Skip to main content

রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর দ্বিতীয় সেমিস্টার সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর (Pol. Sc. Sem II - NEP - MINOR)

রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় সেমিস্টার মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর।। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (WBSU) দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাইনর (Pol. Sc. Sem II - NEP - MINOR) সিলেবাস।

ইউনিট১ (Unit 1)

প্রশ্ন ১: ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় উল্লেখিত ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুটি কততম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত করা হয়?

উত্তর: ১৯৭৬ সালের ৪২তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘সমাজতান্ত্রিক’ (Socialist) এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ (Secular) শব্দ দুটি যুক্ত করা হয়।

প্রশ্ন ২: ভারতীয় সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতি বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের ৪র্থ অংশে (Articles 36-51) বর্ণিত কিছু নীতি বা নির্দেশমালা হলো নির্দেশমূলক নীতি, যা রাষ্ট্র পরিচালনায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

প্রশ্ন ৩: ভারতীয় নাগরিকদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক কর্তব্য উল্লেখ করুন।

 উত্তর: ১. সংবিধান মেনে চলা এবং তার আদর্শ, প্রতিষ্ঠানসমূহ, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।

২. ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা করা।

প্রশ্ন ৪: কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌথ তালিকা (Concurrent List) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: যে তালিকায় উল্লেখিত বিষয়গুলির ওপর কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারই আইন প্রণয়ন করতে পারে, তাকে যৌথ তালিকা বলে (যেমন: শিক্ষা, বন)। তবে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে কেন্দ্রীয় আইন প্রাধান্য পায়।

প্রশ্ন ৫: ভারতীয় সংবিধানের 'প্রস্তাবনা'কে সংবিধানের 'আত্মা' বা 'চাবিকাঠি' বলা হয় কেন?  

​উত্তর: প্রস্তাবনায় ভারতীয় সংবিধানের মূল আদর্শ, লক্ষ্য, দর্শন এবং শাসনব্যবস্থার প্রকৃতি সংক্ষেপে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সংবিধানের কোনো অংশের অর্থ অস্পষ্ট হলে প্রস্তাবনার সাহায্য নেওয়া হয়, তাই একে সংবিধানের আত্মা বলা হয়।

​প্রশ্ন ৬: সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারাকে ড. বি. আর. আম্বেদকর সংবিধানের 'হৃদয় ও আত্মা' বলেছেন কেন?  

​উত্তর: ৩২ নম্বর ধারায় 'সাংবিধানিক প্রতিকারের অধিকার' (Right to Constitutional Remedies) দেওয়া হয়েছে। নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে এই ধারার বলেই সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টে বিচার চাওয়া যায়।

​প্রশ্ন ৭: নাগরিকত্ব অর্জনের দুটি প্রধান উপায় বা পদ্ধতি কী কী?  

​উত্তর: ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন (১৯৫৫) অনুযায়ী নাগরিকত্ব অর্জনের প্রধান দুটি উপায় হলো:

১. জন্মসূত্রে (By Birth) এবং

২. দেশীয়করণ বা নিবন্ধীকরণের মাধ্যমে (By Naturalization/Registration)।

​প্রশ্ন ৮: রাষ্ট্রীয় নির্দেশমূলক নীতি এবং মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য লিখুন।  

​উত্তর: মৌলিক অধিকারসমূহ আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য (Judiciable), অর্থাৎ ক্ষুণ্ণ হলে আদালতে মামলা করা যায়। কিন্তু নির্দেশমূলক নীতিসমূহ আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য নয় (Non-judiciable)।

​প্রশ্ন ৯: একক তালিকা বা কেন্দ্র তালিকা (Union List) বলতে কী বোঝায়?  

