর প্রথম সেমিস্টার। মান পাঁচ।

       বৈশেষিক দর্শন মতে সমবায় হলো সাতটি পদার্থের (দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায়, অভাব) অন্যতম একটি স্বতন্ত্র অনিত্য সম্বন্ধ বা পদার্থ। আর সেখানে 

সমবায়ের লক্ষণ (Definition of Samavaya)

     মহর্ষি কণাদ ও পরবর্তীতে অন্নংভট্ট প্রমুখ নৈয়ায়িক-বৈশেষিক দার্শনিকগণের মতে সমবায়ের লক্ষণ হলো-

"অযুতসিদ্ধানাম্ আধার্যাধারভূতানাঁ যঃ সম্বন্ধঃ ইহপ্রত্যয়হেতুঃ স সমবায়ঃ।"অর্থাৎ-

        যে সম্বন্ধের দ্বারা দুটি অযুতসিদ্ধ (যাদের অন্তত একটিকে অপরটি ছাড়া পৃথকভাবে পাওয়া যায় না বা পাওয়া অসম্ভব) বস্তুর মধ্যে একটি অপরটির আধার (আশ্রয়) এবং অন্যটি আধেয় (আশ্রিত) হিসেবে অবস্থান করে, এবং যার ফলে "ইহ" (অর্থাৎ "এখানে এটি আছে", যেমন-'বস্ত্রে সুতো আছে' বা 'ফুলে রূপ আছে') এইপ্রকার বিশেষ প্রতীতি বা জ্ঞানের সৃষ্টি হয়, তাকে সমবায় সম্বন্ধ বলে।আসলে- সমবায় একটি নিত্য (অবিনাশী), এক (একক) এবং অতীন্দ্রিয় সম্বন্ধ।

   •সমবায় সম্বন্ধীয় পাঁচটি সম্বন্ধী যুগল হলো-বৈশেষিক দর্শনে মূলত নিম্নলিখিত পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্রে অযুতসিদ্ধ বস্তুর মধ্যে সমবায় সম্বন্ধ প্রত্যক্ষ করা যায়। সেই সমবায় সম্বন্ধগুলি হলো-

     ১) অবয়ব ও অবয়বীঃ  তন্তু (সুতো) এবং বস্ত্র। সুতো ছাড়া বস্ত্রের কোনো পৃথক অস্তিত্ব থাকতে পারে না। |

    ২) গুণ ও গুণীঃ রূপ (লাল রঙ) এবং পুষ্প (ফুল)। রূপ গুণটি ফুল রূপ দ্রব্যে সমবায় সম্বন্ধে থাকে। 

    ৩) ক্রিয়া ও ক্রিয়াবানঃ গমন (গতি বা ক্রিয়া) এবং বস্তু/ব্যক্তি। গতি ক্রিয়াটি গতিশীল বস্তুতে সমবায় সম্বন্ধে থাকে। |

    ৪) সামান্য ও ব্যক্তিঃ মনুষ্যত্ব (জাতি/সামান্য) এবং মানুষ (ব্যক্তি)। মনুষ্যত্ব জাতিটি প্রতিটি মানুষের মধ্যে সমবায় সম্বন্ধে বিদ্যমান। 

    ৫) বিশেষ ও নিত্যদ্রব্যঃ বিশেষ (অন্ত্যবিশেষ) এবং পরমাণু। পরমাণুর মতো নিত্যদ্রব্যে তার নিজস্ব 'বিশেষ' গুণটি সমবায় সম্বন্ধে অবস্থান করে। 


বৈশেষিক দর্শন মতে জাতি বাধকগুলি কি কি আলোচনা করো।পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। দর্শন মাইনর প্রথম সেমিস্টার। মান ৫।

      বৈশেষিক দর্শনে বহু ব্যক্তির মধ্যে যে অনুগত সাধারণ ধর্ম বর্তমান থাকে, তাকে সামান্য বা জাতি  বলা হয় (যেমন—সব মানুষের মধ্যে 'মনুষ্যত্ব' জাতি)। তবে সাধারণ কোনো ধর্ম দেখলেই তাকে জাতি বলা যায় না। কোনো ধর্মকে ‘জাতি’ বা ‘সামান্য’ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধক বা বাধা উপস্থিত হয়, আচার্য উদয়নাচার্য তাঁর ‘কিরণাবলী’ গ্রন্থে সেগুলিকে জাতিবাধক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।আসলে বৈশেষিক মতে জাতিবাধক মূলত ছয়টি। আর সেই জাতির বাধক গুলি হলো-

    ১. ব্যক্তির অভেদঃ জাতির লক্ষণ হলো এটি একাধিক ব্যক্তিতে সমবায় সম্বন্ধে আশ্রিত থাকবে। কিন্তু কোনো ধর্মের আশ্রয় যদি একাধিক না হয়ে মাত্র একটিই হয়, তবে সেই ধর্ম জাতি হতে পারে না।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়-