​উত্তর: ভারতীয় সংবিধানের ৭ম তফসিলে উল্লেখিত যে তালিকায় জাতীয় স্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি (যেমন: প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র নীতি, রেল ইত্যাদি) রয়েছে এবং যার ওপর কেবল কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট আইন তৈরি করতে পারে, তাকে কেন্দ্র তালিকা বলে।

​প্রশ্ন ১০: ভারতীয় সংবিধানে 'অনুগৃহীত এলাকা' বা গচ্ছিত ক্ষমতা/অবশিষ্ট ক্ষমতা (Residuary Powers) কার হাতে ন্যস্ত?  

​উত্তর: সংবিধানের ২৪৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কেন্দ্র, রাজ্য ও যৌথ—এই তিন তালিকার বাইরে থাকা সমস্ত অবশিষ্ট বিষয়ে (যেমন: সাইবার আইন) আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রশ্ন ১১: ভারতের প্রস্তাবনায় উল্লেখিত ‘গণতান্ত্রিক’ ও ‘প্রজাতন্ত্র’ শব্দের অর্থ কী?  

​উত্তর: গণতান্ত্রিক: ভারতের শাসনক্ষমতা জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত।

প্রজাতন্ত্র: ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি) কোনো বংশানুক্রমিক রাজা নন, তিনি জনগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত।

​প্রশ্ন ১২: কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনিক সম্পর্কের একটি প্রধান মাধ্যম লিখুন।  

​উত্তর: নিখিল ভারত সেবা (All India Services - যেমন IAS, IPS) গঠন ও পরিচালনা কেন্দ্র-রাজ্য প্রশাসনিক সম্পর্কের একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম, যা কেন্দ্রের অধীনে থেকেও রাজ্যে দায়িত্ব পালন করে।

​প্রশ্ন ১৩: মৌলিক অধিকার ও মৌলিক কর্তব্যের একটি প্রধান পার্থক্য কী?  

উত্তর: মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে নাগরিকরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তা বলবৎ করতে পারেন, কিন্তু মৌলিক কর্তব্য না মানলে তা বলবৎ করার জন্য সরাসরি আইনি শাস্তি বা আদালতের আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

ইউনিট২ (Unit 2)

প্রশ্ন ১: ভারতের রাষ্ট্রপতির প্রধান দুটি জরুরি ক্ষমতা কী কী?

 উত্তর:১. জাতীয় জরুরি অবস্থা (৩৫২ নং ধারা)।

 ২. রাজ্যে সাংবিধানিক অচলাবস্থাজনিত জরুরি অবস্থা বা রাষ্ট্রপতি শাসন (৩৫৬ নং ধারা)।

প্রশ্ন ২: 'অর্ডিন্যান্স' বা অধ্যাদেশ কী?

উত্তর: সংসদ বা রাজ্য আইনসভার অধিবেশন বন্ধ থাকাকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে যথাক্রমে রাষ্ট্রপতি (১২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী) বা রাজ্যপাল (২১৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী) যে সাময়িক আইন জারি করেন, তাকে অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ বলে।

প্রশ্ন ৩: লোকসভার স্পিকারের (অধ্যক্ষ) দুটি প্রধান কাজ উল্লেখ করুন।

উত্তর: ১. লোকসভার সভা পরিচালনা করা এবং সভার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা।

২. কোনো বিল 'অর্থবিল' (Money Bill) কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া।

প্রশ্ন ৪: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের 'মূল এলাকা' (Original Jurisdiction) বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: যে সমস্ত মামলা অন্য কোনো নিম্ন আদালতে না গিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা যায় (যেমন: কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যকার বিরোধ বা মৌলিক অধিকার রক্ষা), সেগুলিকে সুপ্রিম কোর্টের মূল এলাকা বলা হয়।

উত্তর: আইনসভা ও শাসন বিভাগ নিজ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে বিচার বিভাগ যখন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বা জনস্বার্থ মামলার মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাকে বিচার বিভাগীয় সক্রিয়তা বলে।

প্রশ্ন ৫: লোকসভার জিরো আওয়ার (Zero Hour) কাকে বলে?

উত্তর: পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বের (Question Hour) ঠিক পরপরই দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া নির্দিষ্ট সময়কে 'জিরো আওয়ার' বলা হয়। এই সময়ে সাংসদরা পূর্ববিজ্ঞপ্তি ছাড়াই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলতে পারেন।

​প্রশ্ন ৬: ভারতের রাষ্ট্রপতি কিভাবে নির্বাচিত হন?  

​উত্তর: ভারতের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন না। তিনি সংসদ (লোকসভা ও রাজ্যসভা) এবং রাজ্যের বিধানসভাগুলির নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি 'নির্বাচক সংস্থা' (Electoral College)-র মাধ্যমে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নিয়মে গোপন ব্যালটে নির্বাচিত হন।

​প্রশ্ন ৭: ভারতের উপরাষ্ট্রপতির দুটি প্রধান কাজ উল্লেখ করুন।  

​উত্তর:১. রাজ্যসভার পদাধিকারবলে সভাপতি (Ex-officio Chairman) হিসেবে সভা পরিচালনা করা।

২. রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিত থাকলে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা।

​প্রশ্ন ৮: মন্ত্রিসভার 'যৌথ দায়িত্বশীলতা' (Collective Responsibility) বলতে কী বোঝায়?  

​উত্তর: সংবিধানের ৭৫(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা তাদের সমস্ত কাজের জন্য যৌথভাবে লোকসভার কাছে দায়ী থাকে। লোকসভায় কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহিত হলে পুরো মন্ত্রিসভাকেই পদত্যাগ করতে হয়।

​প্রশ্ন ৯: ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা কাজ লিখুন।  

​উত্তর:১. রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রিসভার মধ্যে প্রধান সংযোগ রক্ষা করা।

২. সংসদে সরকারি দলের বা জোটের প্রধান নেতা হিসেবে নীতি নির্ধারণ ও লোকসভার নেতৃত্ব দেওয়া।

​প্রশ্ন ১০: 'অর্থবিল' (Money Bill) ও 'সাধারণ বিল'-এর মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য কী?  

​উত্তর:১. অর্থবিল কেবল লোকসভায় পেশ করা যায়, কিন্তু সাধারণ বিল সংসদ বা আইনসভার যেকোনো কক্ষে পেশ করা যায়।

২. অর্থবিলের ক্ষেত্রে রাজ্যসভার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা বাতিলের ক্ষমতা নেই (কেবল ১৪ দিন আটকে রাখতে পারে)।

​প্রশ্ন ১১: রাজ্যপালকে 'স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা' (Discretionary Powers) দেওয়া হয়েছে বলতে কী বোঝায়?  

​উত্তর: সংবিধান অনুযায়ী কিছু কিছু বিষয়ে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্য মন্ত্রিসভার পরামর্শ না নিয়ে নিজের বিচার-বুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করতে পারেন, একে রাজ্যপালের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে (যেমন: কোনো বিলকে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠিয়ে দেওয়া)।

​প্রশ্ন ১২: হাইকোর্টের 'লেখ জারি' করার ক্ষমতা (Writ Jurisdiction) বলতে কী বোঝায়?  

​উত্তর: সংবিধানের ২২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অন্যান্য আইনগত সুবিধার জন্য হাইকোর্ট বন্দী প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus), পরমাদেশ (Mandamus) ইত্যাদি ৫টি বিশেষ নির্দেশ বা 'লেখ' জারি করতে পারে।

​প্রশ্ন ১৩: ভারতীয় বিচারব্যবস্থার 'একক বা সমন্বিত বিচারব্যবস্থা' (Integrated Judiciary) বলতে কী বোঝায়?  

​উত্তর: ভারতে পৃথক কোনো রাজ্যভিত্তিক সর্বোচ্চ আদালত নেই। সর্বোচ্চ স্তর 'সুপ্রিম কোর্ট'-এর অধীনে পুরো দেশের বিচারব্যবস্থা (হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতসমূহ) একটিমাত্র পিরামিড কাঠামোর মধ্যে সংযুক্ত, যাকে সমন্বিত বিচারব্যবস্থা বলে।

​প্রশ্ন ১৪: রাজ্য বিধানসভার ছাঁটাই প্রস্তাব (Cut Motion) বলতে কী বোঝায়?  