      'আকাশত্ব' বা 'কালত্ব' জাতি নয়; কারণ আকাশ বা কাল বৈশেষিক মতে একটিই, একাধিক নয়।

    ২. তুল্যত্বঃ যদি দুটি ভিন্ন ধর্ম বা শব্দের ব্যাপ্তি বা আশ্রয় সম্পূর্ণ সমান বা একই হয় (অর্থাৎ তুল্য হয়), তবে সে দুটিকে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে স্বীকার করা যায় না। সেখানে কেবল একটিই জাতি হবে।উদাহরণ বলা যায়-

       'ঘটত্ব' এবং 'কলসত্ব'—উভয়েই একই বস্তুকে নির্দেশ করে। তাই এরা দুটি পৃথক জাতি নয়, মূলত একই জাতির দুটি নাম।

    ৩. সঙ্কর বা সংঙ্কুর্যঃ যখন দুটি ধর্ম বা সামান্য এমনভাবে থাকে যে—তারা কোথাও একত্রে থাকে, আবার কোথাও একজন থাকে কিন্তু অন্যজন থাকে না, তখন তাদের মধ্যে 'সঙ্কর' দোষ ঘটে এবং তারা জাতি বলে গণ্য হয় না।উদাহরণ হিসেবে বলা যায়-

      'ভূতত্ব' এবং 'মূর্তত্ব'। পৃথিবী, জল, তেজ ও বায়ুতে ভূতত্ব ও মূর্তত্ব দুটোই থাকে। কিন্তু মন-এ 'মূর্তত্ব' আছে কিন্তু 'ভূতত্ব' নেই; আবার আকাশে 'ভূতত্ব' আছে কিন্তু 'মূর্তত্ব' নেই। ফলে এই পারস্পরিক আংশিক ব্যাপ্তির জন্য ভূতত্ব বা মূর্তত্বকে মূল জাতি বলা যায় না।

     ৪. অনবস্থাঃ ন্যায্য নিয়ম অনুযায়ী জাতি কেবল দ্রব্য, গুণ ও কর্মে থাকে। কোনো জাতির মধ্যে অন্য জাতি থাকতে পারে না (অর্থাৎ "জাতিতে জাতি থাকে না")। যদি 'ঘটত্ব' জাতির ওপর আবার 'জাতিত্ব' নামক নতুন জাতি স্বীকার করা হয়, তবে তার ওপর আবার অন্য জাতি স্বীকার করতে হবে—যার ফলে অনবস্থা দোষ (Infinite Regress) দেখা দেবে।

    ৫. রূপহানিঃ কোনো বস্তুর স্বকীয় বা মৌলিক স্বরূপকে নষ্ট করে যদি কোনো ধর্ম স্বীকার করা হয়, তবে সেই ধর্মটি জাতিবাধক হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়-

       নিত্যদ্রব্য পরমাণুগুলির মধ্যে যে পার্থক্যের হেতু 'বিশেষ' (Vishesa) পদার্থ বিদ্যমান, তাতে যদি 'বিশেষত্ব' নামে জাতি স্বীকার করা হয়, তবে 'বিশেষ'-এর নিজস্ব ব্যবর্তক (পৃথক করার) ক্ষমতা বা রূপ নষ্ট হয়ে যায়। তাই 'বিশেষত্ব' জাতি নয়।

     ৬. অসম্বন্ধঃ বৈশেষিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতি সর্বদা ব্যক্তিতে সমবায় সম্বন্ধে থাকে। কিন্তু যে পদার্থের ক্ষেত্রে সমবায় সম্বন্ধ অসম্ভব, সেখানে অনুগত ধর্ম থাকলেও তাকে জাতি বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়-

     'অভাব' ও 'সমবায়'—এই দুই পদার্থের মধ্যে সমবায় সম্বন্ধে অন্য কিছু থাকতে পারে না। তাই 'অভাবত্ব' বা 'সমবায়ত্ব' অনুগত ধর্ম হলেও তারা জাতি নয়।তবে-

        এই ছয়টি বাধক এড়িয়ে যে ধর্ম নিত্য এবং একাধিক বস্তুতে সমবায় সম্বন্ধে অবস্থান করে, বৈশেষিক দর্শনে কেবল তাকেই যথার্থ 'জাতি' বা 'সামান্য' বলে গণ্য করা হয়।

ঠিক এরূপ অসংখ্য বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ব্যাখ্যা সাজেশন এবং টিউটোরিয়াল ক্লাসের ভিডিও পেতে ভিজিট করুন আমাদের SHESHER KOBITA SUNDARBAN Youtube channel 🙏 Samaresh Sir Hingalganj North 24 Parganas.




Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...