​উত্তর: রাজ্যের বাজেট বা কোনো দপ্তরের খরচের দাবি আলোচনা করার সময় বিরোধীরা মন্ত্রীরা যে অর্থ দাবি করেছেন তা কমানোর উদ্দেশ্যে যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাকে ছাঁটাই প্রস্তাব বলে।

প্রশ্ন ১৫: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের বিচারপতির যোগ্যতার একটি প্রধান শর্ত লিখুন।  

​উত্তর: বিচারপতি হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং কমপক্ষে ৫ বছর কোনো হাইকোর্টের বিচারক অথবা ১০ বছর কোনো হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

​প্রশ্ন ১৬: রাজ্যসভার গঠন সংক্ষেপে লিখুন।  

​উত্তর: রাজ্যসভা হলো ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ। এর সর্বাধিক সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন। এর মধ্যে ২৩৮ জন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হন এবং ১২ জন সদস্য সাহিত্য, বিজ্ঞান, কলা ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হন।

​প্রশ্ন ১৭: লোকসভার সভাপতি বা স্পিকার কিভাবে নির্বাচিত হন?  

​উত্তর: নতুন লোকসভা গঠিত হওয়ার পর প্রথম অধিবেশনে লোকসভার নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকেই সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটে একজনকে 'স্পিকার' বা 'অধ্যক্ষ' হিসেবে নির্বাচিত করেন।

​প্রশ্ন ১৮: মুখ্যমন্ত্রীকে কে নিয়োগ করেন এবং তাঁর কার্যকালের মেয়াদ কত?  

​উত্তর: রাজ্যের রাজ্যপাল রাজ্য বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। সাধারণত তাঁর কার্যকালের মেয়াদ ৫ বছর, তবে বিধানসভার আস্থা বজায় থাকা পর্যন্ত তিনি পদে থাকেন।

​প্রশ্ন ১৯: রাজ্যসভার বিশেষ দুটি ক্ষমতা কী কী?  

​উত্তর:

১. ২৪৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী জাতীয় স্বার্থে রাজ্য তালিকার কোনো বিষয়ে কেন্দ্রকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া।

২. ৩১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী নতুন 'নিখিল ভারত সেবা' (All India Service) সৃষ্টির প্রস্তাব গ্রহণ করা।

​প্রশ্ন ২০: 'জনস্বার্থ মামলা' (Public Interest Litigation - PIL) বলতে কী বোঝায়?  

​উত্তর: সাধারণ মানুষের সুবিধা, সামাজিক ন্যায়বিচার বা পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ছাড়াও অন্য কোনো সচেতন নাগরিক বা সংস্থা যদি বিচার চেয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে, তবে তাকে জনস্বার্থ মামলা (PIL) বলে।

​প্রশ্ন ২১: রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্কের একটি মূল দিক উল্লেখ করুন।  

​উত্তর: রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের সাংবিধানিক বা নামসর্বস্ব প্রধান, আর মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্য সরকারের বাস্তব বা প্রকৃত শাসনপ্রধান। রাজ্যপাল রাজ্য মন্ত্রিসভার ও মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করেন।

​


Comments

Popular posts from this blog

একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়।

  একটি সার্থক গীতিকাব্যের পরিচয়-সারদা মঙ্গল               গীতিকাব্য হলো এক ধরনের কবিতা, যার মধ্যে দিয়ে ব্যক্তির আবেগ, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলিকে ছন্দ ওর সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে কবিতাগুলি খুবই ছোট আকারের হয়, আর সেখানে কবির ব্যক্তিগত অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতা প্রকাশ পায়। আর এই প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি গীতি কবিতার সংকলন হলো গীতিকাব্য। ব্যঞ্জনাময় ও সংহত ।  গীতিকাব্যের বৈশিষ্ট্য  গীতিকাব্যের কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. ব্যক্তিগত অনুভূতি ও আবেগ প্রকাশ: এটি গীতিকাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এখানে কবি নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি, প্রেম, বিরহ, আনন্দ বা বিষাদের কথা তুলে ধরেন। ২. সংক্ষিপ্ততা: গীতিকাব্য সাধারণত দীর্ঘ হয় না। অল্প কয়েকটি স্তবকের মধ্যে কবি তাঁর ভাবনা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করেন। ৩. সুর ও ছন্দের প্রাধান্য: গীতিকাব্য মূলত সুর করে আবৃত্তি করার জন্য রচিত হয়। তাই এতে সুর ও ছন্দের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। ৪. আত্মগতভাব: গীতিকাব্যে বাইরের জগতের বর্ণনা না দিয়ে কবির নিজের মনের ভেতরের জগতের প্রতি মনোযোগ ...

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ।

পঞ্চম সেমিস্টার ইতিহাস মাইনর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর  ১) শিল্প বিপ্লব কবে কোথায় প্রথম ঘটেছিল?         উত্তর - প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল ইংল্যান্ডে (গ্রেট ব্রিটেন)। এটি প্রধানত অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে প্রায় ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দ-এর মধ্যে ঘটেছিল। ২) কৃষ্ণমৃত্যু কী?            • কৃষ্ণমৃত্যু (Black Death) হলো মানব ইতিহাসের এক ভয়াবহ মহামারি।এটি ছিল মূলত প্লেগ (Plague) রোগ, যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।এটি প্রধানত ১৩৪৬ থেকে ১৩৫৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া (ইউরেশিয়া) এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। ৩) কে বলেছিলেন মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড?        •এই বিখ্যাত উক্তিটি যিনি করেছিলেন তিনি হলেন প্রাচীন গ্রিসের একজন প্রখ্যাত দার্শনিক, যার নাম প্রোটাগোরাস (Protagoras)।তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল-"মানুষই সবকিছুর মানদণ্ড, যা আছে তারও, আর যা নেই তারও।” ৪) পেত্রাক কেন বিখ্যাত?         •পেত্রাক (Francesco Petrarca) ছিলেন ১৪ শতকের (১৩০৪-১৩৭৪) একজন ...

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো।

টপ্পা গান। বাংলা টপ্পা গানের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করে এই ধারায় নিধুবাবু (রামনিধি গুপ্ত)-র অবদান সংক্ষেপে আলোচনা করো। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা মাইনর প্রথম সেমিস্টার ইউনিট ৩।            আমরা জানি যে,অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষার্ধ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ ছিল বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক 'যুগসন্ধিকাল'। এই সময়ে মধ্যযুগীয় দেব-নির্ভরতা কাটিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে প্রথম নাগরিক ও মানবীয় চেতনার উন্মেষ ঘটে। এই ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফসল হলো 'টপ্পা গান'। মূলত পাঞ্জাবের উটচালকদের লোকগীতি থেকে উৎপন্ন এই ধারাটিকে বাংলা মার্গসংগীত বা উচ্চাঙ্গসংগীতের আঙিনায় জনপ্রিয় করে তোলেন রামনিধি গুপ্ত, যিনি বাঙালির কাছে আদর করে 'নিধুবাবু' নামে পরিচিত ছিলেন।     ১. টপ্পা গানের উৎপত্তি ও স্বরূপঃ  'টপ্পা' শব্দটির মূল উৎস হিন্দি 'তপনা' বা 'টপকা' শব্দ থেকে, যার অর্থ 'লাফ দেওয়া' বা 'সংক্ষিপ্ত'। রাধামোহন সেন তাঁর 'সঙ্গীততরঙ্গ' গ্রন্থে লিখেছেন- "পাঞ্জাব হইতে হইল টপ্পার জনম / দুই চরণের মধ্যে তাহার নিয়ম।"       আসলে জনশ্রুতি অনুযায়...